সিপিআইএম’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের নানা এলাকায় যা ঘটে চলেছে তাতে পুলিশমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ডাহা ফেল। রাজ্যবাসীর শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য রক্ষা করতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ। কিন্তু তাই বলে রাষ্ট্রপতি শাসনের নামে রাজ্যপালের হাতে ক্ষমতা এলে তার কোনও সমাধান হবে না। এ রাজ্যের মানুষের অতীতে রাষ্ট্রপতি শাসনের কুৎসিত অভিজ্ঞতা আছে। রাজ্যকে ভেঙে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা রোখা যায়নি। এখন দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মণিপুরে ডাবল ইঞ্জিন সরকার থাকার পরও মানুষের জীবন বিপন্ন। এরাজ্যের মানুষের জীবনের সুরক্ষার দায়িত্ব নির্বাচিত রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে।
'পশ্চিমবঙ্গের সরকার ডাহা ফেল, তাবলে রাষ্ট্রপতি শাসন সমাধান নয়' - সেলিম শুভঙ্করের মত
May 5, 2025
সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা ছড়ায়। মুর্শিদাবাদ জেলায় হিংসায় প্রাণ গিয়েছে তিনজনের। ক্ষতিগ্রস্ত হন অনেকেই। এরই প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার পর দিল্লিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট পেশ করেছেন রাজ্যপাল। তাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি শাসনের বিষয়টিরও উল্লেখ রয়েছে বলে খবর, যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূলের তরফে তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্যপালের 'পলিটিক্যাল অ্যাসাইনমেন্ট' বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, সিপিএম এবং কংগ্রেসের তরফেও এই সুপারিশের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।
সিপিআইএম’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের নানা এলাকায় যা ঘটে চলেছে তাতে পুলিশমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ডাহা ফেল। রাজ্যবাসীর শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য রক্ষা করতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ। কিন্তু তাই বলে রাষ্ট্রপতি শাসনের নামে রাজ্যপালের হাতে ক্ষমতা এলে তার কোনও সমাধান হবে না। এ রাজ্যের মানুষের অতীতে রাষ্ট্রপতি শাসনের কুৎসিত অভিজ্ঞতা আছে। রাজ্যকে ভেঙে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা রোখা যায়নি। এখন দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মণিপুরে ডাবল ইঞ্জিন সরকার থাকার পরও মানুষের জীবন বিপন্ন। এরাজ্যের মানুষের জীবনের সুরক্ষার দায়িত্ব নির্বাচিত রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে। রাষ্ট্রপতি শাসন কোনও সমাধান নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দিয়েছে, রাষ্ট্রপতি শাসন আরও গভীর সমস্যা।’’
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাষ্ট্রপতির শাসন জারির জন্য সংবিধানের 356 অনুচ্ছেদ প্রয়োগের যে সুপারিশ করেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভারতের সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল চেতনার বিরুদ্ধে এক সরাসরি আঘাত। এটি একদিকে যেমন সংবিধানসম্মত নয়, অন্যদিকে এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ, যা ভারতের সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী। পশ্চিমবঙ্গের জনগণ একটি নির্বাচিত রাজ্য সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। যদিও বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে, কংগ্রেস দল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকারকে সম্মান করে। একটি নির্বাচিত রাজ্য সরকারের আইন প্রণয়ন ও শাসন ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার জন্য একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি শাসন জারির চেষ্টাকে আমরা স্পষ্টভাবে নিন্দা জানাই।"
তাঁর দাবি, কংগ্রেসও তৃণমূল পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, কিন্তু সেই লড়াই চলছে গণতান্ত্রিক পথে ৷ এই সরকারের ব্যর্থতার জবাব দেবে জনগণই, ব্যালটের মাধ্যমে। অনুচ্ছেদ 356 মূলত একটি জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে প্রণীত হয়েছিল, যা কেবলমাত্র পূর্ণ সংবিধানিক ভাঙন ঘটলে প্রয়োগ করার কথা। বর্তমান সুপারিশে সেই ধরনের কোনও স্বচ্ছ বা যুক্তিযুক্ত প্রমাণ নেই যা সংবিধানিক ব্যর্থতা প্রমাণ করে; বরং এতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ পাওয়া যায়।
We hate spam as much as you do