Tranding

03:23 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / সিপিআইএমের 'আইন অমান্য' ঘিরে রণক্ষেত্র বর্ধমান, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ-দফায় দফায় উত্তেজনা

সিপিআইএমের 'আইন অমান্য' ঘিরে রণক্ষেত্র বর্ধমান, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ-দফায় দফায় উত্তেজনা

এদিন বামেদের আইন অমান্য আন্দোলন পূর্ব নির্ধারিত ছিল। CPIM-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের  নেতৃত্বে এদিন দুপুরে বড় নীলপুর মোড়ে বামেদের সভা হয়। তারপর সেখান থেকে মিছিল করে সিপিএম  নেতা-কর্মীরা কার্জন গেটে   জেলাশাসকের অফিসের সামনে আইন অমান্য আন্দোলন করতে যায়। কিন্তু মিছিল ঠেকাতে আগে থেকেই তৎপর ছিল পুলিশ।

সিপিআইএমের 'আইন অমান্য' ঘিরে রণক্ষেত্র বর্ধমান, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ-দফায় দফায় উত্তেজনা

সিপিআইএমের 'আইন অমান্য' ঘিরে রণক্ষেত্র বর্ধমান, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ-দফায় দফায় উত্তেজনা
 
Aug 31, 2022, 


সিপিআইএমের আইন-অমান্য ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বর্ধমানের  প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট  চত্বর। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বামেদের দফায়-দফায় সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলেও পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হয়।পালটা পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। কয়েকজন পার্টি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। এরপরই কার্জন গেটে বিশ্ব বাংলা লোগো উপড়ে ভেঙে দেওয়া হয়।


এই আইন-অমান্য ঘিরে ধুন্ধুমার বর্ধমানে  । একেবারে বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেটে  সিপিএমের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি আইন অমান্য আন্দোলনে পুলিশ বাধা দিলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কর্মীদের দফায়-দফায় সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলেও ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে  নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজন কমিউনিস্ট  নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে, কার্জন গেটে বিশ্ব বাংলা লোগো ভেঙে দেয়  উত্তেজিত সমর্থকরা বলে অভিযোগ । এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জও চালায় পুলিশ।


জানা গিয়েছে, এদিন বামেদের আইন অমান্য আন্দোলন পূর্ব নির্ধারিত ছিল। CPIM-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের  নেতৃত্বে এদিন দুপুরে বড় নীলপুর মোড়ে বামেদের সভা হয়। তারপর সেখান থেকে মিছিল করে সিপিএম  নেতা-কর্মীরা কার্জন গেটে   জেলাশাসকের অফিসের সামনে আইন অমান্য আন্দোলন করতে যায়। কিন্তু মিছিল ঠেকাতে আগে থেকেই তৎপর ছিল পুলিশ। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা ছিল জেলাশাসকের অফিস সহ কার্জন গেট চত্বর।  কর্মীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে গেলে পুলিশ মিছিল আটকায়। পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। এরপরই দফায়-দফায় পুলিশের সঙ্গে বাম কর্মী-সমর্থকদের ধ্বস্তাধস্তিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কার্জন গেট চত্বর। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হন বলেও অভিযোগ। তারপর জলকামান, টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।


 মিছিল ও আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ বেশ কয়েকজন  নেতা-কর্মীকেও গ্রেফতার করে। তারপরই উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে বলে অভিযোগ। উত্তেজিত  সমর্থকেরা কার্জন গেটে থাকা বিশ্ব বাংলা লোগো উপড়ে ভেঙে দেয়। এমনকি দেওয়ালে লাগানো মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সহ হোর্ডিং ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশের ভ্যান লক্ষ্য করেও ইট ছোড়া হয়। তারপর টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটিয়ে, জলকামান ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। গোটা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন CPIM-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পুলিশ পিছনে দাঁড়িয়ে গোটা ঘটনায় প্ররোচনা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সেলিমের। তাঁর কথায়, "মিছিল যখন কার্জন গেট চত্বরে ঢোকে তখন ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘেরা ছিল। কিন্তু পুলিশ সামনে ছিল না। পিছনে লুকিয়ে ছিল। পরে মিছিল ঢুকতেই পরপর টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়।" এমনকি এক পুলিশকর্মী চিৎকার করে লাঠিচার্জ করার নির্দেশ দেন বলেও তাঁর অভিযোগ। পুলিশকে লক্ষ্য করে কর্মীদের ইটবৃষ্টি করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন মহম্মদ সেলিম।


এদিকে, পরপর টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানোর জেরে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো কার্জন গেট  চত্বর। প্রায় আধঘণ্টা ধরে এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি চলার পর বিশাল পুলিশ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকায় অঘোষিত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কেউ কার্জন গেট চত্বরে গেলে একেবারে হাত উপরে তুলে যেতে হচ্ছে। গোটা এলাকা এখনও থমথমে রয়েছে। সিপিআইএমের এই বিক্ষোভ রাজ‍্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা দিল।

এছাড়া পুরুলিয়া ও চুঁচুড়াতে দেবলিনা হেমব্রম ও সুজন চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do