এক সময়ে কলেজে পড়াতেন দীপক সরকার। পরে যোগ দেন রাজনীতিতে। রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বর্ণময় চরিত্র অধ্যাপক দীপক সরকার। মেদিনীপুর শহরে অনেক কিছুই গড়ে উঠেছিল তাঁর হাত ধরে। বিদ্যাসাগর ইনস্টিটিউট অফ হেলথ, শহিদ ক্ষুদিরাম পরিকল্পনা ভবন, স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট অ্যাকাডেমি-সহ অনেক কিছুই গড়ে ওঠার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এমনকী মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ গড়ে ওঠার পিছনেও তাঁর অবদান ছিল। জেলার প্রাইমারি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
প্রয়াত CPIM নেতা প্রাক্তন অধ্যাপক দীপক সরকারের মরনোত্তর দেহদান সম্পন্ন হল
১৪ অক্টোবর ২০২৫
প্রয়াত CPIM-এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রাক্তন সম্পাদক দীপক সরকার। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতেও ছিলেন তিনি। মেদিনীপুরের এক সময়ের ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ সিপিআইএম নেতা দীপক সরকার। যাঁর ব্যক্তিত্ব আর পাঁচজনের থেকে অনেকটাই আলাদা। যাঁর সময় জ্ঞান (পাংচুয়ালিটি) রীতিমতো যে কাউকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারে। তাঁকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি, কিন্তু দলমত নির্বিশেষে তাঁর ‘লিডারশিপ’ কোয়ালিটি, ক্ষুরধার রাজনৈতিক ইমেজকে সম্মান জানান। সোমবার রাতে মেদিনীপুরে বিধাননগর এলাকায় নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ এই CPIM নেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
এক সময়ে জেলায় কান পাতলেই শোনা যেত, তাঁর নামে বাঘে গোরুতে একঘাটে জল খায়। জেলাশাসক থেকে জেলার পুলিশ সুুপার, এমনকী বিরোধী দলের তাবড় নেতারাও তাঁকে সমীহ করে চলতেন। বরাবর ধপধপে সাদা ধুতি পাঞ্জাবিতে থাকা দীপক সরকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুগ্ধ করার মতো ছিল।
CPIM-এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য তাপস সিনহা বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন দীপক সরকার। বার্ধক্যজনিত রোগের কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।’ মঙ্গলবার, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর দেহ দান করা হবে।
সোমবার রাত ১১টা নাগাদ মৃত্যু হয় দীপক সরকারের। তাঁর মৃত্যুর কথা জানতে পেরেই শোকের ছায়া নেমেছে মেদিনীপুরে। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্য দলের নেতারাও।
এক সময়ে কলেজে পড়াতেন দীপক সরকার। পরে যোগ দেন রাজনীতিতে। রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বর্ণময় চরিত্র অধ্যাপক দীপক সরকার।
মেদিনীপুর শহরে অনেক কিছুই গড়ে উঠেছিল তাঁর হাত ধরে। বিদ্যাসাগর ইনস্টিটিউট অফ হেলথ, শহিদ ক্ষুদিরাম পরিকল্পনা ভবন, স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট অ্যাকাডেমি-সহ অনেক কিছুই গড়ে ওঠার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এমনকী মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ গড়ে ওঠার পিছনেও তাঁর অবদান ছিল। জেলার প্রাইমারি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
১৯৯২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত, টানা ২৩ বছর CPIM-এর জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন হন দীপক সরকার। পরে দলের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্যও হন তিনি। জেলার কংগ্রেস নেতা অনিল শিকারিয়া বলেন, ‘ রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকলেও তাঁর কাছে রাজনীতির অনেক কিছুই শেখার ছিল। তাঁর সময়ানুবর্তিতা ছিল নজরকাড়া।’ জেলা CPIM-এর পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা পার্টি অফিসে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। তার পরে শহরের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই তাঁর মরনোত্তর দেহদান করা হবে।
We hate spam as much as you do