তপন জায়া পূর্ণিমা দেবী এদিন জানিয়েছেন : "আমি অত্যন্ত খুশী... সিবিআই তদন্তই মূল দোষীকে শনাক্ত করে সাজা দিতে পারবে। পুলিশ সুপার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই আইসিকে ক্লিন চিট দিয়ে দিলেন... এতে কী মনে হয় যে ওদের (সিটের) হাতে তদন্তভার দিলে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে?"
ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর খুনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের,
স্বস্তির নিশ্বাস ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলরের পরিবারের।
আজ হিয়ারিংয়ের পর ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু খুনের মামলা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। গতকালই এই খুনের ঘটনাকে পারিবারিক বিবাদের তকমা দিয়ে নিহত কাউন্সিলরের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সুপার সিটের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত আইসিকে ক্লিন চিট দিয়ে দেন। ফলে সিটের ও রাজ্য পুলিশের সদর্থক ভূমিকা দেখতে না পাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্ট রামপুরহাটের মতোই এই ঘটনার তদন্তভারও সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল।
উল্লেখযোগ্য ভাবে দুটি ঘটনাতেই পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। গতমাসে তপন বাবু খুন হওয়ার পরে দুজনকে গেপ্তার করা হয়। বিচাপতি রাজশেখর মান্থার কাছে ঘটনাটির কেস ডাইরি পেশ করা হয়। আজ পিটিশন হিয়ারিংএর পর রাজ্য পুলিশের ও সিটের গাফিলতির বিষয়টি প্রকট হয়ে ওঠে। তপন বাবুর স্ত্রী পূর্ণিমা দেবী শুরু থেকেই স্থানীয় পুলিশের সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে সিবিআই তদন্তের দাবি করে এসেছেন। তাঁর আবেদনে সারা দিয়ে বিচারপতি মান্থা ২৯ শে মার্চ ঘটনার কেস ডায়েরি ও তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আজ আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তপন জায়া পূর্ণিমা দেবী এদিন জানিয়েছেন : "আমি অত্যন্ত খুশী... সিবিআই তদন্তই মূল দোষীকে শনাক্ত করে সাজা দিতে পারবে। পুলিশ সুপার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই আইসিকে ক্লিন চিট দিয়ে দিলেন... এতে কী মনে হয় যে ওদের (সিটের) হাতে তদন্তভার দিলে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে?" তিনি কান্নাভেজা গলায় আরও জানান : "আমার ভালো মানুষ স্বামীটাকে মেরে দিয়ে আমায় বিধবা করেছে। শুধু আমি নয়, এলাকার লোকেরাও খুশী আদালতের সিদ্ধান্তে।
অধীর চৌধুরী ও নেপাল মাহাতোর কাছে আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। ওনাদের উদ্যোগই এই মামলার তদন্ত এবার সঠিক পথে এগোবে।" গত ১৩ মার্চ সান্ধ্য-ভ্রমণে বেরিয়ে আততায়ীদের গুলিতে মারা যান নব নির্বাচিত কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন বাবু। এরপর ঘটনায় ঝালদার আইসির যুক্ত থাকার অভিযোগ সামনে আসে।
ভাইরাল অডিও ক্লিপে তাঁকে নিহত কাউন্সিলরের ভাইপোকে তাঁর কাকা অর্থাৎ তপন বাবুকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে পুরবোর্ড গড়ে তুলতে সাহায্য করতে বলতে শোনা যায়। আনিস হত্যা কান্ড, বগুটুইয়ের ঘটনা বা ঝালদার ঘটনা, একের পর এক রাজনৈতিক হত্যায় পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
We hate spam as much as you do