যে পড়ুয়ারা পাশ করতে পারেননি, তাঁদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য সংসদ সভাপতিকে আর্জি জানান তাঁরা। নবান্ন সূত্রে খবর, যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনের জন্য সংসদকেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিকের অনুত্তীর্ণদের ক্ষোভের মধ্যেই ফল নিয়ে অভিযোগ জানাতে ৭ দিন সময় দিল সংসদ
উচ্চ মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের পর থেকেই জেলায়-জেলায় বিক্ষোভ। একাধিক স্কুলে চলছে ভাঙচুর। সেই ক্ষোভের আঁচ এসে পৌঁচেছে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষা সংসদের প্রধান কার্যালয়েও। এবার সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতে হস্তক্ষেপ করল নবান্ন এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। শনিবার স্কুলগুলির জন্য একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) সভাপতি মহুয়া দাসকে ডেকে পাঠানো হয় নবান্নে। তাঁর সঙ্গে বৈঠক সারেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এবং শিক্ষা সচিব মণীশ জৈন।
উচ্চ মাধ্যমিকে প্রত্যাশার তুলনায় নম্বর কম এসেছে। আবার কেউ কেউ পাশ করতে পারেনি পরীক্ষায়। বিকল্প পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়ার সময় সংসদে কিংবা স্কুলে গণ্ডগোল হয়েছে বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের একাংশে।
ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন পড়ুয়ারা।
শনিবার সংসদের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট নিয়ে কোনও অভাব-অভিযোগ থাকলে সাতদিনের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপযুক্ত নথি-সহ আবেদন জানাতে হবে। সেই অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে সংসদ। সেইসঙ্গে জানানো হয়েছে, রবিবার এবং ছুটির দিনও দুপুর একটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা থাকছে।
গত বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার রেকর্ড ৯৭.৬৯ শতাংশ পড়ুয়া পাশ করেছেন। কিন্তু যে পড়ুয়ারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কলকাতা, উত্তর দিনাজপুর থেকে শুরু নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো একাধিক জেলায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। কেউ কেউ তো আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সেই উপলক্ষে এই বৈঠক।
যে পড়ুয়ারা পাশ করতে পারেননি, তাঁদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য সংসদ সভাপতিকে আর্জি জানান তাঁরা। নবান্ন সূত্রে খবর, যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনের জন্য সংসদকেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সংসদের সভাপতি ভূমিকা নিয়ে নবান্ন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের খবর। এমনিতেও উচ্চ মাধ্যমিকের ‘প্রথম’ হওয়া রুমানা সুলতানাকে ‘মুসলিম’ হিসেবে উল্লেখ করে বিতর্কে জড়িয়েছেন সংসদের সভাপতি।
গোটা রাজ্যে পরীক্ষার ফল নিয়ে যে অনভিপ্রেত জটিলতা তৈরি হল তার জন্য শিক্ষা দপ্তরগুলির প্রশাসনিক দুর্বলতার দায় ক্রমশ প্রকট হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা।
We hate spam as much as you do