Tranding

10:15 AM - 04 Feb 2026

Home / National / জম্মু-কাশ্মীরে মোদি নীতির বিরুদ্ধে NC -Cong-Cpm জোট জয়ী

জম্মু-কাশ্মীরে মোদি নীতির বিরুদ্ধে NC -Cong-Cpm জোট জয়ী

অধিকাংশ আসনেই গণনা সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে সব আসনের ফলপ্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। জয় পাওয়া কিংবা এগিয়ে থাকার নিরিখে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)-এর ঝুলিতে ৪২টি আসন। এনসি-র সঙ্গে জোট বেঁধে কংগ্রেস পেতে চলেছে ৬টি আসন। জয়ী হওয়া বা এগিয়ে থাকার নিরিখে বিজেপির ঝুলিতে ২৯টি আসন। পিডিপি মাত্র ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। সিপিএম এবং আপ একটি আসনে জয়ী হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস কনফারেন্স জয়ী একটি আসনে।

জম্মু-কাশ্মীরে মোদি নীতির বিরুদ্ধে NC -Cong-Cpm জোট জয়ী

জম্মু-কাশ্মীরে মোদি নীতির বিরুদ্ধে NC -Cong-Cpm জোট জয়ী  


 08 Oct 2024


পাঁচ বছর ধরে নানা চেষ্টা সত্ত্বেও সেখানে ক্ষমতায় আসতে পারল না কেন্দ্রের শাসক দল। নরেন্দ্র মোদির ‘কাশ্মীর নীতি’ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হলো। সেখানে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এসি), কংগ্রেস ও সিপিএমের জোট। 


অধিকাংশ আসনেই গণনা সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে সব আসনের ফলপ্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। জয় পাওয়া কিংবা এগিয়ে থাকার নিরিখে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)-এর ঝুলিতে ৪২টি আসন। এনসি-র সঙ্গে জোট বেঁধে কংগ্রেস পেতে চলেছে ৬টি আসন। জয়ী হওয়া বা এগিয়ে থাকার নিরিখে বিজেপির ঝুলিতে ২৯টি আসন। পিডিপি মাত্র ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। সিপিএম এবং আপ একটি আসনে জয়ী হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস কনফারেন্স জয়ী একটি আসনে। আর নির্দল প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন।


বেলা দুটায় এনসি নেতা ফারুক আবদুল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনগণ রায় দিয়েছে। ওমর আবদুল্লাহই হবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওমর গান্দরবাল ও বদগাম দুই আসন থেকেই জিতেছেন। 


বিজেপিকে চিন্তায় রাখবে জম্মু-কাশ্মীরের ব্যর্থতা। প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে তাঁর কাশ্মীর নীতিকে। দেশে তো বটেই, আন্তর্জাতিক স্তরেও। কারণ, এই ভোট এক অর্থে ছিল ৩৭০ অনুচ্ছেদ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণভোট। মোদি এই রাজ্যকে এনসি, কংগ্রেস ও পিডিপির হাত থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সেই ইচ্ছাও ব্যর্থ হলো।


জম্মু-কাশ্মীরের ভোটের ফল মোদি সরকারের কাশ্মীর নীতি অসারত্ব প্রমাণ করে দিল। সাবেক এই রাজ্যের জনগণ স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলেন, যে লক্ষ্যে পাঁচ বছর আগে বিজেপি এই রাজ্য দ্বিখণ্ডিত করেছিল, সংবিধান প্রদত্ত ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করেছিল, পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টি করেছিল, জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই অর্থে এই ফল নিশ্চিতভাবে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণভোট।

অথচ কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেনি। লোকসভা ও বিধানসভার কেন্দ্রগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে সাতটি আসন বাড়িয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৬টি হিন্দু প্রধান জম্মুতে, মুসলমান প্রধান কাশ্মীর উপত্যকায় মাত্র ১টি। দুই অঞ্চলের আসনের মধ্যে যেখানে ৯ আসনের ফারাক ছিল, তা কমিয়ে করা হয় ৪টি। শুধু তা–ই নয়, আইন করে উপরাজ্যপালকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিধানসভায় পাঁচজনকে মনোনীত করার, যাঁদের মধ্যে তিনজন থাকবেন নারী।

মন্ত্রিসভাকে এড়িয়ে সেই মনোনয়নের চেষ্টা গতকাল সোমবার রাতেই শুরু হয়, যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি দিয়েছে এনসি। এত চেষ্টা সত্ত্বেও এনসি-কংগ্রেস জোট তর্কাতীতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে। এই ফল মোদির কাশ্মীর নীতির পরাজয় ছাড়া আর কিছু নয়।

প্রশ্ন হলো, অতপর? প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কি জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে? দিলে কবে?

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনো নেই। বরং এমন শঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যেভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেন্দ্রশাসিত দিল্লি উপরাজ্যপাল মারফত শাসিত হচ্ছে, জম্মু-কাশ্মীর ঠিক সেভাবেই শাসিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পৌরসভার চেয়ারম্যানের বেশি হবে না।

 

কাশ্মীর উপত্যকায় এনসি-কংগ্রেস-সিপিএম জোট এবং পিডিপির প্রাধান্য খর্ব করতে বিজেপি অন্য ব্যবস্থাও করেছিল। যেমন, বিচ্ছিন্নতাবাদী জেলবন্দী সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রশিদকে আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি (এআইপি) গঠনে মদদ, জামায়াতে ইসলামীকে স্বতন্ত্রভাবে ভোটে দাঁড়াতে উৎসাহিত করা এবং গুলাম নবি আজাদ ও আলতাফ বুখারির দলকে খোলামেলা সমর্থন করা।

 

বিজেপি উপত্যকায় মাত্র ১৯ কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু ফল দেখে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির প্রতিটি কৌশল উপত্যকার মানুষ ব্যর্থ করেছে। প্রবল সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়েছে এনসি-কংগ্রেস জোটের পক্ষে। একদা প্রবল প্রতাপান্বিত দল পিডিপিও এই ভোটে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। বোঝা গেল, ২০১৪ সালের ভোটের পর বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে তাদের সরকার গড়া উপত্যকার মানুষ মেনে নেয়নি।

Your Opinion

We hate spam as much as you do