দুর্ঘটনার সময় বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩২২ কিলোমিটার—যা একটি ড্রিমলাইনারের জন্য অস্বাভাবিকভাবে কম। ইঞ্জিন হয়তো উড্ডয়নের সময় শক্তি হারিয়ে ফেলে, যার ফলে ক্রমাগত উচ্চতা হারিয়ে ভবনে ধাক্কা লাগে।
আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কারন কি? চারটি সম্ভাব্য কারণ
১৩ জুন ২০২৫
গুজরাটের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এটি গত এক দশকে ভারতের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর বিমানটির একমাত্র জীবিত যাত্রী, যুবক বিশ্বাস কুমার রমেশের অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার খবর আরও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, নিহত ২৪১ জনের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে টাটা গোষ্ঠী।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের বিমানটি ২৪২ আরোহী নিয়ে আহমেদাবাদের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি ভবনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। বিমানটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই প্রাণ হারান বলে জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়, তবে হতাহতের ভয়াবহতা রোধ করা যায়নি। বিমানের ধ্বংসস্তূপ, আগুন ও ধোঁয়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও ইতোমধ্যে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং তথ্য ঘেঁটে চারটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. অতিরিক্ত ওজন এবং ভারসাম্যহীনতা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানে যাত্রী ও মালপত্রসহ ওজনের গণনায় ত্রুটি ঘটেছিল। বিমানের ভারবহন ক্ষমতা ও ভরের ভারসাম্য না থাকলে এটি উড্ডয়নের পরপরই ভারসাম্য হারাতে পারে। যাত্রীরা কোথায় বসবেন এবং সামনের-পেছনের ভার কেমন থাকবে—এসব হিসাব ঠিকমতো করা হয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
২. ল্যান্ডিং গিয়ারের ত্রুটি:
বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হয়তো এটি ঠিকভাবে বন্ধ হয়নি বা ওপরে উঠেনি, ফলে উড্ডয়নের পরও বাড়তি টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ল্যান্ডিং গিয়ার বিমানের ওজন সামলাতে ব্যর্থ হলে, তা দ্রুত পতনের কারণ হতে পারে।
৩. লিফ্ট বা উড্ডয়ন ক্ষমতা হ্রাস:
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রানওয়ে ছাড়ার পর কিছুটা ধাক্কা খেয়ে বিমানটি স্থিতিশীলতা হারায়। পাইলট তখন আর বিমানটি বাতাসে ভাসিয়ে রাখতে পারেননি। বিমানের লিফ্ট (উপরের দিকে ওঠার ক্ষমতা) সম্ভবত দ্রুত কমে গিয়েছিল।
৪. ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা হ্রাস:
দুর্ঘটনার সময় বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩২২ কিলোমিটার—যা একটি ড্রিমলাইনারের জন্য অস্বাভাবিকভাবে কম। ইঞ্জিন হয়তো উড্ডয়নের সময় শক্তি হারিয়ে ফেলে, যার ফলে ক্রমাগত উচ্চতা হারিয়ে ভবনে ধাক্কা লাগে।
এদিকে বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার মূল প্রতিষ্ঠান টাটা গোষ্ঠী। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনা শুধু দেশের বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নয়, বরং গোটা এশিয়ার বিমান শিল্পের ওপরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাই বাড়তি সতর্কতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
We hate spam as much as you do