এক্স হ্যান্ডেলের বার্তায় ওমর আবদুল্লা বলেন, "রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িগুলি বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেওয়া অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, জেলরক্ষক এবং শ্রীনগরের প্রধান সেতুগুলি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই সমস্ত কিছুই মানুষকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমাধিক্ষেত্রে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। আমি কিছুতেই বুঝতে পারেনি না যে সরকার কেন এত ভয় পায়!"
১৩ জুলাই কাশ্মীরে শহিদ দিবস পালনে বাধা গৃহবন্দি বিজেপি বিরোধী নেতারা
Jul 14, 2025
নজিরবিহীন ঘটনা কাশ্মীরে বিজেপি বিরোধী এমএলএ এমপিদের একদিন জোর করে বাড়িতে আটকে রাখা হলো।
১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন ভূখণ্ডে মহারাজা হরি সিংয়ের সেনার গুলিতে ২২ জন কাশ্মীরি আন্দোলনকারীর নিহত হওয়ার দিনটিকে ‘শহিদ দিবস’ হিসাবে পালনের রেওয়াজ রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। যদিও এদিনই ওমর আবদুল্লাহ-র নেতৃত্বাধীন জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, বিধায়ক এবং ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের 'শহিদ দিবস' পালন থেকে বিরত রাখার জন্য গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহের কটাক্ষ, ‘সরকার এত ভয় পায় কেন?’
কাশ্মীরের শহীদ দিবসে যোগ দিতে দেওয়া হবে না বিরোধী নেতাদের। কেন্দ্রের প্রতিনিধি উপ রাজ্যপালের নির্দেশে তালা ঝোলানো বিরোধী নেতাদের বাসভবনে। গৃহবন্দি করা হল বিধায়ক এবং সিপিআই(এম) নেতা ইউসুফ তারিগামিকেও।
এক্স হ্যান্ডেলের বার্তায় ওমর আবদুল্লা বলেন, "রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িগুলি বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেওয়া অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, জেলরক্ষক এবং শ্রীনগরের প্রধান সেতুগুলি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই সমস্ত কিছুই মানুষকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমাধিক্ষেত্রে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। আমি কিছুতেই বুঝতে পারেনি না যে সরকার কেন এত ভয় পায়!"
তারিগামি জানিয়েছেন যে তাঁর বাসভবনের বাইরের গেট শিকলে বেঁধে তালা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে।
পরাধীনতার পর্বে জম্মু ও কাশ্মীরের ডোগরা রাজের শাসনে গুলি চালনায় নিহত হয়েছিলেন ২২ জন। ১৯৩১’র ১৩ জুলাইয়ের সেই ঘটনার প্রভাব গভীর। ভারতের সঙ্গে সংযুক্তির পরও এই দিনটিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বিপুল অংশের মানুষ এই দিনটি ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর এই দিন পালন বন্ধ করা হয়েছে। বিজেপি এর আগেও এই দিনটি পালনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দু’টুকরো করার পাশাপাশি কেড়ে নেওয়া হয়েছে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদাও। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচিত সরকারের হাতে নেই পুলিশ ও সুরক্ষা বাহিনী। সেই দায়িত্ব কেন্দ্রের তরফে সামলান উপরাজ্যপাল মনোজ সিন্হা। তিনিই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বিরোধী নেতাদের বন্দি করার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা।
ওমর বলেছেন, ‘‘এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাদের কাছে ১৩ জুলাইয়ের এই হত্যাকাণ্ড জালিয়ানওয়ালাবাগের মতোই যন্ত্রণার। ব্রিটিশ শাসনের জোরে তখন রাজ্যশাসন চালানো হতো। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়েই শহীদ হয়েছিলেন ১৩ জুলাই নিহতেরা। কেবল ধর্মে তাঁরা মুসলিম বলে দিনটিকে পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না।’’
তারিগামি বলেছেন, ‘‘১৩ জুলাই শহীদদের শ্রদ্ধা যাতে জানাতে না পারি তার জন্য আমার বাসভবনের দরজায় তালা ঝোলানো হলো। এই দিনটি সম্মিলিত বিচারে আমাদের যন্ত্রণার দিন। আমাদের উন্নত ভবিষ্যত এবং গণতন্ত্রের দাবিতে সেদিন এই সংগ্রামীরা প্রাণ দিয়েছিলেন।’’
কাশ্মীরের নেতাদের গৃহবন্দি করা হলেও প্রশাসনিক স্তর থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এর আগে সংসদে ৩৭০ ধারা বাতিলের সময়েও এমন কাণ্ডই করেছিল বিজেপি সরকার।
ওমর বলেছেন, ‘‘বিরোধী নেতাদের ঘরে তালাই কেবল ঝোলানো হয়নি। বাড়ির সামনে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রীনগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে পাহাড়া বসানো হয়েছে। যাতে ব্রিটিশের গুলিতে নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা পর্যন্ত জানানো না যায়। কোন শৃঙ্খলা, কোন আইন ভাঙার আশঙ্কায় এমন পদক্ষেপ বোঝা অসম্ভব।’’
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিভাজন ঘটিয়ে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন তথা ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর নরেন্দ্র মোদি সরকার 'শহিদ দিবসে'র ছুটি বাতিল করেছিল। এবার নির্দিষ্ট দিনটির আগেই উপত্যকার লেফ্টেন্যান্ট গভার্নরের তরফে জানানো হয়েছিল, 'শহিদ দিবস' পালন করা যাবে না। 'শহিদদের' কবরস্থান মাজার-ই-শুহাদায় প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "১৩ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড আমাদের জালিয়ানওয়ালাবাগ। যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাঁরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তা করেছিলেন। তখন কাশ্মীর ব্রিটিশদের অধীনে শাসিত হচ্ছিল। কতই না দুঃখের বিষয় যে, প্রকৃত বীরেরা যাঁরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, আজ তাঁদের খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কারণ তাঁরা মুসলিম ছিলেন। আজ যতই তাঁদের কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানানো থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হোক, আমরা তাঁদের আত্মত্যাগ ভুলব না।" উল্লেখ্য, ওমরের মতোই ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান মুখপাত্র তথা বিধায়ক তানভীর সাদিক, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির মতো কাশ্মীরি নেতারা এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের শহিদ দিবসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ১৯৩১ সালের এক রক্তক্ষয়ী দিনের। ব্রিটিশ আমলে জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজার বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাতে মৃত্যু হয়েছিল ২২ জন বিদ্রোহীর। তাঁদের স্মরণেই ১৩ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে ভূস্বর্গে। যদিও অভিযোগ, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট নরেন্দ্র মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিল করার পরে এই প্রথা জোর করে বন্ধ করা হচ্ছে।
We hate spam as much as you do