পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বিষ্ণু গুপ্তা বলেছেন যে,’পতাকাগুলি সরিয়ে পুলিশ সংবিধানকে অসম্মান করেছে। পুলিশের গেরুয়া পতাকা সরানোর জন্য এত তাড়াহুড়ো করা উচিত হয়নি। গেরুয়া সন্ত্রাসের প্রতীক নয়, তাই পুলিশের বাড়াবাড়িও উচিত নয়। গেরুয়া এবং হিন্দুত্ব রক্ষা করা আইনের অধিকার।’
জেএনইউ ক্যাম্পাসের কাছে পুলিশ গেরুয়া ফেস্টুন সরাতেই হুঁশিয়ারি হিন্দু সেনার, হিংসায় ইন্ধনের সন্দেহ
রামনবমীতে আমিষ-নিরামিষকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়েছিল জেএনইউ হস্টেলে। আবার তাতে ইন্ধনের উপক্রম। যা আঁচ করেই দ্রুত পদক্ষেপ করল পুলিশ।
রামনবমীতে নিরামিষ-আমিষ-কে কেন্দ্র করে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। যার প্রতিবাদে মুখর হিন্দু সেনা। সংগঠনের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকঙ্গনের কাছে ‘ভগওয়া জেএনইউ (গেরুয়া জেএনইউ)’ লেখা পতাকা, ফেস্টুন এবং ব্যানার লাগিয়েছিল। পরে সেগুলি পুলিশ সরিয়ে দিয়েছে।
হিন্দু সেনার জাতীয় সভাপতি বিষ্ণু গুপ্তা বলেছেন, ‘জেএনইউ ক্যাম্পাসের ভিতরে গেরুয়া এবং হিন্দুত্বকে প্রতিনিয়ত অপমান করা হচ্ছে। এটা দুঃখজনক এবং ভুল। আমরা রাম নবমীতেও এই অপমানের প্রমাণ দেখেছি। কেন কেন তারা গেরুয়াকে ঘৃণা করে? গেরুয়া আমাদের সংস্কৃতি। গেরুয়া নিয়ে দেশের মানুষের কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়, কারণ সুপ্রিম কোর্টও বলেছে যে হিন্দুত্ব আমাদের সংস্কৃতি এবং এটি রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। এতে যাঁরা বিরক্ত তারা দেশবিরোধী। কারো যদি ভারতের সংস্কৃতি নিয়ে সমস্যা থাকে, তাহলে সে দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে।’
পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বিষ্ণু গুপ্তা বলেছেন যে,’পতাকাগুলি সরিয়ে পুলিশ সংবিধানকে অসম্মান করেছে। পুলিশের গেরুয়া পতাকা সরানোর জন্য এত তাড়াহুড়ো করা উচিত হয়নি। গেরুয়া সন্ত্রাসের প্রতীক নয়, তাই পুলিশের বাড়াবাড়িও উচিত নয়। গেরুয়া এবং হিন্দুত্ব রক্ষা করা আইনের অধিকার।’
একটি ভিডিও ক্লিপে, হিন্দু সেনার সহ-সভাপতি সুরজিৎ যাদব বলেছেন, ‘জেএনইউতে গেরুয়া বিরোধীরা নিয়মিতভাবে গেরুয়া সংস্কৃতিকে অপমান করছে। হিন্দু সেনা তাদের পথ সংশোধনের জন্য সতর্ক করছে। গেরুয়াকে অপমান করার চেষ্টা করবেন না। আমরা আপনাদের সম্মান করি এবং প্রতিটি ধর্ম ও আদর্শকে সম্মান করি। কিন্তু জেএনইউ-তে যেভাবে গেরুয়াকে অপমান করা হচ্ছে, হিন্দু সেনা তা সহ্য করবে না এবং এর বিরোধিতা করতে যে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।’
এদিকে, ডিসিপি (দক্ষিণ-পশ্চিম) মনোজ সি বলেছেন, ‘আজ (শুক্রবার) সকালে আমাদের নজরে আসে যে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে জেএনইউ সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি পতাকা এবং ব্যানার লাগানো হয়েছে। এরপরই পুলিশের তরফে সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
গত রবিবার জেএনইউ ক্যাম্পাসে দুই গোষ্ঠীর পড়ুয়াদের মধ্যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। বাম সমর্থনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল যে, কাবেরী হোস্টেলে আমিষ খাবার ঢুকতে ও পরিবেশনে বাঁধা দিয়েছিল এবিভিপি সদস্যরা। রামমবমীর দিন হস্টেলে আমিষ খাবার ঢুকলে তা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হবে বলে দাবি করেছিলেন এবিভিপি-র সমর্থকরা। যা ঘিরেই দুই দল পড়ুয়ার মধ্যে হিংসা ছড়ায়।
We hate spam as much as you do