শুধু তাই নয়, তিনি ট্রাম্পের রাশিয়ার তেল নিয়ে দ্বিচারিতা নিয়েও সরব হন। তাঁর অভিযোগ— ‘‘চিন বিপুল পরিমাণে রুশ তেল কিনছে, অথচ মার্কিন প্রশাসন তাদের শুল্কে ছাড় দিচ্ছে। কিন্তু ভারতকে একই সঙ্গে রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। এটি অন্যায় এবং কৌশলগত দিক থেকে ভ্রান্ত পদক্ষেপ।’’
ট্রাম্পের চরম ভারত বিরোধীতা ও শুল্কনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনায় মার্কিন সেনাকর্তা
রবি, 24 আগস্ট 2025
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ঘিরে ফের বাড়ছে টানাপোড়েন। সাবেক সেনাকর্তা, প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, এমনকি জনপ্রিয় মার্কিন নেত্রী নিকি হ্যালি ও প্রাক্তন গুপ্তচর আধিকারিকরা সতর্ক করেছেন— ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি (Trump Tariff Policy) যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে আমেরিকাকে ভারতকে হারানোর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
নিকি হ্যালি স্পষ্ট সতর্ক করেছেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে সেটি কৌশলগত বিপর্যয়ের সামিল হবে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত চিনকে মোকাবিলা করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রেসিডেন্ট উল্টে বেজিঙের দিকেই ঝুঁকছেন। এতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’’
শুধু তাই নয়, তিনি ট্রাম্পের রাশিয়ার তেল নিয়ে দ্বিচারিতা নিয়েও সরব হন। তাঁর অভিযোগ— ‘‘চিন বিপুল পরিমাণে রুশ তেল কিনছে, অথচ মার্কিন প্রশাসন তাদের শুল্কে ছাড় দিচ্ছে। কিন্তু ভারতকে একই সঙ্গে রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে বলা হচ্ছে। এটি অন্যায় এবং কৌশলগত দিক থেকে ভ্রান্ত পদক্ষেপ।’’
জন বোল্টন, যিনি ট্রাম্পের আমলে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন, তিনিও এক সাক্ষাৎকারে জানান— ‘‘ভারতকে দীর্ঘদিন রাশিয়া ও চিনের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক সাফল্যের পর হঠাৎ করে সম্পর্কের অবনতি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’’ তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হবে।
এদিকে, জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা মেরি মেলিবেনও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে লিখেছেন— ‘‘ভারত আমেরিকার প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। তবেই জটিলতা কেটে যাবে।’’ তিনি ২০২৩ সালে মোদীর মার্কিন সফরে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিলেন।
বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও সম্প্রতি রাশিয়ার মঞ্চ থেকে কড়া ভাষায় আমেরিকাকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা সবচেয়ে বেশি রুশ তেল কিনছি না, এই তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে চিন। অথচ নয়াদিল্লির উপরই নিষেধাজ্ঞার হুমকি আসছে।’’ তিনি স্পষ্টই বলেন, ‘‘মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কোনও মাথামুন্ডু নেই।’’
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। জুলাইয়ে ভারতীয় পণ্যে ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছে। ফলে ২৭ আগস্ট থেকে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্য বিক্রি করা আরও কঠিন হতে চলেছে। এর ফলে India-US Trade Relations গভীর সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামরিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাবেচায় আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ভারত। সেই সম্পর্ক যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।
We hate spam as much as you do