বুধবার জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে এক ফেসবুক পোষ্টে পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, দেশ বর্তমানে এক অঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধী যদি সংবিধানের অপব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আজকের সময় দাঁড়িয়ে সংঘ পরিবার তা বাতিল করার চেষ্টা করছে।
জরুরি অবস্থার ৫০ বছর এখন অঘোষিত জরুরি অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি - পিনারাই বিজয়ন
25 Jun 2025
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জারি হয়েছিল জরুরি অবস্থা। পিনারাই বিজয়ন দাবি করেছেন, দেশ ক্রমশ অঘোষিত জরুরি অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
বিজয়ন বলেন, ইন্দিরা গান্ধী যদি সংবিধানের অপব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আজকের সময় দাঁড়িয়ে সংঘ পরিবার তা বাতিল করার চেষ্টা করছে।
‘সংঘ পরিবারের সরকার’ ভারতের সংবিধানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। ফলে আমরা ক্রমশ অঘোষিত জরুরি অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। বুধবার এই দাবি জানিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়ন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জারি হয়েছিল জরুরি অবস্থা।
বুধবার জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে এক ফেসবুক পোষ্টে পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, দেশ বর্তমানে এক অঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধী যদি সংবিধানের অপব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আজকের সময় দাঁড়িয়ে সংঘ পরিবার তা বাতিল করার চেষ্টা করছে।
এদিনের পোষ্টে তিনি বলেন, “ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে অন্ধকারতম অধ্যায় জরুরী অবস্থার স্মৃতির অর্ধশতক পূর্ণ হল। ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন জরুরি অবস্থা ঘোষণা কোন আকস্মিক বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছিলনা। বরং, এটি ছিল ভারতে বহু বছরের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা এবং নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষয়ের নির্মম পরিণতি।”
পিনারাই জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থার মুখোমুখি হওয়া অগণিত গণতন্ত্র সংগ্রামীদের জন্য এটি কেবল ইতিহাসের কোনও পাঠ নয়। এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক জ্বলন্ত স্মৃতি। আমাদের অবশ্যই সেই স্মৃতি না হারিয়ে ভবিষ্যতের সংগ্রামের জন্য শক্তির উৎস হিসেবে জরুরি অবস্থার ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের অবশ্যই এই ঘটনাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ইন্দিরা গান্ধী সরকারের ঘোষিত জরুরি অবস্থাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সব থেকে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই অন্ধকার অধ্যায়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি হল। জরুরি অবস্থার পঞ্চাশ তম বার্ষিকী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতার স্মারক হিসেবে কাজ করে।
প্রসঙ্গত জরুরি অবস্থার সময় সিপিআইএম নেতা পিনারাই বিজয়ন দলের আরও অনেক নেতার সঙ্গে আত্মগোপন করে দলের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। ওই সময় তিনি কেরালা বিধানসভায় থালাসারি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক ছিলেন। জরুরি অবস্থার সময় তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং নির্মম অত্যাচারের শিকার হন। পরে বিধানসভায় এক আলোচনার সময় তিনি তাঁর রক্তমাখা শার্ট নিয়ে আসেন এবং পুলিশি অত্যাচারের কথা তুলে ধরেন।
We hate spam as much as you do