আমার কোন সূর্য নেই, চাঁদ নেই,নেই কোন তারামেঘ ,উষালগ্ন , গোধূলিও নেই। দিন ও রাত্রিও নেই। একটা দীর্ঘ প্রসারিত অন্ধকার বিস্তার করেছে যেন, ছায়াপথগুলির মধ্যে সীমাহীন অদৃশ্য শূন্যতা।
কবিতা,
জিএন সাইবাবা (অনুবাদ কাজল মুখার্জী) ও দেবল চক্রবর্তী
ইউএপিএ তে অন্যায় ভাবে আজও জেলবন্দী বিশিষ্ট অধ্যাপক শারিরীক প্রতিবন্ধী ডঃ জি. এন. সাঁইবাবা। অথর্ব এই মানুষটি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বন্দী ।
বোম্বাই হাইকোর্ট তাকে মুক্তি দিলেও , সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করেছে, কোর্ট বলেছে "সবচেয়ে বিপজ্জনক তার মস্তিষ্ক"।
এই কবিতাটি তিনি তাঁর প্রমিকা ,স্ত্রীকে তাদের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে লিখেছেন।
তার লেখা কবিতা
অনুবাদ করেছেন কাজল মুখার্জী।
আমার এই কারাগারের কক্ষের শূন্যতায় আমি অপেক্ষা করে আছি
নদীকে স্পর্শ করবো বলে,
স্পর্শ করবো এই জীবন আর ভালবাসার
স্পন্দিত বিশ্বকে,
আমার কোন সূর্য নেই, চাঁদ নেই,নেই কোন তারামেঘ ,উষালগ্ন , গোধূলিও নেই।
দিন ও রাত্রিও নেই।
একটা দীর্ঘ প্রসারিত অন্ধকার
বিস্তার করেছে যেন,
ছায়াপথগুলির মধ্যে
সীমাহীন অদৃশ্য শূন্যতা।
আজ রাতে এমন কেউ নেই একজনও
আমার ভেঙে পড়া হৃদয়ের কাছে।
জলাশয়ের বাইরে মাছের মতন
আমি হাঁফিয়ে উঠছি--
স্বাধীনতার জন্য,ভালবাসার জন্য, বন্ধুত্বের জন্য
তোমার ভালবাসার আশ্রয় থেকে আজ আমি বহিষ্কৃত।
জীবনের থেকে জীবনকে ছিন্ন করা হয়েছে এখানে
চেতনাকে ছিন্ন করা হয়েছে চেতনা থেকে।
আমার চোখ অস্বীকার করছে স্বীকৃতি দিতে
এই প্রলম্বিত দেওয়ালকে
যা আমার অস্তিত্বের সাথে
সঙযোগ ছিন্ন করেছে
জীবন বেঁচে থাকবে কোন বিচ্ছিন্নতায় নয়
জীবন প্রসারিত হবে জীবনের সংলগ্নতায়।।
🌊🌊🌊🌊🌊🌊🌊🌊🌊🌊
দেবল চক্রবর্তীর কলমে---
আকাশ জুড়ে দুঃখ ভরা মেঘের
কয়েক ফোঁটা কান্না মাঠে ঝরে।
পুঞ্জ ক্রোধে গড়ে ওঠা এক মেয়ে –
সুরার ঘোরে অসুরকে বধ করে !
মেঘের কি হয় রাষ্ট্র বা দূরাগত ?
সীমার বাইরে মিলেমিশে সুরাসুর –
কে যে আর্য, আর কাকে ভাবি অনাগত
আকাশ ভরা আলিঙ্গনে বৃষ্টি ও রদ্দুর!
রোদবৃষ্টিতে এবার বিষাদ মাখা ।
বিরহে বিদ্ধ ক্রৌঞ্চমিথুন কাঁদে ।
ধরণী কাঁপছে, বাড়ছেই উষ্ণতা –
আবিশ্ব আজ উষ্ণ ব্যাধের ফাঁদে!
কার ফাঁদে আজ অসুর বিদ্ধ হলো?
কবে কোন্ খাতে রাতে নামে হরপা?
হর-পার্বতী কৈলাশে পৌছল ?
মেঘে ও পাহাড়ে বড় বেশী কান্না ...
We hate spam as much as you do