অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটিতে বিক্ষোভ থেকে হিংসা ছড়ায়। তারপর এই সপ্তাহে মাহিন্দা রাজাপক্ষের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই রনিল বিক্রমাসিংহের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে দেন।
আবার বিক্রমাসিংহ ! ফেরাবেন কি শ্রীলঙ্কার বেহাল দশা ? কোনও বার মেয়াদ শেষ করতে পারেননি
শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি সবার কাছে পরিচিত। শ্রীলঙ্কাকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে আনার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। বিক্রমাসিংহে ভারতের ভাল বন্ধু।
তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন বলেছে যে ভারত শ্রীলঙ্কার নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।
চতুর্থবারের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হলেন বিক্রমাসিংহে। এর আগে তিনি কখনই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। বিক্রমাসিংহে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) সদস্য। ২০২০ সালের নির্বাচনে ইউএনপি শুধুমাত্র একটি আসন জিতেছিল এবং সেই আসনটি ছিল বিক্রমাসিংহের।
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটিতে বিক্ষোভ থেকে হিংসা ছড়ায়। তারপর এই সপ্তাহে মাহিন্দা রাজাপক্ষের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই রনিল বিক্রমাসিংহের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে দেন।
বিক্রমাসিংহেকে ২০১৮ সালের অক্টোবরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মৈত্রীপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর দুই মাস অশান্তি চলার পর সিরিসেনা তাঁকে এই পদে ফিরিয়ে দেন।
রনিল বিক্রমাসিংহেকে ভারতের ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়। রাজাপক্ষে সরকারের সময় শ্রীলঙ্কার ওপর ঋণ বেড়ে যায়। সে সময় শ্রীলঙ্কা চীন থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল। এটা শ্রীলঙ্কাকে চরম অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিক্রমাসিংহের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন টুইট করেছে যে শ্রীলঙ্কার জনগণের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে। হাইকমিশন বলেছে যে ভারত শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উন্মুখ। এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রনিল বিক্রমাসিংহের সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।
বিক্রমাসিংহের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার ভারত সফর করেছেন বিক্রমাসিংহে। তিনি ২০১৬-র অক্টোবর, ২০১৭ সালের এপ্রিল এবং নভেম্বর এবং ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ভারত সফর করেছিলেন।
একই সঙ্গে বিক্রমাসিংহে বলেছেন, তাঁর সরকারের অধীনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভাল হবে। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় গণমাধ্যমের মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার পর যখন তাকে ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন বিক্রমাসিংহে বলেছিলেন যে সম্পর্ক আরও ভাল হবে।
We hate spam as much as you do