উত্তর প্রদেশে একজন স্কুল শিক্ষিকা সাত বছর বয়সী এক মুসলিম ছাত্রকে ক্লাসরুমের ভিতরে সংগঠিত ভাবে অপমানজনক আচরণের শিকার করেছেন। তিনি শিশু ছাত্রটির সহপাঠীদের তাকে চড় মারতে বলেছেন এবং তার ধর্মের কারণে তাকে বহিষ্কার করতে বলেছেন
শিক্ষিকা ডাকছে - ছাত্র দাঁড়িয়ে -বন্ধু চড় মারছে
বিজেপি রাজ্যে ৭ বছরের মুসলিম ছাত্রকে থাপ্পড় মারতে সহপাঠীদের নির্দেশ শিক্ষিকার
২৭ আগস্ট ২০২৩,
চন্দ্রযান ৩ নিয়ে আধুনিকতার উচ্চচিন্তায় মগ্ন দেশ আবার এক কুৎসিৎ ভাবনার সাক্ষী হল।
উত্তর প্রদেশে একজন স্কুল শিক্ষিকা সাত বছর বয়সী এক মুসলিম ছাত্রকে ক্লাসরুমের ভিতরে সংগঠিত ভাবে অপমানজনক আচরণের শিকার করেছেন। তিনি শিশু ছাত্রটির সহপাঠীদের তাকে চড় মারতে বলেছেন এবং তার ধর্মের কারণে তাকে বহিষ্কার করতে বলেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা গেছে, যোগী রাজ্য উত্তর প্রদেশের স্কুলের শিক্ষিককা ত্রপ্তা ত্যাগী অন্যান্য ছাত্রদের তাকে আরো জোরে থাপ্পড় মারার জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইসলামোফোবিক মন্তব্য করেছেন। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে এক পুরুষ কন্ঠে শোনা গেল তিনিও ওই শিক্ষকের সাথে একমত।
ত্যাগীকে ভিডিওতে বলতে শোনা যাচ্ছে, "আমি ঘোষণা করেছি যে, সমস্ত মুসলিম শিশুদের যেতে হবে"। পুরুষটিকে বলতে শোনা যায়, "আপনি ঠিক বলেছেন, এটি শিক্ষার ক্ষতি করে।” তখন ভিকটিম ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করে এবং আতঙ্কিত অবস্থায়।
সাত বছর বয়সী মোহাম্মদ আলতামাশের বাবা-মা বলেছেন, ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার মুজাফফরনগর শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) দূরে কুব্বাপুর গ্রামের নেহা পাবলিক স্কুলে। তার মা রুবিনা বলেন, গতকাল আমার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসে। সে ট্রমাটাইজড ছিল। রুবিনা বলেন, আপনি বাচ্চাদের সাথে এইভাবে আচরণ করতে পারেন না।
তার বাবা মোহাম্মদ ইরশাদের মতে, ‘‘শিক্ষক তাদের [সহপাঠীদের] আমার ছেলেকে এক এক করে চড় মারতে বলেছিলেন। শিক্ষিকা তার কর্মকে ন্যায্যতা দিয়েছিলেন এভাবে যে, আমার ছেলে তার পাঠ মুখস্ত করেনি।
আমার ছেলে পড়াশোনায় ভালো। সে টিউটরের কাছেও পড়ে। কেন শিক্ষক তার সাথে এমন আচরণ করলেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে, ৪২ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকার মন ঘৃণাতে ভরপুর।”
উত্তর প্রদেশ পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের ভিডিওটি শেয়ার না করতে বলেছে। বিভিন্ন ব্যবহারকারীদের তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে এটি সরাতে অনুরোধ করেছে।
ইরশাদ একজন কৃষক। তিনি বলেছেন, তার ছেলের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। আর দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিডিওতে শোনা শিক্ষকের মন্তব্য দ্বারা চিত্রিত হয়েছে। রুবিনা যোগ করেছেন যে, শিক্ষকের সহপাঠীদের দ্বারা ছাত্রদের চড় মারার অভ্যাস ছিল বলে জানা গেছে। মাত্র কয়েক দিন আগে, তাদের পরিবারের অন্য একজন ছাত্র তার পাঠ মুখস্থ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে একই ধরণের আচরণের শিকার হয়েছিল।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শিশু ও বাবা-মায়ের বক্তব্য রেকর্ড করে মামলা করা হবে। প্রশ্নবিদ্ধ স্কুলটিতে ওই এলাকার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ইরশাদ বলেন, যদিও শিক্ষক তার ভুল স্বীকার করেছেন এবং তার আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, তবে তিনি তার ছেলেকে অন্য স্কুলে নিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, তিনি আর কখনও তার ছাত্রদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। কিন্তু এটি এমন পরিবেশ নয়, যেখানে আমি চাই আমার ছেলে শিক্ষা লাভ করুক এবং বড় হোক।
We hate spam as much as you do