সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির প্রশ্ন বিঁধেছে সীতারামনের বাজেটকে। তিনি বলেন বাজেট দেশের ১০% মানুষের জন্য। ইয়েচুরির হেঁয়ালি জিজ্ঞাস্য, ‘কেন বাজেটে অতি ধনীদের করবৃদ্ধির কথা নেই?’
দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের আরো সংকট এই কেন্দ্রীয় বাজেটে অভিযোগ বিরোধীদের
কেন্দ্রীয় বাজেটকে সমালোচনায় ময়দানে বিরোধীরা। এই বাজেট দরিদ্র ও মধ্যবিত্তকে সমস্যা থেকে বাঁচার রাস্তা দেখাতে পারেনি। এই বাজেটে তাই ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ কিছুই নেই। সমালোচনার ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, মঙ্গলবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের সারমর্ম রইল এটাই।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) টুইটে লেখেন, "মোদী সরকারের শূন্য সমষ্টি বাজেট! বেতনভোগী শ্রেণী, মধ্যবিত্ত, দরিদ্র ও বঞ্চিত, যুবক, কৃষক, এমএসএমই সেক্টরের জন্য কিছুই নেই।"
সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির প্রশ্ন বিঁধেছে সীতারামনের বাজেটকে। তিনি বলেন বাজেট দেশের ১০% মানুষের জন্য।
ইয়েচুরির হেঁয়ালি জিজ্ঞাস্য, ‘কেন বাজেটে অতি ধনীদের করবৃদ্ধির কথা নেই?’
বামফ্রন্ট নেতাদের বক্তব্য, করোনা অতিমারিতে বহু মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। অথচ ধনীদের সম্পদ বেড়েছে। তারপরও মঙ্গলবারের বাজেট কর্মসংস্থানের পথ যেমন দেখাতে পারেনি। তেমনই দেশের আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটাতে ধনীদের করবৃদ্ধিতেও ব্যর্থ হয়েছে বাজেট।
কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারির কথায়, এই বাজেট ‘অবাস্তবোচিত’ এবং ‘অনুপযুক্ত’। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন আবার স্বভাবসিদ্ধ কৌশলেই বাজেট নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন। ডেরেকের কথায় কটাক্ষ , এটা ‘প্রধানমন্ত্রীর যত্নের বাজেট।’
সামনেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শ্বাস ফেলছে। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের জন্য এই বাজেট প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেবে। এমন আশা ছিল অনেকেরই। সেই আশা পূরণ না-হওয়াকেই সমালোচনায় তুলে ধরতে চেয়েছেন বিরোধীরা। চলতি বছরে যে রাজ্যগুলোয় নির্বাচন, তার অনেকগুলি কৃষিনির্ভর। বাজেটে কৃষকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার জোর দেবে, তেমনটা স্বভাবতই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু, তা হয়নি বলেই দাবি বিরোধীদের।
শুধু কৃষকরাই নন। মধ্যবিত্ত, বিশেষ করে চাকুরিজীবী সমাজ এই বাজেট থেকে কিছুই পায়নি। এই অভিযোগ করে কংগ্রেস নেতা সুরজেওয়ালা বলেন, ‘ অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী ফের একবার প্রত্যক্ষ পরের ব্যাপারে হতাশ করেছেন। এটা দেশের চাকুরিজীবী ও মধ্যবিত্তের সঙ্গে প্রতারণা।’ সুরজেওয়ালার কথায়, ‘এটা আসলে অপ্রাপ্তির বাজেট।’
বিরোধীদের অভিযোগ, কৃষক এবং মধ্যবিত্তের মতো এই বাজেটে বঞ্চিত হয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। শুধু তাই না, দেশবাসীর আর্থিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে বাজেট ভার্চুয়াল লেনদেনে ছাড়পত্র দিয়েছে সরকার। সংসদে বিল পেশ না-করেই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ‘তাহলে কি জনগণ এবার থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কর দেবেন?’ কটাক্ষের সুরেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন ‘হীরক রাজা’র সঙ্গে মোদি সরকারের তুলনা টেনেছেন। ডেরেকের কটাক্ষ, ‘হীরে এই সরকারের সেরা বন্ধু।’
We hate spam as much as you do