Tranding

06:48 PM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্মদিনে দুচার কথা

কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্মদিনে দুচার কথা

"মেয়েদের কথাই বেশি করে ভেবেছি। কারণ তাদের অসহায় অবস্থা চোখে পড়েছে বেশি... তাদের অবরোধ সমস্যাই আমাকে সবচেয়ে বেশি পীড়িত করতো। ছোটবেলা থেকে দেখছি তো সেই বন্ধনদশাগ্রস্ত অবস্থা। তাছাড়া মেয়েদের সর্ববিষয়েই তো ছিল অনধিকার।’’

কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্মদিনে দুচার কথা

কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্মদিনে দুচার কথা


কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর আজ জন্মদিন। ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি (বাংলা ২৪ পৌষ, ১৩১৫) শুক্রবার সকালে উত্তর কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত ছিলেন কমর্শিয়াল আর্টিস্ট। সেযুগের জনপ্রিয় বাংলা পত্রিকাগুলিতে ছবিও আঁকতেন।

তার রাজভক্তি ও রক্ষণশীলতার বিপরীতে অবস্থান করতেন মা সরলাসুন্দরী দেবী। সাহিত্যপাঠই ছিল তার জীবনের একমাত্র ‘পরমার্থ’। রাজনৈতিক আদর্শে ছিলেন কট্টর ব্রিটিশ-বিদ্বেষী স্বদেশি। গুপ্ত-পরিবারের আদিনিবাস ছিল হুগলি জেলার বেগমপুরে।


আশাপূর্ণা দেবীর জীবনের সঙ্গে এই অঞ্চলটির কোনও প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না। তার ছোটোবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতাতেই, ঠাকুরমা নিস্তারিনী দেবীর পাঁচ পুত্রের একান্নবর্তী সংসারে। পরে হরেন্দ্রনাথ যখন তার আপার সার্কুলার রোডের (বর্তমান আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোড) নিজস্ব বাসভবনে উঠে আসেন, আশাপূর্ণার বয়স তখন সাড়ে পাঁচ বছর।


বাল্যের ওই কয়েকটি বছর তার মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। পরবর্তীকালে সাহিত্যেও নানা ভাবে এঁকেছিলেন ‘দেহে ও মনে অসম্ভব শক্তিমতী’ তার সেই ঠাকুরমার ছবি।


তার ' প্রথম প্রতিশ্রুতি- সুবর্ণলতা- বকুলকথা’ উপন্যাসত্রয়ী বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলির অন্যতম বলে বিবেচিত হয়। তার একাধিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। 
তাঁর লেখা ছোটোগল্পের সংখ্যা প্রায় ৩০০০, উপন্যাস ২৪২, ছোটো উপন্যাস ৩৭, শিশুদের বই ৬৭ । আশাপূর্ণা সম্মানিত হয়েছেন 'জ্ঞানপীঠ পুরস্কার' সহ দেশের একাধিক সাহিত্য পুরস্কার, অসামরিক নাগরিক সম্মান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রিতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান 'রবীন্দ্র পুরস্কার'-এ সম্মানিত করেছে। ভারত সরকার তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান সাহিত্য অকাদেমী ফেলোশিপ দিয়েছে। আরও পেয়েছেন বিশ্বভারতীর শ্রেষ্ঠ সম্মান ‘দেশিকোত্তম’ । সংসার সামলেছেন, লিখেছেন অক্লান্ত কলমে, আদৃত হয়েছেন পাঠকের ভালোবাসায়, স্বীকৃতি পেয়েছেন পুরস্কারে, সম্মানিত হয়েছেন দেশে বিদেশে। 
পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে প্রদান করেন পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান রবীন্দ্র পুরস্কার। ভারত সরকার তাকে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান সাহিত্য অকাদেমি ফেলোশিপে ভূষিত করে।
আশাপূর্ণা পরিপূর্ণা হয়েছেন নিজের সৃষ্টির ও সাহিত্যের কৃতিত্বে। 


আশাপূর্ণা দেবীকে  পুরস্কার পাওয়ার আগে বাঙালি পাঠক যে তেমনভাবে চিনতেন না । তিনি একটু আড়ালেই থেকে গিয়েছিলেন। বুদ্ধিগর্বী বাঙালি পাঠক তাঁকে খুব নিমগ্ন পাঠ ও গভীর আলোচনার যোগ্যই মনে করেনি। এটা আমাদের বিচারবোধের খামতি ও অপূর্ণতা। এমন অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও বাদ যাননি। 
বিশ শতকের বাঙালি জীবন, বিশেষত সাধারণ মেয়েদের জীবনযাপন ও মনস্তত্ত্বের ছবিটিই ছিল আশাপূর্ণার  সাহিত্য ভাবনার এবং লেখার মূল বিষয়। ব্যক্তিজীবনে নিতান্তই এক আটপৌরে মা ও গৃহবধূ আশাপূর্ণার পাশ্চাত্য সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে খুব বেশি পড়াশোনা বা অবহিতি ছিল না ।


বারবার বলেছেন এই অনুভবের কথা
"মেয়েদের কথাই বেশি করে ভেবেছি। কারণ তাদের অসহায় অবস্থা চোখে পড়েছে বেশি... তাদের অবরোধ সমস্যাই আমাকে সবচেয়ে বেশি পীড়িত করতো। ছোটবেলা থেকে দেখছি তো সেই বন্ধনদশাগ্রস্ত অবস্থা। তাছাড়া মেয়েদের সর্ববিষয়েই তো ছিল অনধিকার।’’
মেয়েদের সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর সরল লেখাগুচ্ছ আলোকিত হয়েছে সত্যবতীর মতো সোচ্চার বিদ্রোহিণীর, সুবর্ণলতার মতো নিঃশঙ্ক জীবনদর্শকের এবং বকুলের মতো লেখিকার যে সদর্পে বলতে পারে ,   "আমি নতুন করে লিখবো , দিনের আলোর পৃথিবীকে জানিয়ে যাবো অন্ধকারের বোবা যন্ত্রণার ইতিহাস।"

Your Opinion

We hate spam as much as you do