প্রথম দিনে ধর্মঘট দেশের প্রায় আটটা রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ফোরাম এর মতে আরো তামিলনাড়ু কেরালা পুদুচেরি অন্ধ্রপ্রদেশ তেলেঙ্গানা ওড়িশা আসাম হরিয়ানা এবং ঝাড়খন্ড রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
দেশজোড়া ধর্মঘটে অংশগ্রহণে ভারতের প্রায় ২০কোটি শ্রমিক কৃষক
চুড়ান্ত অর্থনৈতিক সংকট এর মধ্যে মানুষের মস্তিষ্কে মিডিয়া ঢোকাচ্ছে ধর্মীয় মেরুকরণের জঘন্য বীজ। মানুষ ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার রোজগার ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের স্বার্থের কথা, এমন অবস্থায় ভারতবর্ষের প্রায় কুড়ি কোটি শ্রমিক-কৃষক সর্বভারতীয় দুদিনের এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করলেন।
কেমন ছিল সারাদেশেই ধর্মঘট?? কিছু টুকরো টুকরো খবর।
রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে ব্যাংক বীমা টেলিকম পরিবহন এবং প্রকল্প কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ করলেন। তারা সমস্ত ক্ষেত্রগুলোকে কন্ট্রাক্টরি হাতে এবং আউটসোর্সিং এর বিরুদ্ধে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান।
এই দু দিনব্যাপী সর্বভারতীয় ধর্মঘট কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ জনজীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে।
সংবাদ সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী সরকারি পরিবহন এবং ব্যাংকিং সেক্টর দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন রাজ্যে বন্ধ ছিল।
AITUC র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কাউর বলেন- "সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের কর্মচারীরা এই দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে ব্যাপক অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি গ্রাম্য অঞ্চল থেকেও ধর্মঘটের পক্ষে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি গত সোমবার দেশজুড়ে কোটির বেশি মানুষ ধর্ম গ্রহণ করেছেন সম্ভবত দ্বিতীয় দিনে সেই সংখ্যা আরো বেশি হবে"
এই ধর্মঘটে শ্রমিক কৃষক এবং সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করেছেন। তাদের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের আনা শ্রম কোড এর বিরুদ্ধে ন্যাশানাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন এর নামে যে কোন ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের বেসরকারিকরণ এর বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার যোজনা তে শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে।
২৯ শে মার্চ সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন গুলোর পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবিতে ধরনা প্রদর্শন করা হয়
এদিকে ব্যাংক কর্মীদের ইউনিয়নগুলি এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেছেন। ব্যাংক কর্মীরা দুটো বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে বেসরকারিকরণ করার যে উদ্যোগ ২০২১-২২ সালের বাজেটে নেয়া হয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেন তারা স্থায়ী আমানতের উপর বেশি সুদ দাবি করেন এবং সমস্ত রকম সার্ভিস চার্জ তুলে দেওয়ার দাবি রাখেন।
প্রথম দিন সোমবার প্রায় সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর তাদের পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল। সমস্ত গণপরিবহন সংস্থাগুলো পশ্চিমবঙ্গ কেরালা তামিলনাড়ুতে পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল এরমধ্যে অত্যাবশ্যকীয় পরিবেশ পরিসেবা যেমন স্বাস্থ্য বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি পরিবহন এই আওতা থেকে বাদ ছিল।
প্রথমদিন ধর্মঘটে মূল শহরের ব্রাঞ্চ গুলো র সমস্ত পরিষেবা শেষ দিনে হিসেব করে দেখা গেল পরিষেবা প্রায় হয়নি।
প্রথম দিনে ধর্মঘট দেশের প্রায় আটটা রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ফোরাম এর মতে আরো তামিলনাড়ু কেরালা পুদুচেরি অন্ধ্রপ্রদেশ তেলেঙ্গানা ওড়িশা আসাম হরিয়ানা এবং ঝাড়খন্ড রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
গোয়া কর্ণাটক মহারাষ্ট্র ছত্রিশগড় পাঞ্জাব বিহার রাজস্থান মেঘালয় অরুণাচল প্রদেশ ব্যাপক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের এটিএম গুলি অনেকাংশেই বন্ধ ছিল অন্তত ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী কর্মীরা এমনই দাবি করেছেন।
ছত্রিশগড় মধ্যপ্রদেশ ঝাড়খণ্ডের কয়লা খনি অঞ্চলে শ্রমিকরা বিক্ষোভের অংশগ্রহণ করেছেন।
মহারাষ্ট্রে সিআইটিইউ পক্ষ থেকে সর্বভারতীয় ধর্মঘট কে সমর্থন করে মুম্বাইয়ের ওরলি নাকাতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী এবং সমর্থক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বৃহানমুম্বাই মিউনিসিপাল হাসপাতালে কর্মচারীরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সাফাই কর্মচারী এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নানান কর্মীরা সোমবার ওরলি নাকাতে বিক্ষোভ দেখান।
মহারাষ্ট্রের সিপিআইএম বিধায়ক বিনোদ নিকলী ১০০ কৃষক এবং শ্রমিক নিয়ে কাহালুতে বিক্ষোভ দেখান। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার আবার কৃষি আইনে ফিরে যেতে চাইছে সমস্ত দেশের শ্রমিকরা তারা সমস্ত শ্রমিক বিরোধী আইনকে বাতিল করার লড়াই লড়াই তীব্র করতে চায় সরকারকে কৃষি আইন এবং শ্রম আইন দুটোই বাতিল করতে হবে।
পুনের মিউনিসিপাল কাউন্সিল হলে শতাধিক ব্যাংক কর্মচারী মিউনিসিপাল কর্মচারী বীমা কর্মী ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে বিক্ষোভ দেখান।
চেন্নাইতে কিছু কারখানাতে 100% স্ট্রাইক হয়েছে যেমন অশোক লেল্যান্ড হিন্দুজা ফাউন্ড্রি মাদ্রাজ রবার ফ্যাক্টরি টায়ার বারবিল বালবির লজিন এবং ট্যাবলেট ইন্ডিয়া প্রমূখ।
কাঁচিপুরাম জেলার বিভিন্ন পরিবহন শিল্পের কর্মীরা সর্বাত্মক ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেন। জে কে টায়ার অ্যাপোলো টায়ার ইয়ামাহা কসমস হিন্দুজা ফ্যাক্টরি প্রভৃতি শিল্পের কর্মীরা এই ধর্মঘটে সামিল হন।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা SAIL, RINL, NMDC এর প্রায় ৩৫ হাজার কর্মী সেদিন কাজ করেননি খুনি এবং ইস্পাত শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
NMDC এর সেক্রেটারি রাজেশ সাধু সংযুক্ত খাদান মজদুর সংঘ বলেন উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছাড়া সমস্ত কর্মীরা এই সাধারণ ধর্মঘট দুদিন অংশগ্রহণ করেছেন
NMDC কর্মীরা সরকারের নীতির বিরোধিতা করে ছত্রিশগড়ে প্রায় 6 ঘন্টা পরিবহন বন্ধ রাখেন এই প্রতিবাদের জন্য সংস্থার প্রায় ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ ছত্রিশগড় অন্ধ্রপ্রদেশ কর্ণাটক তেলেঙ্গানার ১০ হাজারের বেশি খনি অঞ্চলের শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেন
Steel Plant Employees Union (CITU) এর সভাপতি অযোধ্যা রাম বলেন বিশাখাপত্তনমের RINL plant মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ ছিল
রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নির্মম লিমিটেডের প্রায় ৮০০০ কর্মচারী এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বলেন বিশাখাপত্তনমে তিনটি ইস্পাত চুল্লির মধ্যে মাত্র একটি চলছিল। একটি মেরামতি তে আছে আরেকটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
ছত্রিশগড় উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের প্রায় ২০ হাজার কর্মী কাজে যোগ দেননি। ভিলাই স্টিল প্লান্ট এর একজন কর্মী বলেন সোম মঙ্গল দুদিন দূরের কর্মীরা কাজেই আসেননি।
We hate spam as much as you do