ডারউইন ইউরোপে মানুষের চেতনার জগতে বিপ্লবের প্লাবন আনেন। তাই নিশ্চিত ভাবেই উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপারে ভিক্টোরিয়ান যুগেই প্রথম শোনা যায়। এই গবেষণার পিছনে ছিলেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটের এপ্লায়েড স্ট্যাটিসটিক্স বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পবিত্র পালচৌধুরী, নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের বোটানি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুভদীপ চক্রবর্তী ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষক অন্তরা সেনগুপ্ত।
উদ্ভিদেরও স্নায়ুতন্ত্র আছে, আবিষ্কার তিন বাঙালির
গত শতাব্দীতে গাছেরও প্রাণ আছে ও ক্রেস্কগ্রাফ, এই দুই আবিষ্কার চমকে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। এবার আরও এক পালক যোগ হল বাংলা তথা ভারতের মুকুটে। উদ্ভিদেরও স্নায়ুতন্ত্র আছে, তিন বাঙালির এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চমকে দিল গোটা বিশ্বকে। উদ্ভিদের দেহে সংকেত গ্রহণ ও প্রবাহের প্রক্রিয়ার যে জৈব রাসায়নিক পদ্ধতি তাঁরা আবিষ্কার করেছেন তাকেই 'উদ্ভিদ স্নায়ুতন্ত্র' বলে অভিহিত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই প্রক্রিয়ার জৈব রাসায়নিক পদ্ধতির সাথে মানুষের জৈব রাসায়নিক পদ্ধতির সাদৃশ্য পাওয়া গেছে আর তাতেই বোটানিতে নতুন দিশা পাওয়া গেছে। ভিক্টরিয়ান যুগে (১৮৩৭ - ১৯০১) বিবর্তন তত্ত্বের প্রণেতা চার্লস ডারউইনই প্রথম 'উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্রের' তত্ত্ব আনেন। তার আগে অব্দি ইউরোপ কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে ছিল। 'আদম - ইভের' তত্ত্বেই মানুষের আস্থা ছিল।
কিন্তু ডারউইন ইউরোপে মানুষের চেতনার জগতে বিপ্লবের প্লাবন আনেন। তাই নিশ্চিত ভাবেই উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপারে ভিক্টোরিয়ান যুগেই প্রথম শোনা যায়। এই গবেষণার পিছনে ছিলেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটের এপ্লায়েড স্ট্যাটিসটিক্স বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পবিত্র পালচৌধুরী, নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের বোটানি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুভদীপ চক্রবর্তী ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষক অন্তরা সেনগুপ্ত।
একটি পৃথিবীবিখ্যাত জার্নালের তরফে ইতিমধ্যেই তাঁদের কাছে গবেষণাপত্রটির স্বীকৃতি পাওয়ার চিঠি চলে এসেছে। গবেষণার জন্যে এই ত্রয়ী বেছে নিয়েছিলেন আরাবিডপসিস থালিয়ানাকে। বাহ্যিক উদ্দীপক গ্রহণ করার যে রিসেপ্টর বা গ্রাহক আছে, সেইরকম ১৯টি রিসেপ্টর প্রোটিন আরাবিডপিস থালিয়ানার মধ্যে পেয়েছেন। এছাড়া মানুষের শরীরের মতো এই উদ্ভিদের শরীরেও তাঁরা তাপ, আঘাত ইত্যাদি গ্রহণের জন্যে আয়নোট্রপিক গ্লুটামেট রিসেপ্টর পেয়েছেন।
আর তাতেই বাজি মাত! সব থেকে যে জিনিসটা বোটানিস্টদের অবাক করেছে তা হল উদ্ভিদ ও স্তন্যপায়ীদের মধ্যে সংকেত গ্রহণ এবং পরিবহণ প্রক্রিয়ায় সাদৃশ্য। কারণ চার্লস ডারউইনের সৌজন্যে এটা সর্বজনবিদিত যে উদ্ভিদ ও স্তন্যপায়ীরা সৃষ্টির পর থেকে আলাদা আলাদা বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে প্রাণীদের মত যদি উদ্ভিদদেরও স্নায়ু তন্ত্র থাকত তবে চলাফেরা না করতে পারলেও তারা ডালপালা বাহ্যিক উদ্দীপকে সারা দিতে পারত। বাঙালি ত্রয়ীর এই আবিষ্কার বোটানিতে অনেক দরজাই খুলে দেবে
We hate spam as much as you do