আমাদের দেশের শ্রমিকেরা উঠে এসেছিলেন কিন্তু কৃষক সম্প্রদায়ের ভেতর থেকেই ।কৃষক সম্প্রদায়ের সংগ্রামী বনিয়াদের ভেতর দিয়েই, তাঁদের সর্বহারা শ্রেণীর চেতনার ভেতর দিয়েই আমাদের দেশের কৃষক সমাজের অন্তস্থল থেকেই শ্রমিক শ্রেণীর উৎপত্তি
মে দিবস: শতাব্দী অতিক্রান্ত একটি আত্মপ্রত্যয়
আট ঘন্টা কাজের সময়সীমা দাবি প্রথম উত্থাপন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াএ। উত্থাপন করেছিলেন সে দেশের শ্রমিকেরা। ১৮৫৬ সালের ১ লা এপ্রিল দিনটিকে এই দাবিটি উত্থাপনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকেরা ঠিক করেছিলেন। ১৮৫৬ সালের ২১ শে এপ্রিল তাঁরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাবেন ,সভা করবেন ,সভা করে কাজের সময়সীমা ৮ ঘণ্টা করার দাবি উত্থাপিত করবেন বলে ঠিক করেছিলেন। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং সংগঠিত উপায়ে অস্ট্রেলিয়া শ্রমিকেরা এই ২১ শে এপ্রিল তারিখ টিতে কর্মবিরতি পালন করেন। সেখানে তাঁরা আট ঘন্টা কাজের দাবিতে লড়াইয়ের শপথ গ্রহণ করেন ।অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকদের সেই অসামান্য লড়াইয়ের ঠিক ছয় বছর পর ,অর্থাৎ; ১৮৬২ সালের মে মাসে আমাদের দেশের ,তথা আমাদের রাজ্যের হাওড়া র রেল শ্রমিকরা প্রথম আট ঘন্টা কাজের দাবি উত্থাপন করেছিলেন। সেই দাবিতে তাঁরা ধর্মঘট পালন করেছিলেন। গোটা দুনিয়ায় কাজের সময় কমানোর দাবিতে আন্দোলনের ইতিহাসে যখন অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকেরা নির্মাণ করছেন, সেই রকম একটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা সেই সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটের ভারতবর্ষের মাটিতে এসে পৌঁছয় নি ই বলা যেতে পারে ।অথচ সেই ভারতের মাটিতেই ১৮৬২ সালের রেল হাওড়া রেল শ্রমিকদের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন গোটা বিশ্বের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনস্বীকার্য ঘটনা।
১৮৬২ সালের মে মাসে হাওড়া র রেল শ্রমিকরা যে আট ঘন্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট করেছিলেন, সেই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় বারোশো রেল শ্রমিক। ধর্মঘটের সাফল্য নিয়ে সেই সময়ের প্রচার মাধ্যম সরব না হলেও ,সেই সময়ের বিশিষ্ট সংবাদপত্র 'সোমপ্রকাশ' এই ধর্মঘটের কথাটির তাঁদের কাগজে প্রকাশ করেছিল গুরুত্ব সহকারে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শোষণ নিপীড়নের প্রতিবাদে প্রতিরোধে আমাদের দেশের কৃষকদের যে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের গৌরবময় ভূমিকা ছিল ,আমাদের দেশে রেল শ্রমিকদের মাধ্যমে সংগঠিত প্রথম ধর্মঘটের ভেতর দিয়ে সেই সংগ্রামেরই সুস্থ সহজাত প্রকৃতির একটা পরম্পরা ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ।
আমাদের দেশের শ্রমিকেরা উঠে এসেছিলেন কিন্তু কৃষক সম্প্রদায়ের ভেতর থেকেই ।কৃষক সম্প্রদায়ের সংগ্রামী বনিয়াদের ভেতর দিয়েই, তাঁদের সর্বহারা শ্রেণীর চেতনার ভেতর দিয়েই আমাদের দেশের কৃষক সমাজের অন্তস্থল থেকেই শ্রমিক শ্রেণীর উৎপত্তি। তবে১৮৬২ সালে কাজের সময় কমানোর দাবিতে রেল শ্রমিকদের প্রথম ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হওয়ার কিছু পরে, ১৮৭৭ সালে বোম্বের শাপূর্জি বেঙ্গলি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে শ্রমিকদের কাজের সময় নির্দিষ্ট করার দাবি কে উত্থাপন করেন ।
শাপূর্জি কারখানা আইনের একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেন । সেটি তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেন। তবে শাপূর্জি এই দাবি উত্থাপন করার আগে আমাদের এই বাংলায় ব্রাহ্ম আন্দোলনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম কারখানা আইনের জন্য ইংল্যান্ডের বিভিন্ন সভায় দাবি উত্থাপন করেছিলেন ।শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবি উত্থাপনের প্রায় সমসাময়িককালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাধনা পত্রিকায়' স্ত্রী মজুর' নামক একটি প্রবন্ধ লেখেন। এই প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেন; কারখানা মজুরদের লইয়া ইউরোপে আজকাল শ্রমিক আন্দোলন চলিতেছে। সমাজের প্রতি লক্ষ্য করিয়া আইনের সৃষ্টি হইতেছে ।
এইসব সামাজিক আন্দোলনের ফলশ্রুতি হলো আমাদের দেশে ১৮৮১ সালে প্রথম কারখানা আইন । যদিও সেই আইনে কেবলমাত্র শিশু শ্রমিকদের জন্য দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ এবং ১ ঘণ্টা বিরতি আইনগত ভাবে অনুমোদিত হয়। তখনো পর্যন্ত কিন্তু মহিলা এবং পুরুষ শ্রমিকদের কাজের সময় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্দিষ্ট ছিল।
শিল্প বিপ্লবের ১০০ বছর পর ১৮৬৬ সালে আমেরিকার শ্রমিকেরা কিন্তু প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল এই দেশের শ্রমিক শ্রেণীকে পুঁজিপতিদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য। এই মুহূর্তে প্রথম এবং প্রধান প্রয়োজন হল এমন একটি আইন পাস করা যার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত রাজ্যে সাধারণ কাজের দিন হবে ৮ ঘন্টা ।
১৮৮৪ সালে ভারতবর্ষ এবং আমেরিকায় শ্রমিকদের জীবনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে ।সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বোম্বে সুতাকল শ্রমিকরা এক বিরাট সমাবেশ সংগঠিত করেন সেই সমাবেশ থেকে কারখানা আইনের জন্য ,বিশেষ করে কাজের ঘন্টা কে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি কে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয় ।সেই দাবির স্বপক্ষে আন্দোলন সংগঠিত করবার কথা বলা হয় । সেই আন্দোলনকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করা হয়।
সেই সমাবেশের ভেতর থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রমিক একটি দাবি পত্র তৈরী করেন ।সেই দাবি পত্রে স্বাক্ষর করেন ।সেই দাবি পত্রটি সরকারের নিকট পেশ করা হয় ।বোম্বের সুতাকলের কর্মচারী এন এল লোকান্ডের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল সেই সমাবেশ ।সেই সমাবেশটি হলো ভারতের শ্রমিকদের প্রথম সমাবেশ । এই সমাবেশটি গোটা বিশ্বের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস তথা ভারতবর্ষের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিয়েছে। ১৮৮৪ সালের ২৩ থেকে ২৬ শে সেপ্টেম্বর বম্বের সুতাকলের শ্রমিকরা একটি অসাধারণ সম্মেলন সংগঠিত করেন।এই সম্মেলনের ভিতর দিয়ে শ্রমিকেরা দাবি জানায় যে ,দুপুরের টিফিন এবং সকাল সাড়ে নটা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজের সময় নির্দিষ্ট করতে হবে ।
১৮৮৪ সালের ২ রাঅক্টোবর আমেরিকান ফেডারেশন অফ লেবার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে আমেরিকার শ্রমিকরা।সেই প্রস্তাবে বলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেশন এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে যে ,১৮৮৬ সালের পয়লা মে তারিখ থেকে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দিন বলে আইনত বাধ্য করা হবে। ১৮৮৮ সালে রক্তের অক্ষরে পয়লা মে তারিখটি শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্র বিন্দু ভূমিকা হিসেবে উঠে আসে ।এক সংগ্রামী চেতনার ঐতিহ্য বহন করছে সেই তারিখটি আমেরিকার শ্রমিক শ্রেণীর আট ঘন্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনের দিন হিসেবে বেছে নেওয়ার ভিতর থেকে।
১৮৮৯ সালের ১৪ ই জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের শতবর্ষের দিনটিতে গোটা বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে ৩৯১জন শ্রমিক প্রতিনিধি প্যারিসে মিলিত হয় এবং দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে কাল মার্কসের জামাতা ডাক্তার এভলিং প্রস্তাব করেন; প্রতি বছর পয়লা মে আন্তর্জাতিক মে দিবস হিসেবে পালন করবার । সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে বলা হয় ,যাতে করে একটি নির্দিষ্ট দিনে সমস্ত দেশের ,সমস্ত শহরের মেহনতী মানুষ তাঁদের নিজের নিজের সরকারের কাছে আট ঘন্টা কাজের আইন করে বেঁধে দেয়ার দাবি উত্থাপন করতে পারে এবং কংগ্রেসে গৃহীত অন্যান্য দাবিসমূহ উত্থাপন করতে পারে । সেই সব সিদ্ধান্ত গুলিকে কাজে পরিণত করতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে এই কংগ্রেস একটি বিশাল আন্তর্জাতিক বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ।
যেহেতু ১৮৮৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সেন্ট লুই সম্মেলনে আমেরিকান ফেডারেশন অফ লেবার ১৮৯০ সালের পয়লা মে তারিখে অনুরূপ বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত আগেই গ্রহণ করেছে, সেই কারণে ওই তারিখ থেকেই আন্তর্জাতিক বিক্ষোভ প্রদর্শনের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হলো।
সামন্ততান্ত্রিক পরিকাঠামোর ওপরেই উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে ভারতবর্ষে ধনতন্ত্রের বিকাশ শুরু হয়। ১৮৪০সালের পর থেকে আমাদের দেশে আধুনিক কল-কারখানা গড়ে উঠতে শুরু করে ।যদিও সংগঠিতভাবে শিল্প কারখানা কিন্তু আমাদের দেশে গড়ে ওঠে তারও অনেক পরে ।ফলে সংগঠিতভাবে শ্রমিকশ্রেণী বলতে যাঁদেরকে আমরা বুঝি ,সেই শ্রমিক শ্রেণীর উত্থান ভারতবর্ষে কিন্তু তখনও দেখা দেয় নি ।বিশেষ করে বম্বেতে সুতোকল এবং গঙ্গার তীর বরাবর বাংলার চট শিল্পের বিকাশ-- আমাদের দেশে শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
বাংলায় ১৮৬৬ সালের ১লা নভেম্বর বরানগরে শ্রমিকদের একটি বিরাট সভা অনুষ্ঠিত হয় ।সেই সভাটি ছিল মূলত চটকল শ্রমিকদেরই সভা ।তখন কিন্তু বরানগরের আশেপাশের ধীরে ধীরে চটকলগুলি গড়ে উঠতে শুরু করেছিল। বরানগরে চটকল শ্রমিকদের ওই সভা টির মূল সংগঠক ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের বিশিষ্ট নেতা শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা যেতে পারে যে, বাংলায় শ্রমিকদের ভেতর প্রথম তাঁদের সচেতনতা তৈরীর জন্য কাজ করতে শুরু করেন এই শশিপদ ই।
১৮৭০ সালে শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় চটকল শ্রমিকদের নিয়ে' শ্রমজীবী সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন। তার মাত্র কয়েক বছর আগে ১৮৬৪ সালের ২৮শে শে সেপ্টেম্বর কার্ল মার্কস এবং এঙ্গেলস তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে 'ওয়ার্কাস মেইন অ্যাসোসিয়েশন' নামক একটি সংগঠন ,যেটি ছিল মূলত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ,তার প্রতিষ্ঠা করেন ব্রিটেনে। শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে যখন শ্রমজীবী সমিতি আমাদের এই বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় তখনো কিন্তু মাক্স এর উদ্যোগে ব্রিটেনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার খবরটি এদেশের মানুষের কাছে অজানা ছিল না ।
১৮৭২ সালের ১৫ ই আগস্ট আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংঘের সাধারণ সভায় কলকাতা থেকে পাওয়া একটি চিঠি পড়া হয়েছিল ।সংশ্লিষ্ট চিঠি টিতে ভারতবর্ষে একটি শাখা খোলার অনুমতি আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংঘের কাছে চাওয়া হয়েছিল।সেই চিঠিতে লেখা ছিল, জনসাধারণের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ বর্তমান এবং বৃটিশ সরকারকে পূর্ণমাত্রায় সকলের অপছন্দ ।অন্যান্য জায়গার মতো শাসকশ্রেণীর বিলাস ব্যসনের সঙ্গে এখানেও শ্রমিকের অবস্থায় বৈপরীত্য মর্মান্তিক। শ্রমিকদের শ্রম থেকে সৃষ্টি হয় ওইসব শাসকের অবৈধ সম্পদ। শাখা খোলা হলে আন্তর্জাতিকের নীতি জনসাধারণকে নিয়ে আসবে তার সংগঠনের ভিতর।
যদিও এই চিঠিটির লেখক কে ছিলেন তা আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি।
১৮৭২সালে শশীপদ বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে 'ভারত শ্রমজীবী' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয় ।পত্রিকাটির দাম ছিল মাত্র এক পয়সা ।এই 'ভারত শ্রমজীবী' পত্রিকা টি হল আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর প্রথম মুখপাত্র। এই পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আর এক ব্রাহ্ম নেতা শিবনাথ শাস্ত্রী একটি অসামান্য কবিতা লিখেছিলেন ।সেই কবিতাটি সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
সেই কবিতায় শিবনাথ শাস্ত্রী বলেন; ওঠো জাগো শ্রমজীবী /ভাই উপস্থিত যুগান্তর/ চলাচল নারী পর/ ঘুমানোর আর বেলা নাই/ ওই দেখো সাগরের পাড়ে /শ্রমজীবী শত শত /কেমন সংগ্রামরত /এই ব্রত রবে নাআঁধারে /আয় তোরা দেখি সে সবারে/ আয় তবে শ্রমজীবী/নবোৎসাহে চলে আয়,/ সময় বহিয়া যায় ,/ঘোরতর বাজিছে রণ/যা করিবে-সার্থক জীবন ---এই কবিতায় যেন আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির এক অসামান্য সুর ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ।আমরা শিবনাথ শাস্ত্রী রসামাজিক অবদানের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে আলোচনা করে থাকলেও ,আমাদের দেশের শ্রমিক আন্দোলন সংগঠিত করবার একদম প্রথম লগ্নে তাঁর এই ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কে অনেকেই তেমন কিছু জানি না ।এই 'ভারত শ্রমজীবী' পত্রিকা প্রতিষ্ঠাতা তথা সম্পাদক শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তীকালে বিদেশে বহু শ্রমিক সভাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ভারতবর্ষের সেই সময় শ্রমিক শ্রেণীর প্রকৃত অবস্থা কি --তা আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আট ঘন্টা কাজের দাবিতে গোটা দুনিয়া জুড়ে যে আন্দোলন তৈরি হয়েছিল, আমাদের দেশে তা অত্যন্ত সংগঠিতভাবে পরিস্ফুট হয় ১৮৮০ সালে বোম্বাই জি আই পি রেল কারখানায় শ্রমিকদের আট ঘন্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনের ভেতর দিয়ে ।মূলত আমাদের দেশের শ্রমিক আন্দোলনের শুরুতে রেল শ্রমিকদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।১৮৮৯ সালে ভারত এবং ব্রিটিশ শ্রমিকদের ভাতৃত্বের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে ।১৮৮৯ সালের ২২ শে মার্চ ,শনিবার বৃটেনের ল্যাঙ্কাশায়ারের সুতো কলে শ্রমিকরা সাম্রাজ্যবাদী সরকারের ইন্ডিয়ান অফিসের সামনে ভারতবর্ষের শ্রমিকদের কাজের ঘন্টা কমানোর দাবিতে এক বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ সংগঠিত করেন।
সেই সমাবেশ সমাবেশে দুজন ব্রিটিশ শ্রমিকের অংশগ্রহণ এবং প্রকাশ্যে বক্তৃতা ছিল আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে ভারতবর্ষের শ্রমিকদের অবস্থার সঠিক দিকনির্দেশের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৮৯০সালের এপ্রিল মাসে লোকান্ডের নেতৃত্বে বোম্বের সুতো কলে দশ হাজার শ্রমিকদের একটি বিরাট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।বোম্বের সুতো কলে র দুজন মহিলা শ্রমিক সমাবেশে ঐতিহাসিক বক্তৃতা করেন ।আমাদের দেশের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এটি একটি নতুন ঘটনা হিসেবে সংগঠিত হয়। এই সমাবেশ থেকে সপ্তাহে একদিন ছুটি দাবি প্রথম করা হয় । বোম্বের মিল মালিক সমিতি সর্বপ্রথম শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয় ।এটি ছিল ভারতের সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের প্রথম জয় ।
এই জয়ের জন্য ভারতবর্ষের শ্রমিক সমাজ আজ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক এন এল লোকাণ্ডে কে। ১৮৯০সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর ভারত সরকার শ্রমিক আন্দোলনের চাপে পড়ে একটি কমিশন গঠন করেন। এই কমিশনের অভিমত এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৯১ সালের নতুন কারখানা আইন বিধিবদ্ধ হয় । ১৮৯২ সালের ১ লা জানুয়ারি থেকে সেই আইন কার্যকরী হয়। ওই আইনে প্রথম নারী শ্রমিকদের জন্য দিনে ১১ ঘণ্টার কাজ এবং দেড় ঘণ্টা বিরতি এবং শিশু শ্রমিকদের কাজের ঘন্টা পূর্ববর্তী আইন সংশোধন করে দিনে ৭ ঘণ্টা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় ।আর সপ্তাহে একদিন ছুটি আইনত স্বীকৃতি মেলে ।
আমাদের দেশের শ্রমিকদের জন্য দু-দুটি কারখানা আইন সৃষ্টি হলেও পুরুষ শ্রমিকদের কাজের জন্য কাজের ঘন্টা কিন্তু তখনো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি ।১৯০৫ সালে লঙ্কাশায়রের শ্রমিকেরা আবার ব্রিটিশ সরকারের সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইন্ডিয়ার কাছে এক প্রতিনিধিদল পাঠায়। ভারতীয় পুরুষ শ্রমিকদের জন্য কাজের ঘন্টা বিধিবদ্ধ করার দাবি সেই প্রতিনিধিদল পেশ করে ।বেঙ্গলি এবং এন এল লোকান্ডের মৃত্যুর পর কাজের ঘন্টা কমানোর দাবির আন্দোলনের ও সাময়িক মৃত্যু ঘটে এ।ই সময়ে শ্রমিক আন্দোলনে কোন সেভাবে বিকল্প নেতা গড়ে ওঠেনি ।
মনে রাখা দরকার যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের তখনো কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের আগে পর্যন্ত আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে ভারতের মুক্তি আন্দোলন সম্পর্কে যে বিক্ষিপ্ত আন্দোলন তখন চলছিল সেই আন্দোলন তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করে নি। তা সত্ত্বেও সব থেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো প্রথম আন্তর্জাতিকের কাছে কলকাতা থেকে প্রেরিত চিঠি ,শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রমজীবী পত্রিকা, শিবনাথ শাস্ত্রীর সেই পত্রিকায় কবিতা এবং রবীন্দ্রনাথের' সাধনা 'পত্রিকায় স্ত্রী মজুরদের উপর প্রবন্ধ এবং ১৮৯সালের ১লৃ নভেম্বর স্বামী বিবেকানন্দের সগর্বে ঘোষণা;" আমি একজন সমাজতন্ত্রী "।তার দুবছর পর ১৮৯৮সালে বিবেকানন্দ লিখলেন; "সকল দেশেই ওই রকম হয়েছে ।এখন আর সে কাল নেই । ইতর জাতিরা ক্রমেই এই কথা বুঝতে পারছে এবং তার বিরুদ্ধে সকলে মিলে দাঁড়িয়ে নিজেদের ন্যায্য পাওনা গন্ডা আদায় করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছে। ইউরোপে আমেরিকায় ইতর জাতিরা জেগে উঠে ওই লড়াই আগে আগে আরম্ভ করে দিয়েছে ।ছোটলোকদের ভেতর আজকাল এত যে ধর্মঘট হচ্ছে ওতেই ওই কথা বোঝা যাচ্ছে। এখন হাজার চেষ্টা করেও ভদ্র জাতেরা লোকেরা ছোট জাতদের আর দাবাতে পারবে না ।"
পরবর্তী সময়ে স্বামী বিবেকানন্দ এই ইতর জাতি দের শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজে বলেছিলেন;" হে ভারত! শ্রমজীবী, তোমায় প্রণাম"। বিবেকানন্দ ১৮৯৩ সালে শিকাগো শহরে ধর্ম সভায় ভাষণ দেয়ার পরবর্তী পর্যায়ে কিন্তু একথা বলেছিলেন ।আমাদের মনে রাখা দরকার সেই শিকাগো শহর ,যেখানে শ্রমিকরা এক রক্তক্ষয়ী শ্রমিক আন্দোলনের ভেতর দিয়ে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক শ্রেণী হিসাবে দিক চিহ্ন দেগে গিয়েছিলেন। বিবেকানন্দের উপলব্ধি সেই আন্দোলনের ভেতর থেকে এসেছিল। তিনি তাঁর লেখায় আমেরিকার কথা উল্লেখ করেছেন। বিবেকানন্দের ভিতর দিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক চেতনার প্রভাব যেমন লক্ষ্য করি ,তেমনি দেখতে পাই শোষিত মানুষের জাগরণের উপর তিনি কি অপরিসীম গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। যদিও শ্রমজীবি জনসাধারনের আধিপত্য স্থাপনের প্রশ্নে তাঁর চিন্তা আমরা সেভাবে দেখতে পাইনি। তবে একথা স্বীকার করতেই হবে ;এই পৃথিবীতে স্বামী বিবেকানন্দই বোধহয় প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে ,মানুষ প্রথম রাশিয়া এবং চীনে বিপ্লব ঘটাবে ।রাশিয়া এবং চীনে মানুষের এই বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনার কথা কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে, শ্রমিক আন্দোলনের কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে ,বিবেকানন্দ যেভাবে স্পষ্ট ভাষায় বলে গেছিলেন ,তাঁর আগে আর কোন ভারতীয় মনীষীর কন্ঠে তা সেভাবে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয় নি ।
১৯০৫সাল থেকে ১৯০৮ সাল-- এই সময়কালের ভেতরে আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণী যেসব ধর্মঘট করে ,তা ছিল রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই সময় কলকাতায় সরকারি প্রেস কর্মচারীদের ধর্মঘট এবং তাঁদের গগন বিদীর্ণ করা স্লোগান-- শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার একটি স্মারক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে ।
এই একই কালে বরিশালের সেটলমেন্ট কর্মচারিদের ধর্মঘট বিভিন্ন চটকল গুলি ধর্মঘট, জামালপুরে রেলওয়ে শ্রমিকদের ধর্মঘটের -- এসবের ই পুরোভাগে ছিলেন কিন্তু তৎকালীন জাতীয় আন্দোলনের চরমপন্থী নেতৃত্ব। অথচ ১৯০৮ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের মুক্তির দাবিতে বোম্বের সুতাকল শ্রমিকদের ৬ দিনব্যাপী ধর্মঘট এবং পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ,ব্যারিকেডের লড়াই যা ছিল আমাদের দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের শ্রমিকশ্রেণীর চেতনার পরিপক্কতা প্রকাশের একটি চিহ্ন।
তবুও কিন্তু তখনো পর্যন্ত শ্রমিকশ্রেণীর আট ঘন্টা কাজের দাবি রাজনৈতিক পর্যায়ের শীর্ষবিন্দুতে উপনীত হতে পারেনি। জাতীয় কংগ্রেসের চরমপন্থী নেতাদের সেইসব আন্দোলনে অংশগ্রহণ বুর্জোয়া দল কংগ্রেসের নীতিতে কোন পরিবর্তন কিন্তু ঘটাতে পারেনি ।তবে শ্রমিকশ্রেণীর এই ধর্মঘটের ফলে ভারতের আপসকামী রাজনৈতিক চরিত্রের পাশে পাশে সংগ্রামী শক্তি আমরা দেখতে পেয়েছিলাম ,তা পরবর্তীকালে ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাত্রা যুক্ত করে ছিল।
এসব সত্ত্বেও অত্যন্ত জোরের সঙ্গেই বারবার বলতে হয় যে ;বোম্বের সুতাকল শিল্পে শ্রমিকদের যে লড়াই ছিল , সেই লড়াই কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের ভিতর রাজনৈতিক চেতনা তৈরিতে বিরাট ভূমিকা নিয়েছিল। সেই আন্দোলন মানুষকে এক যুগান্তকারী ভূমিকার দিকে ঠেলে দিয়েছিল ।বোম্বের সুতো কলের শ্রমিকদের ধর্মঘট দেখে লেনিন পর্যন্ত বলেছিলেন ;ভারতবর্ষের শ্রমিকশ্রেণী এবার সচেতন রাজনৈতিক সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছে। ভারতবর্ষে রুশের অনুসরণকারী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শয়তানি খেলার শেষ হতে আর দেরি নেই ।
১৯২৮ সালে বোম্বের সকল শ্রমিকরা আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর উত্থানে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল ।বোম্বের সুতোকলের শ্রমিকরা রাস্তায় রাস্তায় শক্তি গড়ে তুলেছিল। পুলিশ ফৌজৃর বিরুদ্ধে মোকাবিলা কিভাবে করতে হয় ,হৃদয় থেকে কিভাবে রক্ত ক্ষরণ করে শ্রমিক আন্দোলন কে রক্ষা করতে হয়, তা বোম্বের সুতোকলের সংগ্রামী শ্রমিকরাই আমাদের দেশে প্রথম দৃষ্টান্ত সহকারে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
বোম্বের এই ব্যারিকেড লড়াইয়ে পুলিশের গুলিতে কয়েকশ মানুষ খুন হহ। জখম হন তার থেকে অনেক বেশি ।এই ব্যারিকেড লড়াইর প্রথম শহীদ ছিলেন বোম্বাইয়ের সুতোকল শ্রমিক গণপদ গোবিন্দ। আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণীর প্রথম রাজনৈতিক সশস্ত্র সংগ্রামের প্রথম শহীদ হওয়ার গৌরব কিন্তু অর্জন করেছিলেন বোম্বের শ্রমিকেরা ।এই সংগ্রামের চাপ আবার একেবারে কিন্তু বিফলে গেছিল এটা যদি কেউ মনে করেন তাহলে তিনি চরম ভুল করবেন ।১৯১১সালের শ্রমিক শ্রেণী মালিক শ্রেণীর কাছ থেকে পুরুষ শ্রমিকদের জন্য দিনে ১২ ঘণ্টা এবং শিশু শ্রমিকদের জন্য দিনে ৬ ঘন্টা কাজ আইনগত ভাবে লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল ।সেই প্রথম আমাদের দেশে পুরুষ শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট কাজের সময়ের দাবি আইনত স্বীকৃতি মেলে।
১৯১৪ সালে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে শ্রমিক আন্দোলন কার্যত আমাদের দেশে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ক্ষেত্রে এই সময় মহাত্মা গান্ধীর ভূমিকা পরিলক্ষিত হলেও সেই ভূমিকার ফলে আমাদের দেশের শ্রমিক সংগঠন তৈরি, শ্রমিক আন্দোলন বিকাশের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি ।গান্ধী প্রথম পর্যায়ের আপসকামী মনোভাব শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক ধরনের সমস্যা তৈরি করেছিল। ১৯১৬ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক এবং অ্যানি বেসান্ত নেতৃত্ব শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটা সংগ্রামী চিন্তা-চেতনা অবশ্য নিয়ে এসেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী নায়ক দের জন্য সৈন্য এবং অর্থ সংগ্রহের কাজে গান্ধীজি মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন ।তাঁর এই ভূমিকা নেয়ার পেছনে এই কারণটি ছিল যে, যুদ্ধে যদি ব্রিটিশ কে সাহায্য করা যায় তাহলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে হয়তো কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে যুদ্ধের পরে। যদিও তাঁর সেই চিন্তা আদৌ কোনরকম সাফল্য লাভ করতে পারিনি ।
আমাদের দেশে শ্রমিক শ্রেণীর এই অভ্যুত্থানের ফলে জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণীর বুকে এক ধরনের ভয় উপস্থিত হয় ।শ্রমিকশ্রেণী গান্ধীজীর আপসকামী মনোভাব কে অস্বীকার করে আমেদাবাদের শ্রমিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করে ।সেই সময় আমেদাবাদ ছিল ভারতীয় পুঁজির শীর্ষবিন্দুতে অবস্থানরত একটি অংশ। আমাদের দেশের সংগ্রামী শ্রমিক আন্দোলনের মুখে গান্ধীজী সংস্কারপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের জিগির আহমেদাবাদ থেকে তুলতে শুরু করেন। এভাবে তিনি আমেদাবাদের শ্রমিক আন্দোলন কে অন্য পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছিলেন ।গান্ধীজী হলেন ভারতীয় রাজনীতিকদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি, যিনি আমাদের দেশের শ্রমিক আন্দোলনের প্রথম রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বুর্জোয়াদের শোষণের পদতলে নিষ্পেষিত করার পথ পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। সেই পথেই আমাদের দেশের শ্রমিক আন্দোলন তার জন্ম লাভ নেই কার্যত দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে।
We hate spam as much as you do