Tranding

10:53 AM - 04 Feb 2026

Home / Article / চট্টগ্রাম বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কমিউনিস্ট হয়েছিলেন, ২৭শে জুলাই সেই অগ্নিকন্যার জন্মদিনে

চট্টগ্রাম বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কমিউনিস্ট হয়েছিলেন, ২৭শে জুলাই সেই অগ্নিকন্যার জন্মদিনে

ছেলেমেয়ে পাশাপাশি থাকলে ছেলেদের নৈতিক আদর্শ খারাপ হতে পারে। এই মনোভাবের বিরুদ্ধে কল্পনা দত্ত লিখেছেন, “It was an iron rule for the revolutionaries that they should keep aloof from the women.”

চট্টগ্রাম বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কমিউনিস্ট হয়েছিলেন, ২৭শে জুলাই সেই অগ্নিকন্যার জন্মদিনে

চট্টগ্রাম বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কমিউনিস্ট হয়েছিলেন, ২৭শে জুলাই সেই অগ্নিকন্যার জন্মদিনে

"ওরা বীর ওরা আকাশে জাগাতো ঝড়     ওদের কাহিনী বিদেশীর খুনে 
গুলি বন্দুক বোমার আগুনে
 আজও রোমাঞ্চকর"


সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে কল্পনা দত্ত যোশী একটি চিরস্মরণীয় নাম। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অসীম সাহস ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চির জাগরুক হয়ে থাকবেন। ১৯১৩ সালে ২৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এই সংগ্রামী নারী। বৃটিশ যুগের স্বদেশ চেতনায় জীবনকে ঝুঁকি নেওয়া বিপ্লবী অগ্নিকন্যা কল্পনা দত্তের (যোশী) স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।  কল্পনা দত্ত চট্টগ্রাম জেলার শ্রীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিনোদবিহারী দত্ত ও মাতা শোভনবালা দত্ত।
কৈশোর বয়স থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বিপ্লবীদের প্রতি তার আকর্ষণ ও শ্রদ্ধা ছিল। ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, কানাইনালের জীবনী তিনি জেনেছেন। তিনি কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হয়ে কল্যাণী দাসের বিপ্লবী সংগঠন ছাত্রী সংঘে যোগ দেন। এই সময়ে কলকাতাতেও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব ছিল। সেই প্রভাবেই তিনি হতে পেরেছিলেন মাস্টারদার প্রিয় পাত্রী, রবীন্দ্রনাথের ‘অগ্নিকন্যা’।
বিপ্লবীদের গুপ্ত সংগঠন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির চট্টগ্রাম শাখা, মাস্টারদা সূর্য সেনের পরিচালনায় ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল ব্রিটিশ সরকারের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণ করে। এই ঘটনায় সারা ভারতের বিপ্লবী তরুণ সমাজ শিহরিত হয়।বিপ্লবী দলের নেতারা মনে করতেন স্বভাবে দরদী ও কোমল মেয়েরা বিপ্লবী কাজে অনুপযুক্ত। ছেলেমেয়ে পাশাপাশি থাকলে ছেলেদের নৈতিক আদর্শ খারাপ হতে পারে। এই মনোভাবের বিরুদ্ধে কল্পনা দত্ত লিখেছেন, “It was an iron rule for the revolutionaries that they should keep aloof from the women.” সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে এই Iron rule-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন যারা তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রথম নারী শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত। বোমা, পিস্তল নিয়ে কাজ করার দৃষ্টান্ত তাঁরা রেখে গেছেন।

সূর্য সেনের ইন্ডিয়ান রিপাব্লিকান আর্মি দলের সদস্য হয়ে বিজ্ঞানের ছাত্রী কল্পনা নিজের পড়ার ঘরে বসে বোমার জন্য তৈরি করতেন গান-কটন। কল্যাণী দাসের ‘ছাত্রী সংঘে’তিনি যোগদান করেন। বেথুন কলেজে হরতাল পালন এবং অন্যান্য আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন বিপ্লবী কল্পপনা দত্ত।
ওই সময় কলকাতায় বিপ্লবীদের এক গোপন কারখানায় তৈরি হত বোমার খোল। মাস্টারদার নির্দেশ অনুযায়ী সে বোমার খোল সংগ্রহ করেন প্রীতিলতা। ওই বছরের শেষের দিকে পুজার ছুটিতে প্রীতিলতা কল্পনা দত্ত, সরোজিনি পাল, নলিনী পাল, কুমুদিনী রক্ষিতকে নিয়ে চট্টগ্রাম আসেন। মাস্টারদার নির্দেশে বোমার খোলগুলো পৌঁছে দেন বিপ্লবীদের হাতে। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল করেন।

১৮ থেকে ২১ এপ্রিল এই চারদিন চট্টগ্রামে ইংরেজ শাসন কার্যত অচল ছিল। পরাধীন জাতির ইতিহাসে বিপ্লবীদের এ বিজয় ছিল গৌরবগাঁথা। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার দখল এবং ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধের ঘটনায় তিনি এতটাই অনুপ্রাণিত হন যে ছুটিতে চট্টগ্রাম এসে আর কলকাতায় ফেরেন নি। তখনও মাস্টারদার সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ বা কথা হয়নি। জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধের পর ব্রিটিশ অস্ত্রাগার লুণ্ঠণের দায়ে অনন্ত সিংহ, গণেশ ঘোষ ও লোকনাথ বলসহ আরও অনেক নেতাকে গ্রেফতার করে। মাস্টারদা সূর্য সেন চলে যান আত্মগোপনে। মে মাসের প্রথম দিকে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে বিপ্লবে অংশ নিতে চলে আসেন। অনেক কষ্টে তারা মাস্টারদার সাথে দেখা করতে সক্ষম হন। তারা মাস্টারদার কাছে সশস্ত্র বিপ্লবে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। 
ধলঘাটের সংঘর্ষে ক্যাপ্টেন ক্যামেরুন হত্যাকাণ্ডের পর সারা চট্টগ্রাম নিস্তব্ধ হয়ে যায়। মিলিটারি ও পুলিশ নির্যাতন শুরু হয় গ্রামে-গঞ্জে শহরে। পাহাড়তলী স্টেশনের পাশে ভেলুয়ার দীঘির কোণায় কিছু গুণ্ডা প্রকৃতির ছেলের সহায়তায় পুলিশের হাতে পড়ে বিপ্লবী কল্পনা দত্তের রাজনৈতিক কারাজীবন শুরু হয়। ১ বছর কারাগারে থাকার পর ১৯৩১ সালের মে মাসে কলকাতা থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য কৌশলে নিয়ে আসার দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্পনা দত্তকে। 

১৯৩১ সালের এপ্রিল মাসে এক বিশেষ আদালতে (ট্রাইব্যুনালে) আরম্ভ হয় রাজদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত ৩২ জন বন্দীর বিচার (চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল)। মাস্টারদা বন্দীদের মুক্ত করার জন্য এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি মাইন ব্যবহার করে জেলের প্রাচীর উড়িয়ে দিয়ে বন্দীদের মুক্ত করা এবং একই সাথে আদালত ভবন ধ্বংস করার উদ্যোগ নেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কল্পনা দত্ত। হামলার দিন ধার্য করা হয় ৩ জুন, ১৯৩১ সাল। সব প্রস্তুতিও গোপনে সম্পন্ন হয়ে যায়। শেষে পুলিশের নজরে পড়ে যায়।

১৯৩২ সালে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের জন্য  মাস্টারদা বিপ্লবী প্রীতিলতাকে দায়িত্ব দেন।  এই কারণে সূর্য সেন কাট্টলীর গোপন ক্যাম্পে আসেন। প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত দেখা করতে দক্ষিণ কাট্টলী গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রীতিলতা নিরাপদে গোপন কেন্দ্রে পৌঁছে গেলেও পুরুষবেশি কল্পনা দত্ত ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ সালে ধরা পড়েন। মাস্টার দা সূর্য সেন সে খবর পেয়ে অনুমতি দেন প্রীতিলতাকে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করতে ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবার আত্মগোপন করেন কল্পনা দত্ত। 

১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি  গৈরালা গ্রামে ইংরেজ ফৌজের সঙ্গে সংঘর্ষে মাস্টারদা ও তারকেশ্বর দস্তিদারের সঙ্গী ছিলেন কল্পনা। পরে মাস্টারদা ও ব্রজেন সেন পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও কল্পনা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু তিন মাস পর ১৯ মে গৈরালা গ্রামে এক সশস্ত্র সংঘর্ষের পর কল্পনা এবং তার সতীর্থ কয়েকজন বিপ্লবী ধরা পড়েন। 
১৯৩৮ সালে তার মুক্তির জন্য স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ আবেদন করেন সি এফ অ্যান্ড্রুজ থেকে মহাত্মা গান্ধী তার মুক্তির দাবী জানান। রবীন্দ্রনাথ তার বাবাকে অগ্নিকন্যার জন্য লেখেন ‘‘তোমার কন্যার জন্যে যা আমার সাধ্য তা করেছি, তার শেষ ফল জানাবার সময় এখনো হয়নি, আশাকরি, চেষ্টা ব্যর্থ হবে না।’’
প্রায় ৬ বছর জেল খাটার পর তিনি ১৯৩৯ সালে মুক্তি পান। শোনা যায়  মেয়ের জন্য মামলা চালাতে গিয়ে তার বাবা সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েন। 

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে দেখেন প্রাক্তন বিপ্লবীরা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টি যে পথে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে, সেই পথই ঠিক মনে হওয়ায় কল্পনা দত্তও কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হিসেবে বাংলার দুর্ভিক্ষের সময় চট্টগ্রামে থেকে তিনি কাজ করেছেন। সেই সময় তার বহু রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে পিপলস ওয়ার পত্রিকায়। জেলে কল্পনা দত্ত গভীর পড়াশুনা করেন। সেখানে ‘পরিচয়’ মাসিক পত্রিকা পড়ার সুযোগ হয়।
রাশিয়ার ঘটনায় তার আগ্রহ বেড়েছিল। আপামর জনগনের মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদই পথ তা কল্পনা বিশ্বাস করতে শুরু করেন।

১৯৪০ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক  হন। ওই বছর মুম্বাইতে এক সম্মেলনে কল্পনা দত্ত চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানেই পি. সি যোশীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৪৪ সালে যোশীর সঙ্গে কল্পনার বিয়ে হয়। পি. সি যোশী  ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক ছিলেন। 
বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার  কল্পনাকে ভালো লাগার কথা বলেছিলেন। কল্পনা সেকথা লেখেন।১৯৩৩ এ বিচার চলাকালীন শাসকের বিচারসভায় একদিন এক টুকরো বিষণ্ণ নিবেদন - “তোকে ভালো লাগে। যদি ফিরে আসি, আমার জন্য অপেক্ষা করবি?” 

কল্পনা দত্ত স্মৃতিকথায় জানিয়েছেন - ‘‘দুর্ভিক্ষের পরে বোম্বেতে একটা কনফারেন্স হয়েছিল। সালটা সম্ভবত ১৯৪৩। আমি চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে সেই কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলাম। সেখানেই জোশী আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি বললাম আই হ্যাভ প্রমিসড্‌ তারকেশ্বর দস্তিদার। জোশী বলল, তুমি জানো না ওর ফাঁসি হয়ে গেছে। ও তো আর কোনদিন আসবে না। …তাও আমি দোনামোনা করছিলাম। বিটি(বিটি রণদিভে), ডক(ড: গঙ্গাধর অধিকারী) এরা ইনসিস্ট করাতে বিয়ে করলাম।’’
সত্যিই ১৯৩৪-এ মাস্টারদার সঙ্গেই ফাঁসি হয়ে যায় তারকেশ্বর দস্তিদারেরও। কল্পনা জানতেন না সেকথা। 
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কল্পনা তার ফুটুদার কথা ভোলেন নি। বারবার তার উদ্দাম বিপ্লবী জীবনের প্রথম প্রেমের কথা ফিরে ফিরে আসত।

 বিয়েতে বরপক্ষের হয়ে সই করেন বি টি রণদিভে আর কন্যাপক্ষের হয়ে মুজফফর আহমেদ। 

পিসি যোশীর সাথে বিবাহের পর  তিনি চট্টগ্রামে ফিরে যান এবং দলের মহিলা ও কৃষক সংগঠনকে গড়ে তোলেন। ১৯৪৬ সালে আইনসভার নির্বাচনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে প্রার্থী ছিলেন কল্পনা দত্ত। আর কংগ্রেস থেকে দাঁড়িয়েছিলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনের স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তা। কল্পনা দত্ত অবশ্য বিজয়ী হতে পারেননি

১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্ত হলো। জন্মভূমি ছেড়ে চলে এলেন ভারতে। কমিউনিস্ট পার্টির কাজে নিজেকে যুক্ত করলেন। সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ভারত-সোভিয়েত সাংস্কৃতিক সমিতির প্রতিদিনের কাজে। রুশ ভাষার শিক্ষিকা হিসেবে নাম করেছিলেন।  ১৯৫০ সালে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে চাকুরি নেন এবং পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে থাকতেন।  কল্পনা দত্ত নারী সমিতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের মৈত্রী সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার যথেষ্ট অবদান ছিল। তিনি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

চল্লিশের দশকে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির  মুখপত্র ‘পিপলস্ ওয়ার’ পত্রিকায় নিয়মিতভাবে প্রকাশিত তৎকালীন সামাজিক বিষয়ের ওপর তাঁর লেখাগুলি ইতিহাস গবেষকদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
তার রচিত অসাধারন গ্রন্থ ১৯৪৫-এ ‘চিটাগাং আর্মারি রেইডার্স রেমিনিসেন্স’, ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণকারীদের স্মৃতিকথা’ । ১৯৯০ সালে ‘চট্টগ্রাম অভ্যুত্থান’নামে ভারত সরকারের উদ্যোগে আর একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।১৯৯১ সালে তার এক স্মৃতিকথার তিনহাজার পৃষ্ঠার পান্ডুলিপি হারিয়ে যায়। শেষ জীবনে কল্পনা স্মৃতিভ্রষ্ট হন। হাসপাতালে সাধারন রোগীর মত ভর্তি ছিলেন। অনেকে জানতই না এই সেই কল্পনা দত্ত। ১৯৯৫ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি কলকাতার শেঠ সুখলাল করোনারি হাসপাতালে তার জীবনাবসান হয়।

Your Opinion

We hate spam as much as you do