ঘটনার অভিযোগে বলা হয়েছে যে প্রায় ১৫-২০ জনের একটি বাহিনী লাঠি হাতে ঘরে ঢুকে পড়ে। যাজকের স্ত্রী বন্দনা নায়েক জানান যে তাঁর স্বামীকে টেনে বাইরে বের করে নেওয়া হয়। চড়-থাপ্পর, লাঠির বাড়ি সমানে চলতে থাকে। জুতোর মালা পরানো হয়। বজরঙ দলের স্থানীয় বাহিনীকে দায়ী করেছেন তিনি। এখানেও নির্যাতন থামেনি। বিধস্ত অবস্থায় ঘোরানো হয় গ্রামের রাস্তায়। এলাকার একটি হনুমান মন্দিরে নিয়ে তাঁর মাথা কামিয়ে দেওয়া হয়। তার পর গোবরজল এবং নালার নোংরা জল পান করতে বাধ্য করা হয়। তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করে এই বাহিনী।
ওড়িশায় খ্রিষ্টান যাজককে বজরঙ দলের নৃশংস মার, শাস্তির দাবী করল CPIM
27 Jan 2026
ওড়িশার ঢেঙ্কানলে খ্রীস্টান যাজককে ভয়াবহ নির্যাতনে জড়িত দোষীদের শাস্তি দাবি করল সিপিআই(এম)। সোশাল মিডিয়া পোস্টে সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে যে প্রশাসনকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে।
২৭ বছর আগের ভয়ঙ্কর স্মৃতি ফিরেছে বিজেপি শাসিত ওড়িশার ঢেঙ্কানলে। ২৭ বছর আগে ১৯৯৯ সালের ২২ জানুয়ারি কেওনঝড়ের মোহনপুরে অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান সন্ন্যাসী গ্রাহাম স্টেইনস ও তাঁর দুই শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে মারার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল বজরং দলের। এবার ঢেঙ্কানলে ধর্মান্তকরণে জড়িত থাকার অভিযোগে এক খ্রিস্টান সন্ন্যাসীকে জুতোর মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরানোর পাশাপাশি ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠল বজরং দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রায়শ্চিত্ত করতে ওই খ্রিস্টান সন্ন্যাসীকে জোর করে গোবর জল পান করতেও বাধ্য করার মতো অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তরে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নির্যাতিত খ্রিস্টান যাজক বিপিন বিহারী নায়েক।
ঢেঙ্কানলে যাজককে নির্যাতনের ঘটনা ৪ জানুয়ারির হলে তা সামনে আসে সম্প্রতি। স্থানীয় পজরঙ গ্রামে ওই যাজক বিপিনবিহারী নায়েক একজনের বাড়িতে প্রার্থনাসভার আয়োজন করেছিলেন।
ঘটনার অভিযোগে বলা হয়েছে যে প্রায় ১৫-২০ জনের একটি বাহিনী লাঠি হাতে ঘরে ঢুকে পড়ে। যাজকের স্ত্রী বন্দনা নায়েক জানান যে তাঁর স্বামীকে টেনে বাইরে বের করে নেওয়া হয়। চড়-থাপ্পর, লাঠির বাড়ি সমানে চলতে থাকে। জুতোর মালা পরানো হয়। বজরঙ দলের স্থানীয় বাহিনীকে দায়ী করেছেন তিনি।
এখানেও নির্যাতন থামেনি। বিধস্ত অবস্থায় ঘোরানো হয় গ্রামের রাস্তায়। এলাকার একটি হনুমান মন্দিরে নিয়ে তাঁর মাথা কামিয়ে দেওয়া হয়। তার পর গোবরজল এবং নালার নোংরা জল পান করতে বাধ্য করা হয়। তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করে এই বাহিনী।
বিজেপি সম্প্রতি আসীন হয়েছে ওড়িশা সরকারে। তারপর থেকে লাগাতার উগ্র হিন্দুত্ববাদী বাহিনীর তাণ্ডব চলছে। আক্রান্ত হয়েছেন বাংলার সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকরাও। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের কাছে প্রতিবাদ পাঠাতে দেখা যায়নি। তবে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাঙমা প্রতিবাদে চিঠি লিখেছেন।
ওড়িশায় সিপিআই(এম)’র পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে।
এদিকে যাজকের পরিবার ধর্ম বদলানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বারবারই এই অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করে বজরঙ দল।
নির্যাতিত খ্রিস্টান যাজক বিপিন বিহারী নায়েকের স্ত্রী বন্দনা নায়েক অভিযোগ করেছেন, ‘বজরং দলের সদস্য এবং স্থানীয় কিছু গ্রামবাসী প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে জুতোর মালা পরিয়ে বিপিনকে গ্রামে ঘোরায়। তার পরে স্থানীয় একটি হনুমান মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চুল কেটে ফেলে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। মন্দিরের সামনে প্রণাম করতে বাধ্য করা হয় এবং ড্রেনের জল এবং গোবর জল পান করতে বাধ্য করা হয়। মন্দিরে তার হাত একটি রডের পিছনে বেঁধে রাখা হয়। নির্যাতন চালানোর সময়ে আক্রমণকারীরা “জয় শ্রী রাম” বলতে বাধ্য করে।’ পারজং থানায় ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বন্দনা নায়েক। ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বজরং দলের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢেঙ্কানলের পুলিশ সুপার অভিনব সোনকার।
সিপিআই(এম) বলেছে, বিনা বাধায় ‘ধর্মান্তরের’ অভিযোগ তুলে এমন একের পর এক আক্রমণ চলছে। কেবল ব্যক্তির ওপর নয়, এই আক্রমণ সংবিধানের ওপর আঘাত। আঘাত ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তির ওপর। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।
We hate spam as much as you do