বিতর্কিত কৃষি বিলের বিরুদ্ধে গত একবছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। পঞ্জাব সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে কৃষকরা রাজধানীর বুকে এই আন্দোলন শুরু করে। যদিও সম্প্রতি বিতর্কিত কৃষক আইন তুলে নেয় কেন্দ্র। কিন্তু এরপরেও তাঁদের আন্দোলন চলতে থাকে।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাকেশ টিকায়েত, অশোক ধাওয়ালে, গুরনাম সিং
১৫ মাস পর কৃষক আন্দোলন স্থগিত, শেষ নয়, ’, আন্দোলন নিয়ে বড় ঘোষণা কৃষকদের, ১১ ডিসেম্বর ‘বিজয়’ উদযাপন
কৃষকদের দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। এই সংক্রান্ত সরকারি চিঠি হাতে পেতেই আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা করে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। তবে যোগেন্দ্র যাদব, রাকেশ তিকাইতরা জানান আন্দোলন বন্ধ হয়নি। তবে সরকারের আশ্বাসে আপাতত আন্দোলন স্থগিত হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর থেকে ধরনা মঞ্চ ফাঁকা করে দেওয়া হবে। সেদিনই ‘বিজয় দিবস’ পালন করা হবে। কৃষি মন্ত্রকের সচিব সঞ্জয় আগরওয়াল এই চিঠি লিখেছেন কৃষকদের।
কৃষক নেতা রাকেশ তিকাইত বলেন, ‘আমরা কালকেই বিজয় যাত্রা বের করতে চেয়েছিলাম। তবে দেশের প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের আগামিকাল শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাই তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ১১ ডিসেম্বর বিজয় উদযাপন করব।’ এদিকে যোগেন্দ্র যাদব জানান, আগামী ১৫ জানুয়ারি সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ফের একবার মিলিত হবে। সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আগামী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিতর্কিত কৃষি বিলের বিরুদ্ধে গত একবছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। পঞ্জাব সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে কৃষকরা রাজধানীর বুকে এই আন্দোলন শুরু করে। যদিও সম্প্রতি বিতর্কিত কৃষক আইন তুলে নেয় কেন্দ্র। কিন্তু এরপরেও তাঁদের আন্দোলন চলতে থাকে।
তবে অবশেষে দীর্ঘ ১৫ মাসের লড়াই শেষ হল। দীর্ঘ আন্দোলনের ইতি টানলেন কৃষকরা। যা অবশ্যই স্বস্তির খবর কেন্দ্রের কাছে।
আজ বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন কৃষকরা। সেখানেই আন্দোলন তুলে নেওয়ার পক্ষে একমত হন আন্দোলনকারী কৃষকরা। কৃষক নেতা গুরুনাম সিং চাধুনি জানান, কেন্দ্র আমাদের সমস্ত দাবি মেনে নিতে রাজি হয়েছে। আর সেই কারনেই এই আন্দোলন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানান ওই আন্দোলনকারী কৃষক।
একই সঙ্গে কেন্দ্রকে কার্যত সাবধানবানীও দিয়েছেন ওই গুরুনাম। তাঁর হুঁশিয়ারি, যে কোনও মুহূর্তে ফের একবার শুরু হতে পারে কৃষক আন্দোলন। যদি না কেন্দ্র তার দেওয়া কথা না রাখে।
অন্যদিকে আল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার সম্পাদক অশোক ধাওয়ালে জানান, ৫০০-রও বেশি সংগঠন একসঙ্গে লড়াই করেছে। শীত, গরম, করোনা সহ একাধিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই দাবি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হয়েছে অবশেষে জয় এসেছে। বলে জানান কিষাণ সভার। '
অন্যদিকে দর্শন পাল কৃষক নেতা বলেন, ১০ ডিসেম্বর শোকদিবস হিসাবে পালিত হবে। এবং ১১ ডিসেম্বর থেকেই আন্দোলনরত কৃষকরা সিঙ্ঘু সীমান্ত ছাড়তে শুরু করবে বলে জানা গিয়েছে। এবং তাঁরা সবাই তাঁদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। পঞ্জাবে পৌঁছে সবার আগে গোল্ডেন মন্দিরে সবাই মিলে পুজো দেওয়া হবে। এবং ১৫ ডিসেম্বর পঞ্জাবেই সমস্ত কৃষক আন্দোলনের ইতি টানা হবে। এমনটাই জানানো হয়েছে আন্দোলনরত কৃষকদের তরফে।
তবে আগামী ১৫ জানুয়ারি কৃষকরা আবার দিল্লিতে একত্রিত হবে। আর সেদিন কেন্দ্র তাঁর দেওয়া কথা রেখেছে কি রাখেনি সেই বিষয়ে আলোচনা হবে। আর এরপরেই আগামী রণকৌশল ঠিক করা হবে বলে হুঁশিয়ারি আন্দোলনরত কৃষকদের। তবে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধায় আন্দোলন রত কৃষকরা একটি বিজয় প্রার্থনা করবেন। আর এরপরেই শেষ হবে আন্দোলন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে বিতর্কিত কৃষক বিল প্রত্যাহারে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের অনুমোদনের পরেই বিতর্কিত কৃষি বিল তিনটি সরকারি ভাবে খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এরপরেও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলতে থাকে। তবে সম্প্রতি সেই সমস্ত দাবিও মেনে নেওয়া হয়। আর এরপরেই আজ স্থগিত করা হয় কৃষক আন্দোলন।
We hate spam as much as you do