Tranding

11:45 AM - 04 Feb 2026

Home / National / দিল্লীর দূষণ মাত্রা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে?

দিল্লীর দূষণ মাত্রা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে?

শেষ পাঁচ বছরের মধ্যে এই সূচকই সবথেকে খারাপ। গতবছর দীপাবলির পরবর্তী সময়ে বাতাসের গুণগত মানের সূচক ছিল ৪৩৫। ২০১৯ সালে এই সূচক ছিল ৩৬৮। ২০১৮ সালে দীপাবলি পরবর্তী সময়ে বাতাসে গুণগত সূচকের মান ছিল ৩৯০। ২০১৭ সালে সূচক ছিল ৪০৩ এবং ২০১৬ সালে এই সূচক ছিল ৪৪৫।

দিল্লীর দূষণ মাত্রা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে?

দিল্লীর দূষণ মাত্রা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে? 


ক্রমাগত বেড়েই চলেছে দিল্লীতে বাতাস দূষণ মাত্রা। সকাল থেকেই সাদা চাদরে মোড়া রাজধানী। নাহ, শীতের জানান দেওয়ার জন্য কুয়াশা নয়, বরং ধোঁয়াশাতেই ঢেকেছে গোটা দিল্লি। দীপাবলির দুদিন পরেও দিল্লিতে বাতাসের গুণমান “নিকৃষ্টতম” পর্যায়েই রইল। একদিনের উৎসবে কার্যত দূষণের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে দিল্লি। 

 

১ জানুয়ারি অবধি দিল্লিতে বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেই বিধিনেষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই দেদার বাজি পোড়ানো হয়েছে গোটা দিল্লি জুড়েই। পরদিন সকাল থেকেই ধোঁয়াশার আস্তরণে আকাশ ঢাকা পড়েছে। কমেছে দৃশ্যমানতা। জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, দীপাবলির পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার দিল্লিতে বাতাসের গুণগত মানের সূচকের গড় পৌঁছে গিয়েছিল ৪৬২ তে। 

 

শেষ পাঁচ বছরের মধ্যে এই সূচকই সবথেকে খারাপ। গতবছর দীপাবলির পরবর্তী সময়ে বাতাসের গুণগত মানের সূচক ছিল ৪৩৫। ২০১৯ সালে এই সূচক ছিল ৩৬৮। ২০১৮ সালে দীপাবলি পরবর্তী সময়ে বাতাসে গুণগত সূচকের মান ছিল ৩৯০। ২০১৭ সালে সূচক ছিল ৪০৩ এবং ২০১৬ সালে এই সূচক ছিল ৪৪৫। এ দিন সকালে দিল্লির বাতাসের গুণমান আরও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোর ৬টা নাগাদ বাতাসের গুণগত মানের হার ছিল ৫৩৩, যার ফলে “অতি ভয়ঙ্কর” পর্যায়ে পৌঁছেছে দিল্লির বাতাস। পার্শ্ববর্তী নয়ডা, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ ও গ্রেটার নয়ডায় বাতাসের গুণমান আরও খারাপ বলেই জানা গিয়েছে। 

 

রবিবারই দিল্লি সরকারের তরফে জানানো, নাসার উপগ্রহের মাধ্যমে দেখা গিয়েছে গত ১ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে ২১ হাজার ৬২৩টি জায়গায় খড়কুটো জ্বালানো হয়েছে। উত্তরের রাজ্যগুলিতে ব্যাপক বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ এটিই।
দিল্লিতে দূষণের মাত্রা হ্রাস করতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে ট্যাঙ্কারে করে জল ছেটানো হচ্ছে। জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে। সোমবার সিপিসিবির তরফে দিল্লিতে দূষণ নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। দিল্লির বাতাসকে দূষণমুক্ত করতে নতুন কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে ডিজেল জেনারেটরে নিষেধাজ্ঞা ও পার্কিং ফি দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে।

 

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তারা যেন বাড়িতেই থাকেন। রাজধানীর দূষণ কমাতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল যে পদ্ধতি এনেছিলেন, তা ফিরিয়ে আনা হবে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা শুরু করা হয়েছে। 


এদিকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর ফলস্বরূপ ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছিল দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রা । দীপাবলির চারদিন পর কিছুটা হলেও কমল বাতাসে “বিষে”র মাত্রা। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া ও বায়ুর গুণমান পূর্বাভাস ও গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিল্লিতে বায়ুর গুণ মান রয়েছে ৩৮৪-এ।

 

রবিবার অবধিও দিল্লি(Delhi)-র বাতাসের গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (Air Quality Index) “বিপজ্জনক” মাত্রাতেই ছিল। ৪২৮-র মধ্যেই ঘোরাফেরা করছিল এই গুণমান। পার্শ্ববর্তী গুরগাঁও, নয়ডা, গাজিয়াবাদ শহরেও দূষণে প্রাণ ওষ্ঠাগত বাসিন্দাদের। সবথেকে খারাপ বাতাস ছিল গুরগাঁওতে, সেখানে বাতাসের গুণমান ছিল ৪৬০। এরপরই গাজিয়াবাদে ৪৫৮, নয়ডায় ৪৫৫, ফরিদাবাদে বাতাসের গুণামানের মাত্রা ৪৪৯-র মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল।

Your Opinion

We hate spam as much as you do