প্রতিবছরে জেলা পরিষদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ হয়। যা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বারে বারে। এখানেই শেষ নয় বিরোধী শূন্য হওয়ার পরে সেই টাকার ভাগ নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। খবর কম রাখেন না মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জেলা সফরে গিয়ে বারে বারে বার্তা দিয়েছেন। ভুল হলে শোধরানোর সময় দিতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে মানছে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। উপরন্তু বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে তৃণমূলের ছোট-মাঝারি থেকে বড় নেতাদের প্রাসাদোপম বাড়ি ও গাড়ির কথা। জায়গায় জায়গায় গজিয়ে উঠেছে বীরভূমের বগটুই গ্রামের ভাদু শেখের মতো নেতারা।
পঞ্চায়েত,পুরসভায় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বামফ্রন্টের বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল তৃণমূল সরকারের
বলা হচ্ছে দুয়ারির সরকার খুব জনপ্রিয় কর্মসূচি । সেই দুয়ারে সরকারের একটি বৃহৎ রূপ পঞ্চায়েত পৌরসভা যা বাম সরকার গঠিত হওয়ার পর ঘোষণা করা হয়েছিল। জ্যোতি বসু ঘোষণা করেছিলেন রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সরকার চলবে না, সরকার চলবে স্থানীয় মানুষের মতামত এবং স্থানীয়ভাবে যার ফলে পশ্চিমবাংলায় ১৯৭৭ সাল থেকে নিয়মিত শক্তিশালী পঞ্চায়েত ও পৌরসভা নির্বাচন এবং বোর্ড গঠন হয়েছে।
একেবারে নিচে পঞ্চায়েত সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষমতা জেলা পরিষদের হাতেই তুলে দিয়েছিল তারা। বামেরা নেই ১১ বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে জায়গায় জায়গায় তৃণমূল নেতাদের প্রাসাদোপম বাড়ি। বড় চারচাকার গাড়ি ছাড়া তাদের চলে না। ছবি-সহ অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। পঞ্চায়েতের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্ত।
প্রতিবছরে জেলা পরিষদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ হয়। যা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বারে বারে। এখানেই শেষ নয় বিরোধী শূন্য হওয়ার পরে সেই টাকার ভাগ নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। খবর কম রাখেন না মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জেলা সফরে গিয়ে বারে বারে বার্তা দিয়েছেন। ভুল হলে শোধরানোর সময় দিতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে মানছে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। উপরন্তু বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে তৃণমূলের ছোট-মাঝারি থেকে বড় নেতাদের প্রাসাদোপম বাড়ি ও গাড়ির কথা। জায়গায় জায়গায় গজিয়ে উঠেছে বীরভূমের বগটুই গ্রামের ভাদু শেখের মতো নেতারা।
পঞ্চায়েত ভোটে সব দখলের জন্য তৈরি হচ্ছে তৃণমূল। গ্রামীণ পরিকাঠামো খাতে খরচের যে ক্ষমতা জেলা পরিষদগুলির হাতে ছিল, তা পঞ্চায়েত দফতরের হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। বলা যেতে পারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নয়, ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্তই নেওয়া হল। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
আগে কোনও প্রকল্পের টেন্ডার ডাকা থেকে শুরু করে ওয়ার্ক অর্ডারের দায়িত্ব ছিল জেলা পরিষদের হাতে। কোন প্রকল্পের রিপোর্ট তৈরি করে জেলা পরিষদগুলি পাঠাত পঞ্চায়েত দফতরের কাছে। রাজ্য সরকারের মাধ্যমে তা যেত নাবার্ডের কাছে। প্রকল্পের অনুমোদন হলেই, সরকার জেলা পরিষদকে তা নিয়ে নির্দেশ দিত। এবার মধ্যে থাকবেন জেলার সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার। পঞ্চায়েত দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত দফতর থেকে ২৩ টি জেলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে সাতজন সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারকে। তাঁরাই গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের তহবিলে হওয়া কাজের দেখভাল করবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে সামাজিক ক্ষেত্রে অনুদানের ক্ষেত্রে সরকারের খরচ বিপুল পরিমাণ বেড়েছে। অন্যদিকে নেতাদের অর্থ উপার্জনের তাড়ণায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা যাচ্ছে না। সেই পরিস্থিতিতে বাড়তি খরচ কমিয়ে, সেই টাকা সামাজিক প্রকল্পেই দিতে চায় তৃণমূল সরকার। কেননা ভোটে ডিভিডেন্ট দিচ্ছে সামাজিক প্রকল্পই।
তবে অবশ্যই বামফ্রন্টের যে ঐতিহাসিক কর্মসূচি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ তা অনেকাংশেই ব্যাহত হতে চলেছে পঞ্চায়েত পুরসভার ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে সঠিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ অসুবিধায় পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে এমনকি সামাজিক প্রকল্প গুলো সমস্যায় পড়বে। সরকারের আয় সমস্যায় পড়বে। প্রশাসনিক আমলাদের হাতে পঞ্চায়েত পুরসভার ছোট ছোট বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা চলে যাবার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
We hate spam as much as you do