কলকাতার অন্যতম স্মারক ট্রাম বাঁচাতে বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শ্যামবাজার ট্রাম ডিপোতে জড়ো হন সব বয়সের মানুষ। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, মমতা ব্যানার্জির প্রশাসনের নীতি কিংবা দুর্নীতি নিয়ে। বলেন, প্রয়োজনে নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার মতোই ট্রাম বাঁচাতে ন্যায়বিচার চেয়ে আবার পথে নামবে কলকাতার মানুষ।
ট্রাম বন্ধের প্রতিবাদে আবারও পথে কলকাতার নাগরিক সমাজ
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
কলকাতায় নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার আন্দোলনের রেষ এখনও কাটেনি। এর মাঝেই সরকারের ট্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নতুন আন্দোলনে পথে নেমেছেন শহরের নাগরিক সমাজ। কলকাতায় ট্রাম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বৃষ্টিস্নাত কলকাতায় শত শত মানুষ প্রতিবাদে সামিল হন। দাবি তোলেন শতাব্দী প্রচীন কলকাতার ঐতিহ্যের স্মারক ট্রাম বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারী দেন তারা।
শ্যামবাজার ট্রাম ডিপোতে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য অব্যবহৃত ট্রাম। শ্যামবাজার থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত এখন মাত্র একটি ট্রাম যাতায়াত করে। সেটাও প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টার ব্যবধানে।
বাকি ট্রামগুলোর চাকা না গড়ানোয় লোহার শরীরে পড়েছে হলদে মরচে। কোথাও কাঠের সিটের ওপর স্তূপাকার নোংরা আবর্জনা। ভগ্নদশা চালকের স্টিয়ারিং-এর।
প্রাচীন এই বাহনটি আর চালাবে না রাজ্য সরকার। দুদিন আগেই সরকারের সিদ্ধান্ত জেনে গেছেন কলকাতার মানুষ। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই ‘সিটি অফ জয়’র বাসিন্দাদের ক্ষোভ-প্রতিবাদ।
কলকাতার অন্যতম স্মারক ট্রাম বাঁচাতে বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শ্যামবাজার ট্রাম ডিপোতে জড়ো হন সব বয়সের মানুষ। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, মমতা ব্যানার্জির প্রশাসনের নীতি কিংবা দুর্নীতি নিয়ে। বলেন, প্রয়োজনে নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার মতোই ট্রাম বাঁচাতে ন্যায়বিচার চেয়ে আবার পথে নামবে কলকাতার মানুষ।
১৮৮৩ সালে কলকাতায় যাত্রা শুরু করে ট্রাম। দুর্ঘটনামুক্ত, ঝুঁকিহীন ও স্বল্পভাড়া হওয়ায় গণ-পরিবহন হিসাবে মানুষের মনে জায়গা করে নেয় বাহনটি।
তবে গত দুই দশক ধরে ট্রাম রাস্তার সংস্কার না হওয়া, ট্রাম গাড়িগুলোকে আধুনিকীকরণ না করে আস্তে আস্তে তুলে নেয়া হয় রুটগুলো। ৩৩টি রুট থেকে নেমে দাঁড়ায় মাত্র দুটিতে। প্রায় দেড়শ ট্রাম বসিয়ে প্রায় নষ্ট করে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ। এই অবস্থায় ট্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন কলকাতার বাসিন্দারা।
We hate spam as much as you do