Tranding

11:58 AM - 04 Feb 2026

Home / Education / রাজ্যের ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হবে ? স্কুলশিক্ষা বেসরকারির পথে?

রাজ্যের ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হবে ? স্কুলশিক্ষা বেসরকারির পথে?

বন্ধ হতে চলা এই সব স্কুলের মধ্যে রয়েছে নদিয়ার ১,১০০, বাঁকু়ড়ার ৮৮৬, উত্তর ২৪ পরগনার ৫৩৮, কলকাতার ৫৩১, ঝাড়গ্রামের ৪৭৮, দার্জিলিঙের ৪১৮, মুর্শিদাবাদের ৩২৬, বীরভূমের ৩২০, কালিম্পঙের ৩১২, হুগলির ৩০৩, হাওড়ার ২৭৩, জলপাইগুড়ির ২১৬, মালদার ১৪৬টি স্কুল।

রাজ্যের ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হবে ? স্কুলশিক্ষা বেসরকারির পথে?

রাজ্যের ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হবে ? স্কুলশিক্ষা বেসরকারির পথে?


 March 16, 2023 

স্কুলশিক্ষার পিছনে আর সরকারি অর্থ ঢালতে নারাজ নবান্ন।  রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই চার লক্ষ কমেছে। রাজ্যের ৮,২০৭টি সরকার পরিচালিত স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৩০-এর কম। প্রাথমিকস্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিপূরক ক্লাস করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের। যার অর্থ, রাজ্য সরকার সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা একেবারে বন্ধ করার পরিকল্পনা করে ফেলেছে।


একটি সরকারি চিঠিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে । এই সরকারি চিঠিটি বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার জেলাশাসককে লিখেছেন। যাতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিভিক পুলিশরা ‘অঙ্কুর’ নামে এক প্রকল্পের আওতায় বাঁকুড়ার ৪৬টি স্কুল বা কমিউনিটি সেন্টারে শিশু পড়ুয়াদের পরিপূরক ক্লাস করাবে। জেলাশাসককে এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছেন পুলিশ সুপার। 

 

এর আগেই জানা গিয়েছিল, রাজ্য সরকার পোষিত ৬,৮৪৫টি প্রাথমিক স্কুল ও ১,৩৬২টি উচ্চপ্রাথমিক বন্ধ হতে চলেছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৮,২০৭। যার মধ্যে আবার ৫৩১টি স্কুল রয়েছে কলকাতায়। সম্প্রতি রাজ্যের যে সব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৩০ জনের কম, তার তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা দফতর।

সেই তালিকায় দেখা গিয়েছে, কোথাও পড়ুয়ার সংখ্যা ১৫, কোথাও সেটা ১৮। আবার, মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী, এমন স্কুলও রয়েছে। অথচ, এই সব স্কুলের প্রতিটিতে অন্ততপক্ষে ৩০০ জন পড়ুয়া থাকার কথা। সেই হিসেবে প্রায় পড়ুয়াহীন ৮,২০৭ স্কুলে শিক্ষার্থী প্রায় না-থাকলেও স্থায়ী শিক্ষকের সংখ্যা ১৯,০৮৩ জন। পাশাপাশি, রয়েছে পার্শ্বশিক্ষকও। যার সংখ্যা ১,১৮১।


এর ফলে ওই সব শিক্ষকদের কার্যত বসিয়ে মাইনে দিতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। যাতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই যেসব স্কুলে ৩০ জনের কম পড়ুয়া রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তের পর মাস তিনেক আগে ডিআইদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন।

এই সব স্কুলের পড়ুয়া, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আশপাশের স্কুলে বদলি করে দেওয়া হবে। বন্ধ হতে চলা এই সব স্কুলের মধ্যে রয়েছে নদিয়ার ১,১০০, বাঁকু়ড়ার ৮৮৬, উত্তর ২৪ পরগনার ৫৩৮, কলকাতার ৫৩১, ঝাড়গ্রামের ৪৭৮, দার্জিলিঙের ৪১৮, মুর্শিদাবাদের ৩২৬, বীরভূমের ৩২০, কালিম্পঙের ৩১২, হুগলির ৩০৩, হাওড়ার ২৭৩, জলপাইগুড়ির ২১৬, মালদার ১৪৬টি স্কুল।

স্কুল বন্ধ হওয়ার ফলে কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের কী হবে সেই আলোচনায়। তাঁদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তাঁদের নিকটবর্তী অন্যান্য স্কুলের শূন্য পদগুলিতে নিয়োগ করা হবে।  এমনিতেই স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য উত্তাল। উত্তীর্ণ হয়েও চাকরিতে ডাক না পাওয়া প্রার্থীরা ৬০০ দিনের বেশি রাস্তায় বসে রয়েছেন, সেখানে এই ৮,০০০ স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ২০,৫৩৫টি পদ লোপ পাবে। 

এখন প্রায় ১১,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী কাজ করছেন। বাকিগুলি শূন্য। এঁদের নাকি অন্য স্কুলে নিয়োগ করা হবে। কীভাবে? না ওই স্কুলগুলির শূন্যপদ পূরণ করে। তার মানে আরও প্রায় ১১,০০০ শূন্য পদ কিন্তু পূরণ হয়ে গেল। অর্থাৎ এই ৮,০০০ স্কুল বন্ধের ঘোষণায় প্রায় ৩০,০০০ শূন্য পদ থাকবে না । 

বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩০ এর কম সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে । কিন্তু প্রশ্ন ছাত্রছাত্রীর কমে যাওয়া কখনোই স্কুল বন্ধ করার যুক্তি হতে পারে কি? , বিশেষ করে প্রাথমিক স্কুল বন্ধ করার ক্ষেত্রে।  চূড়ান্ত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় রাজ্যের সর্বত্র জনঘনত্ব এক নয়। ফলে একই নিয়ম সর্বত্র লাগু করা সঠিক হবে কিনা ভেবে দেখা দরকার । ঠিক যেমন কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গের গ্রীষ্মের দিকে নজর রেখে সারা রাজ্যে গরমের ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে । কিন্তু শিক্ষাবিদদের বক্তব্য  মে মাসের প্রথমদিকে উত্তরবঙ্গে এমন কিছু গরম পড়ে না যে স্কুল বন্ধ রাখতে হবে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই ছুটিগুলির সময় নির্ধারণ করার অধিকার স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে ছিল।

সেই সঙ্গে শহরাঞ্চলে কিছু স্কুল ইংরেজি মাধ‍্যমের প্রবনতার ফলে বন্ধ হলেও গ্রামাঞ্চল বা মফঃস্বল অঞ্চলে পড়ুয়া সংখ্যা কম হলেও তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করে দরিদ্র  ড্রপ আউটদের স্কুলমুখী করার চেষ্টা করার আবেদন রেখেছেন শিক্ষিত সমাজ। 


যদিও  সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, এরকম কোনও নির্দেশিকা শিক্ষা দফতর জারি করেনি। রাজ্যে কোনও স্কুল বন্ধ হচ্ছে না। পুরোটাই গুজব। রাজনৈতিক স্বার্থে এই গুজব ছড়ানো হয়েছে।

প্রশ্ন হল, স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যখন লাগাতার প্রচার হয়েছে তখন কেন কোনও বিবৃতি জারি করেনি শিক্ষা দফতর? কেন সাংবাদিকের প্রশ্ন করার অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী? না কি সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতি বিরূপ বুঝে আপাতত তা স্থগিত রেখেছে সরকার? সময় এর উত্তর দেবে।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do