কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে, ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির নেতৃত্বাধীন ওয়াইএসআরসিপি সরকার জোর দিয়েছিল যে তারা আম্বেদকরের নামে নতুন কোনসিমা জেলার নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে না। প্রবীণ সিপিআই নেতা সি কে নারায়ণ বলেছেন যে এই পদক্ষেপটি অনগ্রসর শ্রেণী এবং কাপুসকে একত্রিত করেছে কারণ “তারা চায় না তাদের জেলার নাম দলিত আইকনের সঙ্গে যুক্ত হোক”।
অন্ধ্রে আম্বেদকর নামে জেলা নিয়ে বিক্ষোভে অগ্নিকাণ্ড ২০০ জন গ্রেফতার
কোণাসীমা জেলার নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে উঠে শাসকদলের মন্ত্রী, বিধায়কদের বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা।
কোণাসীমা জেলার নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে উঠে শাসকদলের মন্ত্রী, বিধায়কদের বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। সেই সময় মন্ত্রী, বিধায়কের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পূর্ব গোদাবরী নামে পরিচিত এই জেলার নাম সদ্য বদল করা হয়েছে। এরপর গত ৪ এপ্রিল এই জেলার নাম পরিবর্তন করে তা বিআর আম্বেদকরের নামে রাখার প্রস্তাব করা হয়। এই ঘটনা ঘিরে মঙ্গলবার কোণাসীমা সাধনা সমিতি এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিপ্তে ইতিমধ্যেই ২০০ জনকে গ্রেফতার করেছে কোণাসীমা জেলার পুলিশ। পুলিশ সুপার কে সুব্বা রেড্ডি বলেছেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় ইতিমধ্যে ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দোষীদের শনাক্ত করা হয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশের পুলিশের ডিআইজি কে ভি রাজেন্দ্রনাথ রেড্ডি বলেছেন সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১০ জন আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারকে জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিভিন্ন রেঞ্জ থেকে কোণাসীমা জেলায় নিয়ে আসা হয়েছে।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, দলিতের তরফে সেদিনের হিংসার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ সেই অনুমতি দেয় নি। তাদের প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল না হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সেদিনের ঘটনার প্রেক্ষিপ্তে ৭ টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে।
কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে, ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির নেতৃত্বাধীন ওয়াইএসআরসিপি সরকার জোর দিয়েছিল যে তারা আম্বেদকরের নামে নতুন কোনসিমা জেলার নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে না। প্রবীণ সিপিআই নেতা সি কে নারায়ণ বলেছেন যে এই পদক্ষেপটি অনগ্রসর শ্রেণী এবং কাপুসকে একত্রিত করেছে কারণ “তারা চায় না তাদের জেলার নাম দলিত আইকনের সঙ্গে যুক্ত হোক”।
যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিপ্তেও সরকার এখুনি নাম পরিবর্তনের ভাবনা স্থগিত রেখেছে। বিভিন্ন অনগ্রসর শ্রেণীর পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পর্যটন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নাম বদল না করার দাবি জানানো হয়েছে কাপুস এবং কিছু অনগ্রসর গোষ্ঠীর তরফে। এ বিষয়ে একাধিক সংগঠন গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ আন্দোলনে সামিল হয়েছে। জাতপাতের রাজনীতি ছাড়াও, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি কোনাসীমা নাম পরিবর্তন অঞ্চলের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ণ করবে।
গত মাসেই (এপ্রিল) জগনমোহন রেড্ডির নেতৃত্বাধীন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ১৩টি নতুন জেলা তৈরির কথা ঘোষণা করে। পূর্ব গোদাবরী জেলা ভেঙে তৈরি হওয়া কোনাসীমা সেই নতুন জেলাগুলোর একটি। এই জেলায় বিপুলসংখ্যক তপশিলি জাতির বাসিন্দা রয়েছেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই জেলার নামকরণ বিআর আম্বেদকরের নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। কিন্তু, স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাব এবং সমিতি কোনাসীমা নাম অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানায়। যদিও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী বিশ্বরূপ এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটিয়েছেন বলে মানতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, গোটা ঘটনার পিছনে রয়েছে তেলুগু দেশম পার্টি।
We hate spam as much as you do