সিটুর সাধারণ সম্পাদক তপন সেন প্রথমেই জটিল সময় কিন্তু সমাধান যোগ্য অবস্থার উল্লেখ করেন। মহারাষ্ট্র,জম্বু কাশ্মীর, চন্ডীগড়ে, শ্রমিক আন্ন্দলনের তীব্রতায় লড়াইএর দাবী আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তপন সেন জোর দেন লড়াই এর নাছোড়বান্দা রূপের ওপর। কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন ভালো ভালো কথার আড়ালে কর্পোরেটকে খুশি করার বাজেট
সিটুর রাজ্য অসংগঠিত শ্রমিক সমাবেশে তীব্র নাছোড় আন্দোলনের ডাক
১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩
রাজ্যের অসংগঠিত শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির নেতৃত্বে রানী রাসমণি রোডে যে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল তাতে বিপুল জমায়েত লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশে শিয়ালদা স্টেশন থেকে অসংগঠিত শ্রমিকদের একটি বিশাল মিছিল এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে কলকাতা রানী রাসমণি রোডে সমাবেশে পৌঁছায় ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে। সিটু রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু বলেন আজকের অসংগঠিত শ্রমিকের অবস্থা খুবই সঙ্গীন। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিই অসংগঠিত শ্রমিকদের কঠিন অবস্থা মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। শ্রমকোড বিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অসংগঠিত শ্রমিকরা। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চূড়ান্ত অর্থনৈতিক। সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমজীবী মানুষেরা। নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অনাদি সাহু বলেন। বিপুল পরিমাণে টাকা বামফ্রন্ট সরকারের আমলে যা সঞ্চিত ছিল। ট্রান্সফার করা হয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকদের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তারা পেনশন পাচ্ছেন না। সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সিটুর রাজ্য নেত্রী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদিকা গার্গী চ্যাটার্জি। তুরস্কের ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মানুষের সাহায্যার্থে ১৬ হাজার টাকা রাস্তা থেকে সংগ্রহ করে বাঁকুড়া জেলার কর্মীরা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তপন সেনের হাতে তুলে দেন। মুর্শিদাবাদের বিড়ি শ্রমিকদের নেতা। দেবাশীষ রায় তার বক্তব্যে বিড়ি ও গ্রামীন শ্রমিকদের সঙ্গীন অবস্থার কথা উল্লেখ করেন।
সিটুর সর্বভারতীয় নেত্রী মধুমিতা ব্যানার্জি
আইসিডিএস আশা মিড ডে কর্মীর মহিলা শ্রমজীবী মানুষের দাবী নিয়ে বক্তব্য উল্লেখ করেন। কেরালার বাম সরকার পাঁচশত টাকা করে বেতন নির্দিষ্ট করেছেন। লক্ষ লক্ষ মহিলা শ্রমজীবীদের জীবন যন্ত্রণা উল্লেখ করেন। করোনা কালে আশাকর্মীদের ভুমিকা উল্লেখ করেন। রাজ্যে শিশুশ্রমিকদের অবস্থা উল্লেখ করেন। আইসিডিএস বন্ধ হলে কি হবে? বক্তব্যে এম এম সাদি বিপুল সংখ্যক নির্মান শ্রমিকদের সংকটের কথা উল্লেখ করেন।
নির্মাণ শ্রমিকদের রাজ্য নেতা প্রনব মজুমদার নির্মাণ শ্রমিক তহবিল থেকে ২০০০ কোটি টাকা রাজ্যের সরকার সরিয়ে দিয়েছে। এই টাকা ফেরতের লড়াই চলবে বলে তিনি জানান।
সিটুর সাধারণ সম্পাদক তপন সেন প্রথমেই জটিল সময় কিন্তু সমাধান যোগ্য অবস্থার উল্লেখ করেন।
মহারাষ্ট্র,জম্বু কাশ্মীর, চন্ডীগড়ে, শ্রমিক আন্ন্দলনের তীব্রতায় লড়াইএর দাবী আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তপন সেন জোর দেন লড়াই এর নাছোড়বান্দা রূপের ওপর। কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন ভালো ভালো কথার আড়ালে কর্পোরেটকে খুশি করার বাজেট। শ্রমিক আন্দোলনের সাথে রাজনীতির সম্পর্কের কথা বলেন। শ্রমিকশ্রেনীকে রাজনৈতিক ভাবে সঠিক দিকনির্দেশ করতে হবে। তা না হলে রুটি রুজির লড়াই এর শেষে বাড়ি ফিরে কর্পোরেট হিন্দুত্ববাদীদের সাথে মিশে যাবে। রাজ্যের বাজেটেও খুব সমাজের প্রান্তিক মানুষের কথা বলা হয়েছে। অথচ প্রান্তিক মানুষের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যা তা হল চাকরির ব্যবস্থা তা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন রাজনৈতিক লড়াই জেতা সম্ভব।
সভাপতিত্ব করতে গিয়ে সুভাষ মুখার্জী আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন। সমাবেশ থেকে ডিএ র জন্য আন্দোলনকারী রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংহতি জানানো হয়।
We hate spam as much as you do