ভবঘুরে নিতাই ওলাইচন্ডী তলার দাওয়ায় বসে খ্যাঁক খ্যাঁক করে খানিকটা হেসে বলে "ঠাকুর যদি শালা সত্যিই খেতো কেউকি এত আয়োজন করে দিত?" "মর্কট" বলে চটি খুলে তেড়ে যায় বৃদ্ধ পন্চানন পুরুত।
কবিতা
শঙ্কর ভট্টাচার্য
শঙ্খজিৎ দে
একটু ঘুমোতে দাও
শঙ্কর ভট্টাচার্য
আমাকে একটু ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারো।
দেখতে চাইনা আর বিষন্ন আলোয় ভরা
এক বিবর্ণ সকাল।
এখনও কাশবনে লুকোচুরি খেলে
সাদেক,ইমরান, লখাই আর দুলে
সমবেত স্বরে আওয়াজ তোলে
"ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ?"
ফড়িং এর লেজে সুতো বেঁধে
নেপাল বলে
"দ্যাখ আসমা এই দড়ি ধরে
আমি কতদূর যেতে পারি"।
উদ্বিগ্ন বালিকা বলে
" হারিয়ে যাবে না তো?"
কেউ থাকে
কেউ যায় 'না ফেরার দেশে' চিরদিনের মত
পিলের জ্বর,গুটি বসন্ত নয় সাপের কামড়ে।
একে একে সব পূজো সাঙ্গ হয়।
ঠাকুর থাকে অনেকক্ষন,
অনেকদিন, অনেকমাস ধরে মনে কিম্বা মননে।
এখনও সকাল হলে পদ্মা কিম্বা সালমারা
ঘোলা পুকুরের জল ছেঁচে গেঁড়ি,গুগলি আনে,
ভবঘুরে নিতাই
ওলাইচন্ডী তলার দাওয়ায় বসে
খ্যাঁক খ্যাঁক করে খানিকটা হেসে বলে
"ঠাকুর যদি শালা সত্যিই খেতো
কেউকি এত আয়োজন করে দিত?"
"মর্কট" বলে চটি খুলে তেড়ে যায়
বৃদ্ধ পন্চানন পুরুত।
ক্লান্তিকর এক সারা দিনের শেষে
বন্দীপুর বাজারে টিমটিম করে হ্যাঁজাক জ্বলে,
এ বছর মাঠের ধান
সব ভেসে গেছে বানের জলে।
খুদে চাষার একমাত্র ছেলেটা জন্মপঙ্গু বটে
খুঁদ সেদ্ধ ভাত আর খ্যাসাড়ির জল খায়
চেটেপুটে।
লাল সুতোর বিড়িতে শেষ টানটান দিয়ে
খুদে বলে
"জানিনা কতদিন জোয়াল টানাবে এ ছেলে?"
একটু ঘুম পাড়িয়ে দাও,আর যদি না পারো
একমাত্র সেঁকো বিষ দিও,
তারপর হব ইতিহাস ঐ উচ্ছিষ্টের দলে।
অশ্বজন্ম
শঙ্খজিৎ দে
আমাদের এই লাল-নীল-সাদা যৌবন,
বৃদ্ধ পাখিদের মতো লালা-রক্ত-বমি
ছড়িয়ে ছিটিয়ে
নিহত আগুনের পাশে সেঁকে নেওয়া আধসেদ্ধ বুক।
পৃথিবী কবে চেয়েছিল
মানুষের পাশাপাশি মানুষ
নক্ষত্রের মতো আলো ছড়াক!
নোনাজলের মতো স্বেদজ থকথকে সময়
অশ্রুর নির্জনতা হারিয়ে গেছে
এক শতাব্দী আগে।
ছাইপাশ গিলতে গিলতে
ঝিম ধরে এসেছে
আয়নার ভিতর দিয়ে জলোচ্ছ্বাসের শব্দ আসছে দেখে
কখন বুকে হাত রেখে খুঁজেছি অস্থিরতা!
অথচ টগবগে উত্তাপ পাওয়া যাচ্ছে না...
পথক্লান্তির বিভৎস্য দুর্বলতা
আমাদের এই লাল-নীল-সাদা যৌবনকে
জন্মান্ধ পাখিদের মতো
নিরুত্তর আবর্তন চিনিয়েছে
অথচ,
রেসের মাঠে আমাদের নামে নামে দৌড়োচ্ছে শরীর
আমরা হন্যে খুঁজেই চলেছি
প্রাগৈতিহাসিক আবর্তন...
We hate spam as much as you do