রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার জন্য সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চেও ছিলেন বিচারপতি ললিত। এই বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তবে ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি অর্থাৎ যে দিন এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা ছিল, সে দিন শুনানির শুরুতেই নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নেন ললিত।
বাবরি ধ্বংস মামলার আইনজীবী উমেশ ললিত দেশের ৪৯ তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হলেন
দেশের ৪৯ তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত। গত সপ্তাহে দেশের তৎকালীন সিজেআই এনভি রমন তার উত্তরসূরি হিসাবে ইউইউ ললিতকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বিচারপতি ললিতকে নিয়োগের জন্য সরকারকে সুপারিশ করে ছিলেন। আগামী ২৭ অগাস্ট তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি রমন ২৪ এপ্রিল ২০২১ সালে দেশের ৪৮ তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার পূর্বসূরি বিচারপতি এসএস বোবদে বদলি করা হয়। বিচারপতি এস এম সিকরি, যিনি ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের ১৩ তম সিজেআই ছিলেন। ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসে সরাসরি শীর্ষ আদালতের বেঞ্চে বেছে নেওয়া প্রথম আইনজীবীর মধ্যে তিনি ছিলেন।
বিচারপতি ললিত, যিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। বিচারপতি ললিত যখন এই বছরের ৮ নভেম্বর অবসর নিচ্ছেন, তখন বিচারপতি ললিতকে পরবর্তী সিজেআই হিসাবে নিযুক্ত করা হবে। তিনি তিন মাসেরও কম সময় থাকবে সেই পদ সামলাবেন৷ বিচারপতি ইউইউ ললিত সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী রায়ের একটি অংশ ছিলেন। তিনি পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের সদস্যও ছিলেন। যা তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে পাথব্রেকিং রায় 'তিন তালাক' প্রথাকে অকার্যকর, অবৈধ এবং অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিলেন। পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন তিনি।
বিচারপতি ললিতের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ কেরলের ঐতিহাসিক শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দির পরিচালনার জন্য তৎকালীন ত্রাভাঙ্কোরের রাজপরিবারকে ক্ষমতা দিয়েছিল। এটি অন্যতম ধনী মন্দির। বিচারপতি ললিতের বেঞ্চ 'স্কিন টু স্কিন টাচ' নিয়ে এই রায় দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে যে কোনও শিশুর শরীরের যৌন অংশ স্পর্শ করা বা 'যৌন অভিপ্রায়' সহ শারীরিক যোগাযোগ জড়িত একটি কাজ পকসো আইনের ধারা ৭ এর অধীনে 'যৌন নিপীড়ন' হিসাবে গণ্য হবে। পকসো আইনের অধীনে দুটি মামলায় বোম্বে হাইকোর্টের বিতর্কিত রায় প্রত্যাখ্যান করে, বিচারপতি ললিতের একটি বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছিল যে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে ভুল ছিল যে যেহেতু সরাসরি 'স্কিন টু স্কিন' যোগাযোগ ছিল না, তাই কোনও যৌন অপরাধ ছিল না। .
বিচারপতি ললিত সেই বেঞ্চে ছিলেন, তিনি বলেছিলএন, যে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য নির্ধারিত ছয় মাসের অপেক্ষার সময় হিন্দু বিবাহ আইনের ধারা ১৩ বি(২) এর অধীনে বাধ্যতামূলক নয়। সম্প্রতি, বিচারপতি ললিতের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ পলাতক মদ ব্যবসায়ী বিজয় মাল্যকে আদালত অবমাননার জন্য চার মাসের কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা করে।
সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের সাংবিধানিক বেঞ্চ ২০১৭ সালের অগস্টে ‘তিন তালাক’ প্রথাকে ‘অকার্যকর’, ‘অবৈধ’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দেয়। এই সাংবিধানিক বেঞ্চের সদস্য ছিলেন ললিত। তিন জন বিচারপতি বিশেষ সম্প্রদায়ের এই বিবাহবিচ্ছেদ প্রথার বিপক্ষে রায় দেন। ললিতও রায় দেন বিপক্ষেই।
সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের সাংবিধানিক বেঞ্চ ২০১৭ সালের অগস্টে ‘তিন তালাক’ প্রথাকে ‘অকার্যকর’, ‘অবৈধ’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দেয়। এই সাংবিধানিক বেঞ্চের সদস্য ছিলেন ললিত। তিন জন বিচারপতি বিশেষ সম্প্রদায়ের এই বিবাহবিচ্ছেদ প্রথার বিপক্ষে রায় দেন। ললিতও রায় দেন বিপক্ষেই।
তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহার এবং বিচারপতি এস আবদুল নাজির এই রায়কে ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার পক্ষে ছিলেন। পাশাপাশি এই বিষয়ে সরকারকে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার কথাও বলেন তাঁরা। তখন বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ, আর এফ নরিমান এবং ললিত এই প্রথাকে ‘সংবিধানের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করে এই প্রথার বিপক্ষে রায় দেন।
রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার জন্য সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চেও ছিলেন বিচারপতি ললিত। এই বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তবে ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি অর্থাৎ যে দিন এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা ছিল, সে দিন শুনানির শুরুতেই নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নেন ললিত।
শুনানির শুরুতেই মসজিদ পক্ষের আইনজীবী রাজীব ধওয়ন বিচারপতি ললিতের বেঞ্চের সদস্য থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আইনজীবী ধওয়ন দাবি করেন, ১৯৯৭ সালে বিচারপতি ললিত নিজেও বিতর্কিত বাবরি মসজিদ মামলায় বিজেপি নেতা প্রাক্তন মূখ্যমন্ত্রী কল্যান সিং এর আইনজীবী ছিলেন। সে সময় তিনি এক পক্ষের হয়ে মামলাও লড়েছিলেন। তাই বিচারপতি ললিতের বেঞ্চে থাকা উচিত হবে না, বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর সঙ্গে সহমত হন অন্যান্য বিচারপতিরাও। এর পরই এই সাংবিধানিক বেঞ্চ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন বিচারপতি ললিত। ওই একই বেঞ্চের সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি রমণাও।
We hate spam as much as you do