Tranding

11:32 AM - 04 Feb 2026

Home / National / তিস্তা সহ আরও দুজন গুজরাট দাঙ্গায় মোদী  বিরোধী অফিসারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ

তিস্তা সহ আরও দুজন গুজরাট দাঙ্গায় মোদী  বিরোধী অফিসারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ

২০০২ সালের দাঙ্গায় তাঁদের ভূমিকার জন্য গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তাঁর মন্ত্রী পরিষদ এবং আমলাদের ক্লিনচিট বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের ভিত্তিতে একই অভিযোগে আহমেদাবাদ ডিটেকশন অফ ক্রাইম ব্রাঞ্চ তিস্তা শীতলবাদ, শ্রীকুমার ও সঞ্জীব ভাটের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

তিস্তা সহ আরও দুজন গুজরাট দাঙ্গায় মোদী  বিরোধী অফিসারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ

তিস্তা সহ আরও দুজন গুজরাট দাঙ্গায় মোদী  বিরোধী অফিসারের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ


Sep 21, 2022 

তিস্তা শিতলাবাদ সহ আগাগোড়া মোদী বিরোধী দুই আইএএস অফিসার সঞ্জীব ভাট এবং আর বি শ্রীকুমারের বিরুদ্ধে চার্জসিট দেওয়া হল।


গুজরাট দাঙ্গায় তিস্তা শীতলবাদ, প্রাক্তন ডিজিপি শ্রীকুমার ও প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। এই তিন জনের মধ্যে তিস্তা শীতলবাদ বর্তমানে জামিনে মুক্ত। অবসরপ্রাপ্ত ডিজিপি আর শ্রীকুমার ২৫ জুন থেকে জেল হেফাজতে আছেন। সঞ্জীব ভাট আছে পালানপুর জেলে। ১৯৯০ সালে এক বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় সঞ্জীব ভাট ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে তথ্য-প্রমাণ সাজানোর অভিযোগে এই তিন জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল গুজরাটের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। গুজরাট পুলিশের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল দীপন ভদ্রন সিট এবং গুজরাট পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখার (এটিএস) প্রধান। তিনি সংবাদমাধ্যমকে  জানিয়েছেন যে মঙ্গলবার আহমেদাবাদের একটি আদালতে তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। শীতলবাদ ২ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। অন্যদিকে শ্রীকুমার, ২৫ জুন তাঁদের গ্রেফতারের পর থেকেই জেল হেফাজতে রয়েছেন। তিনি গুজরাট হাইকোর্টে একটি জামিনের আবেদন করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর যার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

শীতলবাদ, শ্রীকুমার এবং ভাটের বিরুদ্ধে ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪৬৮ (জালিয়াতি), ৪৭১ (জাল নথি বা ইলেকট্রনিক রেকর্ডকে আসল হিসেবে ব্যবহার করা), ১৯৪ (অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রমাণ দেওয়া বা প্রমাণ জাল করা), ক্যাপিটাল অফেন্স, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২১১ (আঘাত করার অভিপ্রায়ে অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ) এবং ২১৮ (সরকারি কর্মচারীর ভুল রেকর্ড তৈরি করা বা ব্যক্তিকে শাস্তি এবং সম্পত্তির বাজেয়াপ্ত হওয়া থেকে বাঁচানোর অভিপ্রায়ে নথি লেখা)-র অভিযোগে চার্জশিট দায়ের করা হয়েছে।

২০০২ সালের দাঙ্গায় তাঁদের ভূমিকার জন্য গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তাঁর মন্ত্রী পরিষদ এবং আমলাদের ক্লিনচিট বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের ভিত্তিতে একই অভিযোগে আহমেদাবাদ ডিটেকশন অফ ক্রাইম ব্রাঞ্চ তিস্তা শীতলবাদ, শ্রীকুমার ও সঞ্জীব ভাটের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

 

গুজরাত দাঙ্গায় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মুসলিমদের উপর যাবতীয় আক্রোশ যাতে হিন্দুরা মিটিয়ে নিতে পারেন, দাঁড়িয়ে থেকে মোদী নিজে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তিন দশক পুরনো একটি মামলায় সেই আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভট্টকে এ বার যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছিল জামনগর দায়রা আদালত।

জামনগর থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন এক বন্দির মৃত্যুতে সঞ্জীব ভট্টের বিরুদ্ধে খুনের মামলা চলছিল। সেই মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে বৃহস্পতিবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সাজা হয়েছে আর এক প্রাক্তন আইপিএস অফিসার প্রবীণসিন জালারও। দোষী সাব্যস্ত আরও ছয় পুলিশ অফিসারের সাজা ঘোষণা এখনও বাকি।

 

১৯৯০ সালের ঘটনা। গুজরাতের জামনগর জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে মোতায়েন ছিলেন সঞ্জীব ভট্ট। সেইসময় লালকৃষ্ণ আডবাণী এবং তাঁর সমর্থকদের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধে জামজোধপুর এলাকায়। সেই ঘটনায় প্রায় ১৫০ জনকে আটক করেন সঞ্জীব ভট্ট। তাঁদের মধ্যে প্রভুদাস বৈষ্ণণী নামের এক ব্যক্তিও ছিলেন। ছাড়া পাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয়। হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশি নির্যাতনেই প্রভুদাসের মৃত্যু হয়েছে বলে সেইসময় দাবি করে তাঁর পরিবার। পরবর্তী কালে এ নিয়ে থানায় এফআইআরও দায়ের করেন প্রভুদাসের ভাই। তাতে সঞ্জীব ভাট এবং আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি।


সেই মামলা চলাকালীন ২০১১ সালে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সঞ্জীব ভাটকে সাসপেন্ড করা হয়। ২০১৫-র অগস্ট মাসে সরকারি গাড়ি অপব্যবহারের অভিযোগে বরখাস্তও করা হয় তাঁকে।

বরাবরই নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের কট্টর সমালোচক সঞ্জীব ভট্ট। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং আরও দু’জনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার তদন্ত বিপথে চালিত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। এমনকি গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাঙ্গায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ভট্ট। যদিও শীর্ষ আদালত নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল সিট সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়। মোদ নিজেও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আরবি শ্রীকুমার কে?

একজন প্রাক্তন ডিআইজি, শ্রীকুমার ১৯৭১ সালে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন এবং ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। শ্রীকুমার ২০০২ সালের দাঙ্গার সময় গুজরাটে আর্মড ফোর্সের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন এবং পরে ডিজিপি হন।

তিনি ২০০২ সালের দাঙ্গার তদন্তের জন্য গুজরাট সরকার কর্তৃক গঠিত নানাবতী-মেহতা কমিশনের সামনে হলফনামা দাখিল করেছিলেন, যেখানে  তিনি দাঙ্গায় উত্তেজনা বাড়াতে আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলির জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন এবং মদত দেবার জন্য  আমলারা কীভাবে তাকে শেখায়"তার রিপোর্ট করেন। এই দাবিগুলি পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেয়।

পরে, গুজরাট সরকার তাকে ডিরেক্টর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিতে অস্বীকার করে। তিনি তার মামলাটি সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের (ক্যাট) কাছে নিয়ে যান যেটি সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে তার পক্ষে রায় দেয়। ২০১৫ সালে গুজরাট হাইকোর্ট এই আদেশটি আবার ফিরিয়ে দেয়।

১৯৯৪ সালে, শ্রীকুমার তিরুবনন্তপুরমে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB) এর ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন, যখন প্রাক্তন বিজ্ঞানী, নাম্বি নারায়ণনকে ISRO গুপ্তচরবৃত্তি কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানো হয়েছিল।

নারায়ণনকে পাকিস্তানে ISRO-এর নথিপত্র এবং ড্রয়িং  পাচারের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল, ২০১৮ সালে তাকে ক্লিন চিট দেওয়া হয় ৷ CBI বিজ্ঞানীকে ফাঁসাবার  অভিযোগের ষড়যন্ত্রে শ্রীকুমার এবং অন্যদের নাম দেয় ৷

শ্রীকুমার পরে বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং এবং মীনাক্ষী লেখি এবং নাম্বি নারায়ণনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন, এই মামলার সাথে মিথ্যা অভিযোগ ব্যবহার করে তার নাম বদনাম করার চেষ্টা করার জন্য।

Your Opinion

We hate spam as much as you do