অন্ধ্র প্রদেশের নয়া রাজ্য়পাল হিসেবে এস আব্দুল নাজ়িরের নিয়োগের নিন্দা করে কংগ্রেস বলেছে, এই ধরনের নিয়োগ বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং অবক্ষয় স্পষ্ট করে।
অযোধ্যা মামলার বিচারপতি অন্ধ্রের রাজ্যপাল নিযুক্ত! সমালোচনায় বিরোধীরা
Feb 13, 2023
মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড সহ ১২ টি রাজ্যে নয়া রাজ্যপাল নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস আব্দুল নাজ়িরকে নিয়োগ করা হয়েছে। নাজিরের নিয়োগ নিয়ে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দলের নেতা। এবার এই নিয়োগ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের আক্রমণের জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু । তিনি বলেছেন, রাজ্যপালের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সমগ্র ‘ইকো-সিস্টেম’ রাস্তায় নেমে পড়েছে।
কারও নাম উল্লেখ না করেই রবিবার আইনমন্ত্রী বলেছেন, তাঁদের বোঝা উচিত যে ভারতকে ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য হিসেবে আর চালনা করা যাবে না। উল্লেখ্য, রবিবার ১২ টি রাজ্যের রাজ্য়পাল বদল করেছে কেন্দ্র। সেদিন সকালেই সেই নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। অন্ধ্র প্রদেশের নয়া রাজ্য়পাল হিসেবে এস আব্দুল নাজ়িরের নিয়োগের নিন্দা করে কংগ্রেস বলেছে, এই ধরনের নিয়োগ বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং অবক্ষয় স্পষ্ট করে।
কংগ্রেসের এই মন্তব্যের জবাব দেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। টুইটে রিজিজু বলেন, সংবিধানের বিধান দ্বারাই দেশ চালিত হবে। তিনি লেখেন, “একজন রাজ্যপালের নিয়োগ নিয়ে গোটা ইকো-সিস্টেম আরও একবার রাস্তায় নেমে পড়েছে। এর থেকে তাঁদের বুঝে যাওয়া উচিত, তাঁরা ভারতকে আর ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য মনে করতে পারবেন না। এখন ভারত সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, দেশের মানুষ দ্বারা চালিত হবে।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রায় দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস আব্দুল নাজ়ির। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৯ সালের অযোধ্য়া জমি বিবাদ মামলা ও তাৎক্ষণিক তিন তালাক। অযোধ্য়া মামলার শুনানিতে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের তৃতীয় বিচারপতি ছিলেন আব্দুল নাজ়ির। গত ৪ জানুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদ থেকে অবসর নেন। তারপরই অন্ধ্র প্রদেশের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ পেলেন ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিকে অযোধ্যা মামলায় বেঞ্চের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তিনিও মনোনীত হয়েছেন। এইবার আব্দুল নাজ়িরের নিয়োগ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তবে শাসক দল বিজেপি কংগ্রেসের এই সমালোচনা খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছেন, অতীতেও বেশ কয়েকবার প্রাক্তন বিচারপতিদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ করা হয়েছে। বরং বিজেপি অভিযোগ করেছে, সবকিছুতে রাজনীতির রং লাগানো অভ্য়াস কংগ্রেসের।
এই প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ২০১৩ সালে রাজ্যসভায় অরুণ জেটলির একটি মন্তব্য উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন, “অবসরের পরে চাকরির আকাঙ্খা কর্মরত থাকাকালীন রায়গুলিকে প্রভাবিত করে।” এটা বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার জন্য আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
We hate spam as much as you do