যদিও গতবছরের অক্টোবরে সিঙ্গুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘টাটাকে আমি তাড়াইনি, সিপিএম তাড়িয়েছে।’
শুভেন্দুর মতে ২০০৬এ মানুষের সমর্থন ছিল না সিঙ্গুর আন্দোলনে টাটাকে তাড়ানোই ছিল উদ্দেশ্য
May 03, 2023
বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলে অনুঘটকের মতো কাজ করেছিল সিঙ্গুর আন্দোলন ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন । ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। টানা তিনবার বাংলার তখতে মমতার সরকার। আর এবার সেই সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়েই রাজ্যের শাসক শিবিরকে খোঁচা দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । বুধবার কোলাঘাট থেকে এক সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু বললেন, ‘সিঙ্গুর আন্দোলনে মানুষের সমর্থন ছিল না। ওটা ছিল টাটাকে তাড়ানোর আন্দোলন।’ ময়নায় বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিজেপির কর্মসূচির কথা এদিন সাংবাদিক বৈঠকের কথা তুলে ধরছিলেন শুভেন্দু। অতীতে পূর্ব মেদিনীপুরের সংগ্রামী ইতিহাসের কথাও সেই সময় তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, বামেদের সরানোর জন্য মানুষের আন্দোলন সিঙ্গুর থেকে নয়, বরং নন্দীগ্রাম থেকেই শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ।
প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর আন্দোলন পরবর্তী সময়ে টাটা গোষ্ঠী রাজ্য থেকে বিদায় নেয়। তারপর থেকে অনেকেই জমি ফেরত পেয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই জমি আর চাষযোগ্য নেই। বিরোধীরা প্রায়শই বলে থাকেন, সিঙ্গুরে আজকাল শ্মশানের শূন্যতা। সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠী চলে যাওয়ার পর রাজ্যে যে আর তেমন বড়সড় মাপের কোনও শিল্প আসেনি, সেই কথাও বার বার মনে করিয়ে দেয় বিরোধীরা। যদিও গতবছরের অক্টোবরে সিঙ্গুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘টাটাকে আমি তাড়াইনি, সিপিএম তাড়িয়েছে।’
এদিকে শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে তৃণমূলের তরফেও। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৃণমূল নেতা দুধকুমার ধারা। তিনি বর্তমানে সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। শুভেন্দুর মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, ‘সিঙ্গুর আন্দোলনের একজন সৈনিক হিসেবে আমি এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছি। এর থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে, উনি মানসিকভাবে অসুস্থ। সিঙ্গুর আন্দোলন কখনও কোনও শিল্পপতির বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল না। যেভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে কাজে লাগিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তা প্রতিবাদে এই আন্দোলন ছিল।’
We hate spam as much as you do