বিজেপি মহিলা সমর্থকের মৃত্যুতে তুমুল অশান্তি এলাকায়। আগুন জ্বালানো হয়েছে দোকান, বাড়ি। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। এ দিকে, পরিস্থিতি আরও হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী নন্দীগ্রাম থানা থেকে পৌঁছচ্ছে গোটা এলাকায়। সঙ্গে রয়েছে প্রচুর পুলিশও। জানা যাচ্ছে, ১০০ কোম্পানির উপর বাহিনী নন্দীগ্রামে মজুত রয়েছে। আসছে আরও ফোর্স। এ দিকে, আজ আবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ নন্দীগ্রামে সভা রয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
ভোটের আগেই TMC-BJP মেরুকরণের উদ্দেশ্যে নন্দীগ্রাম উত্তপ্ত করার অভিযোগ
May 23, 2024
শনিবার ভোট। আর তার আগে কার্যত জ্বলছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নন্দীগ্রাম।
এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিপিআইএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু যথেষ্ট দাগ কাটতে পারেননি বলেই ধারণা অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার তৃণমূল বিজেপি মেরুকরণ এখানে কিছুটা সীমিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে সেই জন্যই কি অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এবং প্রত্যক্ষ মেরুকরণের জন্য ভোটের ঠিক একদিন আগে এবং প্রচার শেষ হওয়ার মুখে সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দেওয়া হলো?
বিজেপি মহিলা সমর্থকের মৃত্যুতে তুমুল অশান্তি এলাকায়। আগুন জ্বালানো হয়েছে দোকান, বাড়ি। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। এ দিকে, পরিস্থিতি আরও হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী নন্দীগ্রাম থানা থেকে পৌঁছচ্ছে গোটা এলাকায়। সঙ্গে রয়েছে প্রচুর পুলিশও। জানা যাচ্ছে, ১০০ কোম্পানির উপর বাহিনী নন্দীগ্রামে মজুত রয়েছে। আসছে আরও ফোর্স। এ দিকে, আজ আবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ নন্দীগ্রামে সভা রয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
এ প্রসঙ্গে, শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একজন মহিলাকে নন্দীগ্রামে খুন করা হয়েছে। আপনারা তো জানেন আমি গুন্ডা সোজা করা লোক। কেষ্ট মণ্ডল, শেখ শাহজাহানরা কোথায়? তাদের বদলা হবে। একজন মাঝ বয়সী মহিলাকে মেরে দিল তার বদলা হবে না?”
উল্লেখ্য, গতকাল রাত্রিবেলা ব্যানার ফেস্টুন লাগানো নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে ঝামেলা হয়। অভিযোগ ওঠে বিজেপি-র এক মহিলা সমর্থককে খুন করে তৃণমূল কর্মীরা। এলাকার বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বুধবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্ররোচনামূলক মন্তব্যের পরই এই ঘটনা ঘটেছে।
কী বলেছিলেন অভিষেক? “নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে সোনাচূড়া, হরিপুর, গোকুলনগর, ভেকুটিয়া,আর দু’নম্বর ব্লকের বয়ালনগর ১, বয়াল ২ এই জায়গায় যাঁরা মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি তাঁদের তালিকা আমার কাছে রয়েছে। এর পরিণতি খুব খারাপ হবে সতর্ক করলাম। কোনও বাবা বাঁচাবে না। কেউ বাঁচাবে না।”
যদিও, এটা প্ররোচনামূলক বক্তব্য নয় বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান। বলেন, “তিনি কোনও প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখেননি। উনি প্রতিবাদ করতে বলেছেন। কোনও আক্রমণ করতে এলে প্রতিবাদ করো। কখনও বলেননি তুমি আক্রমণ করো। আর ওই অঞ্চল বিজেপির। ঝান্ডা বাঁধার লোক নেই। তৃণমূল মারামারি করতে যাবে? যিনি মারা গিয়েছেন তিনি সারাজীবন তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন। এখন তৃণমূলকে ফাঁসানোর জন্য কৌশল।”
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নিজেই স্বীকার করলেন ওখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝান্ডা বাধার লোক নেই অর্থাৎ ওই সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বামপন্থীদের পুরনো অবস্থান ফিরে আসা সম্ভাবনা আছে। সেই জন্যেই রাজ্য জুড়ে চলতে থাকা নানা ঘটনার মতন এটাও তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার জন্য একটি মেরুকরণের প্রচেষ্টা বলেই ধারনা।
We hate spam as much as you do