Tranding

01:39 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / ঐক্য সংহতি সম্প্রীতির ডাকে কলকাতায় বামদলগুলির মিছিলে জনস্রোত

ঐক্য সংহতি সম্প্রীতির ডাকে কলকাতায় বামদলগুলির মিছিলে জনস্রোত

কাশ্মীরের সেই মানুষ যে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিহত হলেন তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করা হলো না। এটা সঠিক নয়। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ আগে। দেশের মানুষের ঐক্য আগে। দেশের মানুষের মধ্যে বিরোধ বিভাজন তৈরি করার স্বার্থ বড় হতে পারে না। বসু বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ভারতে যারা তারাই পাকিস্তানে সংখ্যালঘিষ্ঠ। ধর্মের বেশে চলার চেষ্টা হলে সর্বনাশ হবে। রবীন্দ্রনাথ সে কথাই বলে গিয়েছেন বসু বলেছেন, কার ধর্ম কী, বর্ণ কী, জাত কী খুঁজতে যাওয়ার দরকার নেই। আমাদের রাজ্যে বাইরের রাজ্য থেকে মানুষ এলে তাকে বহিরাগত বলা হচ্ছে। তাঁরা তো ভারতীয়, তা’হলে বহিরাগত হলো কী করে? বসু বলেন, সামাজিক দিক থেকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ঐক্য সংহতি সম্প্রীতির প্রতি বিপদ দেখা দিয়েছে। তাকে রক্ষার জন্য করছি এই মিছিল।

ঐক্য সংহতি সম্প্রীতির ডাকে কলকাতায় বামদলগুলির মিছিলে জনস্রোত

ঐক্য সংহতি সম্প্রীতির ডাকে কলকাতায় বামদলগুলির মিছিলে জনস্রোত

 ১৩ মে ২০২৫ 

দেশের সংহতি সম্প্রীতি ও মানুষের ঐক্যের পক্ষে শুরু হয়েছে বামফ্রন্টের মিছিল। মিছিলে রয়েছেন বামফ্রন্টের সভাপতি বিমান বসু সহ নেতৃবৃন্দ।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়। গত ৬ মে মাঝরাতে সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত। ১০ মে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা হয়। 
এই পর্বে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি ঐক্য মজবুত করার বদলে বিভাজন ছড়াতে তৎপর হয়েছে। বিভাজনের এই কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানিয়েছে বামফ্রন্ট। জনতার ঐক্যরক্ষার বার্তায় সোচ্চার এই মিছিল। বামফ্রন্টের সভাপতি বিমান বসু বলেছেন, ২৫ জন পর্যটক এবং কাশ্মীরের এক টাট্টুচালক নিহত হয়েছেন সন্ত্রাসবাদী হামলায়।


 কাশ্মীরের সেই  মানুষ যে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিহত হলেন তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করা হলো না। এটা সঠিক নয়।  তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ আগে। দেশের মানুষের ঐক্য আগে। দেশের মানুষের মধ্যে বিরোধ বিভাজন তৈরি করার স্বার্থ বড় হতে পারে না। বসু বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ভারতে যারা তারাই পাকিস্তানে সংখ্যালঘিষ্ঠ। ধর্মের বেশে চলার চেষ্টা হলে সর্বনাশ হবে। রবীন্দ্রনাথ সে কথাই বলে গিয়েছেন
বসু বলেছেন, কার ধর্ম কী, বর্ণ কী, জাত কী খুঁজতে যাওয়ার দরকার নেই। আমাদের রাজ্যে বাইরের রাজ্য থেকে মানুষ এলে তাকে বহিরাগত বলা হচ্ছে। তাঁরা তো ভারতীয়, তা’হলে বহিরাগত হলো কী করে?
বসু বলেন, সামাজিক দিক থেকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ঐক্য সংহতি সম্প্রীতির প্রতি বিপদ দেখা দিয়েছে। তাকে রক্ষার জন্য করছি এই মিছিল।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, পাকিস্তানের হামলার নিন্দা করছি। কিন্তু আগে ট্রাম্পকে কেন ঘোষণা করতে হলো সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্ত। এটা ঠিক নয়। আমরা আগেই বলেছিলাম।
মোদী বলেছেন আলোচনা হলে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কেবল কথা হবে। সে প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে বসু বলেন, দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হোক। মোদী যা বলতে চান বলুন। পাকিস্তানের কী বক্তব্য বলুক। নিষ্পত্তি করতে হবে এই সমস্যার। আলোচনা হলে মানুষের কাছেও পরিষ্কার হয়ে যাবে কার বক্তব্য ঠিক

সোমবার যুদ্ধবিরোধী শান্তিমিছিলের ডাক দিয়েছিল নাগরিক সমাজের বেশ কয়েকজন পরিচিত জনের পক্ষ থেকে। তাতে জুড়ে ছিলেন বিভিন্ন বাম, অতিবাম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। সেই মিছিলেই বাধা দিতে গিয়েছিল বিজেপি। তবে দলীয় পতাকা নিয়ে নয়। কলকাতার বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা নিয়েই ‘দেশদ্রোহিতা’র অভিযোগে শান্তিমিছিলে বাধা দেওয়ায় অশান্তি পেকেছিল মৌলালি মোড়ে। নানা বক্তব্য রাখা সত্ত্বেও বিপুল জনস্রোতের কোনও বিরোধিতার সাহস মঙ্গলবারের মিছিলের বিরুদ্ধে দেখা যায়নি।

বিকেল সওয়া ৫টা নাগাদ মিছিল শুরু হয় ধর্মতলার লেনিন মূর্তির সামনে থেকে। লেনিন সরণি হয়ে মিছিল গিয়ে শেষ হয় শিয়ালদহে। মিছিলে পুলিশের নিরাপত্তা ছিল। কোনও অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। তবে মিছিল যখন সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারের খানিকটা আগে, তখন দেখা যায় হিন্দ সিনেমার দিক থেকে বিজেপির পতাকা হাতে কয়েক জন যুবক, কয়েকটি মোটরসাইকেলে চেপে যাচ্ছেন। তা দেখতে পেয়েই মিছিলের গতি সামান্য শ্লথ করে দেয় পুলিশ। যদিও মোটরসাইকেলে থাকা যুবকেরা সেখানে দাঁড়াননি।


সোমবার সজলের নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবী 
মিছিলের বিরোধিতা হয়। মঙ্গলবারের মিছিল সম্পর্কে প্রশ্ন করায় সজল জানান, এ দিন তাঁদের কোনও কর্মসূচি ছিল না। ফলে যাওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না। সোমবার মৌলালিতে জমায়েত, তার পর সেখান থেকে মিছিল— এই ছিল কর্মসূচি। মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তা অমিতাভ ভট্টাচার্য জানান, প্রশাসনকে আগেই এই কর্মসূচি নিয়ে অবহিত করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দু’-তিন ধরেই সমাজমাধ্যমে চাপানউতোর চলছিল। বিজেপির একটা অংশের পক্ষ থেকে সরাসরি বলা হয়, এই ধরনের ‘দেশবিরোধী কর্মসূচি’র বিরোধিতা তারা সামনাসামনি করবে। উদ্যোক্তাদের দাবি, মিছিল শুরু হওয়ার আগেই সজলের নেতৃত্বে একদল লোক হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এসে তাঁদের উপর চড়াও হন। এ-ও অভিযোগ, দেশদ্রোহী দাবি তুলে তাঁদের লক্ষ্য করে ডিজেল, মোবিল ছোড়া হয়েছে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মীরাতুন নাহার, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্টেরা। সজল যদিও মোবিল, ডিজ়েল বা এমন কিছু ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে বলেছিলেন, ‘‘আমরা কোনও পেট্রল-ডিজেল ছুড়িনি। তবে দেশবিরোধী কথা কেউ যদি বলেন, তবে তার দাওয়াই যেমন হয় তেমনই দেওয়া হবে।’’

মঙ্গলবারের মিছিলে বামফ্রন্টভুক্ত দলগুলির বাইরেও এসইউসি, সিআইএমএল (লিবারেশন)-এর মতো দলগুলি ছিল। মিছিলে অন‍্যান‍্য বামদলের মত এসইউসির জমায়েত ছিল চোখে পড়ার মতো।  

Your Opinion

We hate spam as much as you do