Tranding

03:30 PM - 04 Feb 2026

Home / World / উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী ইয়ামান্দু ওরসি জয়ী

উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী ইয়ামান্দু ওরসি জয়ী

রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত টানটান লড়াইয়ের পর ৫২.০৮ শতাংশ পেয়ে জয়ী হয়েছেন ব্রড ফ্রন্ট (ফ্রেন্তে অ্যামপ্লিও)-র রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ইয়ামান্ডু ওরসি। দক্ষিণপন্থী ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান কোঅ্যালিশান’র প্রার্থী আলভারো দেলগাডো পেয়েছেন ৪৭.৯২ শতাংশ ভোট। ইয়ামান্দু ওরসি ১১,২৩, ৪২০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আলভারো দেলগাদো পেয়েছেন ১০,৪২,০০১ ভোট।

উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী ইয়ামান্দু ওরসি জয়ী

উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী ইয়ামান্দু ওরসি জয়ী

25 Nov 2024


রক্ষণশীলদের পাঁচ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে উরুগুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ ইয়ামান্দু ওরসি। গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শেষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়।


উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্রেন্টে অ্যাম্পলিও অ্যালায়েন্সের (ব্রড অ্যালায়েন্স) প্রার্থী ছিলেন ইয়ামান্দু ওরসি। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলে ন্যাশনাল পার্টির আলভারো দেলগাদো। তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুইস লেকাইয়ে পাউর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী রিপাবলিকান জোটের সদস্য।


গতকাল উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে ভোট হয়। প্রথম ধাপের ভোট হয়েছিল গত ২৭ অক্টোবর। দ্বিতীয় ধাপে ইয়ামান্দু ওরসি ও আলভারো দেলগাদোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।


দেলগাদো নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে ইয়ামান্দু ওরসিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


উরুগুয়ের নির্বাচনী আদালত জানিয়েছেন, ৯৪. ৪ % ভোট গণনা করা হয়েছে। শনিবার ভোটদানের পর থেকে শুরু হয় গণনা। ফলপ্রকাশের প্রথম রাউন্ডে ওরসি ও তাঁর উপ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ক্যারোলিন কোস ৪৩.৮৬ শতাংশ ভোট পেয়ে অন্য সমস্ত প্রার্থীদের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে ছিলেন। তবে এদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুযায়ী কোন প্রার্থী ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট না পেলে জিতবেন না। সেই বাবদ সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকা ওরসি ও দেলগাডোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে। 

রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত টানটান লড়াইয়ের পর ৫২.০৮ শতাংশ পেয়ে জয়ী হয়েছেন ব্রড ফ্রন্ট (ফ্রেন্তে অ্যামপ্লিও)-র রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ইয়ামান্ডু ওরসি। দক্ষিণপন্থী ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান কোঅ্যালিশান’র প্রার্থী আলভারো দেলগাডো পেয়েছেন ৪৭.৯২ শতাংশ ভোট। ইয়ামান্দু ওরসি ১১,২৩, ৪২০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আলভারো দেলগাদো পেয়েছেন ১০,৪২,০০১ ভোট।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ভোটবাক্সে জনসাধারণের সরকার বিরোধী ক্ষোভ উপচে পড়েছে।
মেক্সিকো, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডরের মতো আরও বেশ কয়েকটি দেশের পর লাতিন আমেরিকায় নয়া-উদারবাদীদের শেষ ঘাঁটিগুলির মধ্যে একটিও বেদখল হলো।

বিদায়ী দক্ষিণপন্থী রাষ্ট্রপতি লুইস লাকাল পোউ’র গত পাঁচ বছরের শাসনকালে অর্থনৈতিক সঙ্কট ও দেশে অপরাধ প্রবণতা মারাত্মক ভাবে বাড়তে দেখা গেছে। ছাঁটাই ও বেকারির পাশাপাশি, এই সময়কালে সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে জরুরি জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। তার জেরে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিনের সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারি ও ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কারণে উরুগুয়ের অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে পড়েছিল। তবে সে পরিস্থিতি থেকে দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রচারে উভয় প্রার্থী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করার পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনের অঙ্গীকার করেছিলেন।


কোভিড-উত্তর পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতায় ব্যাপক হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে খড়া পরিস্থিতি, মন্দার আর সঙ্কটের সুযোগে বাড়তে থাকা মাদক পাচার, কালো বাজারি ও দুর্নীতিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। 
এই সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা করতে সামাজিক পরিষেবাগুলি আরও সম্প্রসারিত করার ডাক দেন ওরসি ও ব্রড ফ্রন্ট। নয়া উদারবাদী ‘ব্যয় সঙ্কোচন নীতি’-র বিরোধিতা করেই সমর্থন বাড়িয়েছে ব্রড ফ্রন্ট। এর আগে প্রায় ১৫ বছর ধরে বামপন্থীদের ক্ষমতায় থাকার দরুণ উরুগুয়ের নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তি অংশের মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা এক অন্য মাত্রায় পৌঁছায়। গত ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ‘পেপে’ মুজিকার শাসনকাল উরুগুয়ের বামপন্থী চেতনা বৃদ্ধি ও কল্যাণকর রাষ্ট্রীয় কাঠামো নির্মাণে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ব্রড ফ্রন্টের শাসনকালে, লাতিন আমেরিকায় মধ্যে সর্বপ্রথম এদেশেই গর্ভপাত ও সমলৈঙ্গিক বিবাহকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়। 
‘সাম্য, ঐক্য ও স্বাধিনতা’ রক্ষার নির্বাচনী লড়াইয়ে বামপন্থীদের মূল ভিত্তি ছিল অসংগঠিত শ্রমিক, খুচরো ব্যবসায়ী, মধ্যবিত্ত ও বিভিন্ন প্রান্তিক অংশের মানুষ। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, নানা রকম কল্যাণকর নীতির মাধ্যমে মন্দা পরিস্থিতির নিষ্পত্তি এবং মাদক পাচার সংক্রান্ত অপরাধ মূলক কার্যকলাপ দমনের মতো প্রতিশ্রুতিকেই সামনে রেখে লড়েন ওরসি। দক্ষিণপন্থীদের শাসনকালে নয়া-উদারবাদী নীতির শিকার হয়ে, সমাজের যেই সমস্ত অংশ আরও বেশি করে কোণঠাসা হয়েছেন, চলতি পরিস্থিতির হাল ফেরাতে তারাই বামপন্থীদের ভরসা করে ভোট দিয়েছেন।
জয়ের পর এক বক্তৃতায় মুজিকার শুরু করা বিভিন্ন সমাজকল্যাণ মূলক প্রকল্প ও পরিষেবার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওরসি। সমাজের প্রান্তিক অংশের মানুষের কাছে সেই সমস্ত সুযোগ সুবিধা পর্যাপ্ত আকারে পৌঁছানোই হবে তার সরকারের লক্ষ্য। পাশাপাশি মজুরি বৈষম্য খতম করা ও কর্মসংস্থানে বৃদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওরসি। সামাজিক বিভাজন কমিয়ে, দেশে সম্প্রীতির বাতাবরণ আরও বিকশিত করার ডাক দিয়ে রবিবার গভীর রাতে এক বক্তৃতায় ওরসি বলেন,‘‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি সমাজ এবং দেশে সমন্বয়ের বার্তা দিতে চাই। এই দেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ভাবে কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’’ এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে, দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাকেই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন ওরসি। 
প্রসঙ্গত নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়ামান্ডু ওরসির রাজনৈতিক জীবন শুরু উরুগুয়ের কিংবদন্তী বামপন্থী রাষ্ট্রপতি এবং প্রাক্তন গেরিলা জোসে মুজিকার ছাত্র হিসেবে। ওরসির নির্বাচনী প্রচারেও মুজিকা অংশগ্রহণ করে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। বছর ৫৭-র ওরসি প্রথম জীবনে ছিলেন ইতিহাসের শিক্ষক। 


পরে এদেশের কানেলোনেস প্রদেশের মেয়র হিসেবেও তিনি নির্বাচিত হন।   
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও উরুগুয়ের সংসদের দুটি কক্ষ, সেনেট ও ‘চেম্বার অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ এই মরশুমে ছিল ভোটগ্রহণ। সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মিললেও, ‘চেম্বার অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’- এ ব্রড ফ্রন্ট সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যে কোন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে, সংকীর্ণতাকে বিসর্জন দিয়ে ‘অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি’-র ভিত্তিতে বামপন্থীদের সমঝোতা ও জোট নির্মাণের পথকে বেছে নিতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ। 


রাজনৈতিক মতপার্থক্যের উর্ধ্বে গিয়ে ওরসি সেই পথই অবলম্বন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, উরুগুয়ের ইতিহাসে এই ধারার রাজনৈতিক অধ্যয়ন একেবারেই নতুন

Your Opinion

We hate spam as much as you do