ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে মোদি এপস্টেইনের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন- এমন দাবি ওই ইমেইলে রয়েছে। সেখানে এপস্টেইন নিজেই এ কথা উল্লেখ করেছেন। ইমেইলে এপস্টেইন বলেন, তিনি মোদিকে ইসরায়েল সফরের পরামর্শ দেন, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সন্তুষ্ট হন। তার পরামর্শ অনুযায়ী ২০১৭ সালে মোদি ইসরায়েল সফরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নাচ-গান করেন বলেও ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌন অপরাধী এপস্টেইন ফাইলে মোদির নাম, ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েলে নেচেছেন মোদি?
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল নতুন নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এসব নথির একটি ইমেইলে উল্লেখ আছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও। সেখানে ২০১৭ সালে তার ইসরায়েল সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে মোদি এপস্টেইনের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন- এমন দাবি ওই ইমেইলে রয়েছে। সেখানে এপস্টেইন নিজেই এ কথা উল্লেখ করেছেন। ইমেইলে এপস্টেইন বলেন, তিনি মোদিকে ইসরায়েল সফরের পরামর্শ দেন, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সন্তুষ্ট হন। তার পরামর্শ অনুযায়ী ২০১৭ সালে মোদি ইসরায়েল সফরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নাচ-গান করেন বলেও ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৯২ সালে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এটিই ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। ইমেইলে এপস্টেইনের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়, "ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেন। তারা কয়েক সপ্তাহ আগে দেখা করেছেন। এই পরামর্শ কাজে দিয়েছে।"
এপস্টেইন ফাইলে উল্লিখিত এই তথ্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, "২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফর ছাড়া এই ইমেইলের বাকি সব কথা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর কুৎসিত কল্পনা মাত্র। এসব কথাকে চরম অবজ্ঞার সাথে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।"
এপস্টেইন ফাইল কী? যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত***********
যৌন অপরাধী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্র বা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ বর্তমানে মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে এই ফাইলগুলো প্রকাশের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছিল, এমনকি খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও স্বচ্ছতার দাবি ওঠে। দীর্ঘ সময় এসব গোপন নথি প্রকাশের বিরোধিতা করার পর অবশেষে সুর নরম করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধে জড়িত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও বিতর্কিত। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাড়িতে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। সে সময় প্রভাব খাটিয়ে প্রসিকিউটরদের সাথে একটি আপিল চুক্তির মাধ্যমে বড় সাজা থেকে বেঁচে গেলেও তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তবে ১১ বছর পর পুনরায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হন। বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে কারাগারে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়, যাকে পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য এবং এপস্টাইনের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র ও ইমেইল সংগ্রহ করা হয়, যা এখন ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত।
এই নথিপত্র নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়ানোর মূল কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি তার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং তার কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি জানতেন না।
তবে হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাটরা সম্প্রতি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কিছু ইমেইল প্রকাশ করেছেন। সেখানে ২০১১ সালের একটি ইমেইলে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ থাকতে দেখা যায়।
প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, এপস্টেইন ম্যাক্সওয়েলকে লিখেছিলেন যে জনৈক ভিক্টিম তার বাড়িতে ট্রাম্পের সাথে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ওই ভিক্টিম হলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে।
তবে মজার ব্যাপার হলো, মৃত্যুর আগে গিফ্রে নিজেই জানিয়েছিলেন যে তিনি ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দেখেননি। প্রকাশিত এই ফাইল বা ইমেইলগুলোতে ট্রাম্পের সরাসরি কোনো অন্যায়ের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পও বারবার দাবি করে আসছেন যে এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মূলত এই ফাইলগুলো জনসমক্ষে এলে আরও কত প্রভাবশালীর নাম বেরিয়ে আসবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
We hate spam as much as you do