Tranding

06:48 PM - 04 Feb 2026

Home / National / ফিরল শহিদ ঝন্টু আলি শেখের দেহ, বিমানবন্দরে গান স্যালুট সেনার

ফিরল শহিদ ঝন্টু আলি শেখের দেহ, বিমানবন্দরে গান স্যালুট সেনার

৩৭ বছর বয়সী ঝন্টু শেখ ছিলেন ৬ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে কর্মরত। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের সুরনকোট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গিদের গুলিযুদ্ধে শহিদ হন তিনি। জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেনা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। গুলির লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ হন ঝন্টু শেখ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

ফিরল শহিদ ঝন্টু আলি শেখের দেহ, বিমানবন্দরে গান স্যালুট সেনার

ফিরল শহিদ ঝন্টু আলি শেখের দেহ, বিমানবন্দরে গান স্যালুট সেনার


 26 এপ্রিল 2025 


কাশ্মীরের উধমপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হওয়া বাংলার জওয়ান ঝন্টু আলি শেখের কফিনবন্দি দেহ শুক্রবার রাতে এসে পৌঁছল দমদম বিমানবন্দরে। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সেনাবাহিনীর বিশেষ বিমানে পৌঁছয় দেহ। সেনার পক্ষ থেকে দেওয়া হয় গান স্যালুট, যা ঘিরে মুহূর্তে আবেগের জোয়ার। উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম নেতা শতরুপ ঘোষ নদীয়ার নেতা এস এম সাদী  রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আগের দিন বাবা মায়ের সাথে দেখা করেন প্রাক্তন সাংসদ অলোকেশ দাশ সহ অন‍্যান‍্যরা।

 

এই আবহে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে সব্যসাচী দত্ত বলেন, “কার কী ধর্ম জানি না, ওঁরা দেশসেবা করেন। ওঁদের জন্যই আমরা নিরাপদ।” তিনি আরও বলেন, “দেশের এমন বীর সন্তানকে হারিয়ে আমরা গভীর শোকস্তব্ধ। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

 

শনিবার শহিদের মরদেহ পৌঁছল নদিয়ার তেহট্টের পাথরঘাটা গ্রামে। সেখানেই সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। ইতিমধ্যেই গ্রামের মানুষজন এবং আত্মীয়-পরিজনেরা শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন চোখের জলে বুক ভিজিয়ে।


৩৭ বছর বয়সী ঝন্টু শেখ ছিলেন ৬ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে কর্মরত। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের সুরনকোট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গিদের গুলিযুদ্ধে শহিদ হন তিনি। জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেনা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। গুলির লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ হন ঝন্টু শেখ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার বিকেলে ঝন্টুর বাড়িতে যান আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। শহিদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঝন্টু কোনও দিন ধর্ম দেখেনি। সে ভারতমাতার সন্তান হিসেবে দেশের জন্য লড়েছে। সরকারকে কড়া জবাব দিতে হবে এই হামলার।” একই সঙ্গে সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, “জঙ্গিরা ঢুকল, অথচ সরকার জানতে পারল না—এটা এক ব্যর্থতা।”

নওশাদের পাশাপাশি শহিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি কেন্দ্রকে জঙ্গিবাদ দমনে ‘অল আউট অপারেশন’-এর পরামর্শ দেন। বলেন, “দেশের নিরাপত্তা সবার আগে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ প্রয়োজন।” যদিও রাজনৈতিক নেতারা একের পর এক বার্তা দিচ্ছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় রয়েছেন শহিদ ঝন্টু শেখের পরিবার। দেশপ্রেম, বীরত্ব এবং ত্যাগের এই উদাহরণ আজ গর্ব, আবার চোখে জলও।

Your Opinion

We hate spam as much as you do