২০১৯ সালে ‘চন্দ্রযান ২’-এর সঙ্গেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল ভারতের চাঁদের মাটি ছোঁয়ার স্বপ্ন। একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে শিবনের চোখ। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি আশা। বরং উঠে দাঁড়িয়ে শুরু হয়েছিল ইতিহাস সৃষ্টির প্রস্তুতি। আর এই প্রস্তুতিতেই সামিল হয়েছিলেন এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় জন প্রাক্তনী। সায়ন চট্টোপাধ্যায়, অমিতাভ গুপ্ত এবং অনুজ নন্দী সহ আরও তিন জন। তারাও এই মিশনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন। একদিকে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র গৌতম মানি এবং নরেন সামন্ত। অন্যদিকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র অখিলেশ পান্ডে।
‘চন্দ্রযান ৩’-এর সাফল্যে বড় অবদান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের
24 আগষ্ট 2023
মেধা কেন্দ্র যাদবপুরকে রক্ষা করতে হবে।
বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার অকাল মৃত্যু এবং র্যাগিং কান্ডের জেরে বিতর্কের বাণে জর্জরিত এই বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু অন্ধকারের বাইরেও তো থাকে আলো। বুধবার আপামর ভারতবাসীর জন্য এক গর্বের দিন। কারণ আজ চাঁদের বুকে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারত। সফল হয়েছে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan-3)-এর অভিযান। এই সাফল্যের নেপথ্যে অবদান রয়েছে এই বহু চর্চিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরও।
২০১৯ সালে ‘চন্দ্রযান ২’-এর সঙ্গেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল ভারতের চাঁদের মাটি ছোঁয়ার স্বপ্ন। একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে শিবনের চোখ। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি আশা। বরং উঠে দাঁড়িয়ে শুরু হয়েছিল ইতিহাস সৃষ্টির প্রস্তুতি। আর এই প্রস্তুতিতেই সামিল হয়েছিলেন এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় জন প্রাক্তনী। সায়ন চট্টোপাধ্যায়, অমিতাভ গুপ্ত এবং অনুজ নন্দী সহ আরও তিন জন। তারাও এই মিশনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন। একদিকে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র গৌতম মানি এবং নরেন সামন্ত। অন্যদিকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র অখিলেশ পান্ডে।
চাঁদের বুকে ‘সফট ল্যান্ডিং’ নিয়ে কাজ করেছিলেন সায়নবাবু এবং অমিতাভবাবু। আর অন্যদিকে অনুজবাবুতো সরাসরিভাবে যুক্ত ইসরোর সঙ্গে। জানা গিয়েছে ‘চন্দ্রযান ৩’ (Chandrayaan-3)- এর ক্যামেরার ডিজাইন করেছেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন অনুজবাবু। চাঁদের মাটি ছোঁয়ার সময় ল্যান্ডার কোনওভাবে যাতে ভেঙে না যায় তার জন্য সফট ল্যান্ডিং নিয়ে হয় বিস্তর গবেষণা এবং সেই কাজেই দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন সায়নবাবু এবং অমিতাভ বাবু। চাঁদের যে অংশে ল্যান্ডারটি নামবে সেখানে কোনও বোল্ডার বা পাথর আছে কি না সেই সবকিছুই তার কৌনিক দৃষ্টি দিয়ে পরখ করে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেহশনের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সায়ন চট্টোপাধ্যায়। এদিন পাখির পালকের মতো ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ যে চাঁদের বুকে অবতীর্ণ হয়েছে তার জন্য অমিতাভবাবুর কৃতিত্বও অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়েছিলেন এই নিয়ে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই চাঁদের মাটিতে পা দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ভেঙে পড়ে রাশিয়ার পাঠানো চন্দ্রযান ‘লুনা-৩’। ফলে ‘চন্দ্রযান ৩’ও সঠিকভাবে অবতীর্ণ হতে পারবেন কি না সেই নিয়ে বাড়ছিল উদ্বেগ। কিন্তু সে সব উদ্বেগ এখন অতীত। ভারত এখন ব্যস্ত তার উদযাপনের জন্য। বুধবার ঠিক সন্ধ্যা ৬ টা বেজে ৪ মিনিটে চাঁদের মাটি ছুঁয়েছে ‘বিক্রম’। একদিকে যেমন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জয়ধ্বজা উড়িয়েছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। একইসঙ্গে সফল ভাবে চাঁদে অবতীর্ণ হয়ে সফলতম দেশগুলির তালিকায় চতুর্থ স্থানে নাম লিখিয়েছে ভারত।
We hate spam as much as you do