তিনি বলেন, “জনসেবা এবং শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলিতে অনুকরণীয় কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারের পক্ষ থেকে অনেক পুরস্কার দেওয়া হয়। ইএমএস-কে যখন এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়, তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ভিএস-এর ক্ষেত্রে এটি মরণোত্তর প্রদান করা হয়েছে। তাঁর পরিবার এটি সানন্দে গ্রহণ করেছে।“
অচ্যুতানন্দনের পরিবার মরনোত্তর পদ্মবিভূষণ গ্রহণ করছেন আপত্তি নেই CPIM এর
27 Jan 2026,
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা সম্পর্কে নিজেদের দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এল সিপিআইএম। সোমবার কমিউনিস্ট নেতা তথা কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দনকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মান প্রদান করেছে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিআইএম। দল জানিয়েছে, যেহেতু অচ্যুতানন্দনের পরিবার এই সম্মাননা গ্রহণ করেছে, তাই এর বিরোধিতা করার কোনো কারণ নেই। তারা প্রয়াত নেতার পরিবারের আনন্দের অংশীদার।
রবিবার রাতে অচ্যুতানন্দনের ছেলে অরুণ কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি দিয়ে এই সম্মান গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন।
সোমবার সাংবাদিকদের সামনে কেরল সিপিআইএম-এর সম্পাদক এম. ভি. গোবিন্দন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, এর আগে ই. এম. এস. নাম্বুদিরিপাদ, জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কর্তৃক কেন্দ্রীয় সম্মান প্রত্যাখান করা ছিল তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যা দল সমর্থন করেছিল।
তিনি বলেন, “জনসেবা এবং শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলিতে অনুকরণীয় কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারের পক্ষ থেকে অনেক পুরস্কার দেওয়া হয়। ইএমএস-কে যখন এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়, তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ভিএস-এর ক্ষেত্রে এটি মরণোত্তর প্রদান করা হয়েছে। তাঁর পরিবার এটি সানন্দে গ্রহণ করেছে।“
দলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পরিবারেরই। তারা এটি সানন্দে গ্রহণ করেছে, আমাদের দল তা মেনে নিয়েছে। আমাদের ভিন্ন কোনো অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা তাঁদের পরিবারের এই আনন্দে তাঁদের সাথে শামিল হচ্ছি।“
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে পদ্মভূষণ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র সরকার। তিনি সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। দল তাঁর এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলেছিল, দলের নীতি হলো মানুষের জন্য কাজ করা, পুরস্কারের জন্য নয়।
সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী সেইসময় বলেছিলেন, “এই খবর ওঁর কাছে কোনও বড় খবর নয়। উনি পুরস্কারের প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করেন না। কেন্দ্র মাইলেজ খাওয়ার জন্য ওনাকে পুরস্কার দিচ্ছে।‘’
একইভাবে, ১৯৯২ সালে কেরালার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ই. এম. এস. নাম্বুদিরিপাদ পদ্মবিভূষণ সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ভারতরত্ন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ২০২২ সালে কেরালার প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে. কে. শৈলজা রমন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
We hate spam as much as you do