চিঠিতে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. ভেনুগোপাল উল্লেখ করেন, অতীতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার হত্যার হুমকি এসেছে, যার অনেকগুলোর সঙ্গে বিজেপি রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা ছিল। তিনি ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন, যা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে
রাহুল গান্ধীকে হত্যার হুমকি, কংগ্রেসের উদ্বেগ-নিরাপত্তা দাবি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাতীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায়। এ ঘটনার পর কংগ্রেস দল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তুলেছে। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে মালয়ালম টেলিভিশনের সরাসরি বিতর্ক অনুষ্ঠানে, যেখানে বিজেপির মুখপাত্র প্রিন্টু মহাদেব প্রকাশ্যে বলেন—“রাহুল গান্ধীকে বুকে গুলি করা হবে।” রবিবার এই ঘটনায় কংগ্রেস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখে জানায় যে, এটি কোনো হঠাৎ রাগের প্রকাশ বা অসাবধানতাবশত উচ্চারিত মন্তব্য নয়; বরং পরিকল্পিত ও ভয়ঙ্কর হুমকি। কংগ্রেস বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য একজন শীর্ষ বিরোধী নেতার জীবনের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত।
চিঠিতে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. ভেনুগোপাল উল্লেখ করেন, অতীতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার হত্যার হুমকি এসেছে, যার অনেকগুলোর সঙ্গে বিজেপি রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা ছিল। তিনি ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন, যা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। ভেনুগোপাল বলেন, “সরকারি দলের একজন মুখপাত্রের মুখ থেকে সহিংস ও উসকানিমূলক বক্তব্য শুধু রাহুল গান্ধীর জীবনের জন্য বিপদজনক নয়, বরং সংবিধান, আইনের শাসন ও নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবমাননা।”
কংগ্রেসের চিঠিতে আরও বলা হয়, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না নিলে এটি সহিংসতার বৈধতা ও স্বাভাবিকীকরণ হিসেবে গণ্য হবে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গের শামিল। একই সঙ্গে ভেনুগোপাল উল্লেখ করেন যে, রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফ একাধিকবার তাকে নিয়ে সতর্ক করেছে। বিস্ময়ের বিষয়, এসব সতর্কবার্তার একটি চিঠি, যা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে পাঠানো হয়েছিল, রহস্যজনকভাবে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতারা।
ভেনুগোপাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, রাজ্য পুলিশের মাধ্যমে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, এ পদক্ষেপ না নিলে শুধু রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তা নয়, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতন্ত্রও বিপদের মুখে পড়বে।
We hate spam as much as you do