এইমসের প্রধান ডঃ রণদীপ গুলেরিয়াকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দিল্লির অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে অডিট রিপোর্ট একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট। আমার মনে হয় না চারগুণ বেশি অক্সিজেন চাওয়া হয়েছে বলা উচিত। বিষয়টি আপাতত সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে কী বলে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।”
দিল্লি সরকারের অতিরিক্ত অক্সিজেন দাবীর অভিযোগ নাকচ করলেন এইমস প্রধান
মোদি সরকার মাত্র কয়েকদিন আগে কেন্দ্র শাসিত স্বাধীন রাজ্য দিল্লির হাত থেকে সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রিয় সংবিধানের পরিপন্থি। এখন তারা অভিযোগ করেছেন সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে কেজরিওয়াল সরকার নাকি প্রয়োজনের তুলনায় ৪ বেশি সিলিন্ডার দাবী করেছেন।
এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্টের গঠিত টাস্ক ফোর্সের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনের তুলনায় চারগুণ বেশি অক্সিজেন দাবি জানিয়েছিল দিল্লি। অতিরিক্ত পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে ১২টি রাজ্যে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা গিয়েছিল।
অথচ এই বিতর্কে আমল না দিয়ে এইমস প্রধান ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ” অডিটের চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। সুতরাং চারগুণ বেশি অক্সিজেন চাওয়া হয়েছিল, তা এখনই বলা যায় না।”
সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই চম সঙ্কটের মুখে পড়েছিল দিল্লি (Delhi)। অক্সিজেনের অভাবে একাধিক হাসপাতালে রোগী মৃত্যুও ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অক্সিজেনের দাবিতে আদালতের দারস্থও হয়েছিল রাজ্য সরকার। অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের বিবাদ মেটাতেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি এমআর শাহ ১২ সদস্যের একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই টাস্ক ফোর্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন অক্সিজেন বন্টন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে একটি অডিট রিপোর্ট জমা দেয়।
টাস্ক ফোর্সের রিপোর্টে বলা হয়,”দিল্লি সরকার প্রতিদিন যে ১১৪০ মেট্রিক টন অক্সিজেন চেয়েছিল, তা প্রকৃত চাহিদার তুলনায় চারগুণ বেশি ছিল। হাসপাতালগুলিতে গড়ে ২৮৪ থেকে ৩৭২ মেট্রিক টন অক্সিজেন ব্যবহার হত। দিল্লিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করায় অন্যান্য রাজ্যে অক্সিজেন সরবরাহে প্রভাব পড়েছিল।”
এইমসের প্রধান ডঃ রণদীপ গুলেরিয়াকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দিল্লির অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে অডিট রিপোর্ট একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট। আমার মনে হয় না চারগুণ বেশি অক্সিজেন চাওয়া হয়েছে বলা উচিত। বিষয়টি আপাতত সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে কী বলে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।”
এখন প্রশ্ন হল এই টাস্ক ফোর্সে কারা আছে? কি ভিত্তিতে তারা এই রিপোর্ট দিল। আর আইটি সেল এই নিয়ে দেশজুড়ে প্রচার শুরু করেছে। অথচ এখনো নাকি এটা শুধুই অভিযোগ।
যদিও, আম আদমি পার্টির তরফেও এই রিপোর্টকে মিথ্যা বলে দাবি করা হয়। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের কোনও রিপোর্টই নেই। ভুয়ো দাবি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। গতকাল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালও টুইট করে লেখেন, “আমার একমাত্র অপরাধ হল আমি দিল্লির দুই কোটি বাসিন্দার জীবনের জন্য লড়াই করেছিলাম।”
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী।
We hate spam as much as you do