তারপর আদরের স্নানে আতর মাখিয়ে নিঙোনো উঠোনে হলুদ রোদ্দুরের ঝিকিমিকি এঁকে দিচ্ছিল, আমার স্বামী প্রতিদিন যখন মাঠ থেকে ফিরত তখন সন্ধ্যা তারা তাকিয়ে থাকত তার দিকে সেদিন ও ছিল---- আকাশের দিকে আঙ্গুল তুলে বলতো দেখো দেখো---- চাঁদের হাসির কেমন বাঁধ ভেঙেছে
একুশের কবিতা
----------------------------------------------------------------------------
আমি জব্বরের স্ত্রী বলছি
যুথিকা তরফদার (জুঁই)
আমার নাম কেউ কি কখনো জানতো !
আমি হারিয়ে আছি একটা সময় একটা দিনের আড়ালে
আমি কে জানো তোমরা ?
আমি এক ভাষা শহীদের স্ত্রী
লোকে বলে এ নাকি আমার গৌরব
কেউ কেউ বলে অহংকার
আমার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল সেই দিনটিতে,
বাহান্নর রক্ত মাখা মাটিতে
আমার স্বামীর নিস্পন্দ শরীরের ভাষাহীনতার মধ্যে
সেদিন সদ্য প্রসূতি আমি
আমার সন্তানের যত্ন করছিলাম
উঠোনে আমার বাংলার মা কাঠ গুঁজে ভালোবাসা রাঁধছিল
আর আমার বুকের মানিক কে মাখিয়ে দিচ্ছিল মাটির গান,
তারপর আদরের স্নানে আতর মাখিয়ে নিঙোনো উঠোনে হলুদ রোদ্দুরের ঝিকিমিকি এঁকে দিচ্ছিল,
আমার স্বামী প্রতিদিন যখন মাঠ থেকে ফিরত তখন সন্ধ্যা তারা তাকিয়ে থাকত তার দিকে
সেদিন ও ছিল----
আকাশের দিকে আঙ্গুল তুলে বলতো দেখো দেখো----
চাঁদের হাসির কেমন বাঁধ ভেঙেছে
তুমি ও গাও না
'বাংলার মাটি বাংলার জল
বাংলার বায়ু বাংলার ফল
পুণ্য হোক পুণ্য হোক পুণ্য হোক হে ভগবান' ।
সে রাতটাই আমাদের শেষরাত ছিল
নদীতে শেষরাতের ভাটিয়ালি সুর ফেরি করছিল যে মাঝি
তাতেও ছিল বাংলা মায়ের মাটির গন্ধ,
জ্যোৎস্না মাখা সেই রাতই আমার শেষ বসন্ত।
এখন আমি আমার স্বামীর দেওয়া অক্ষরের গায়ে হাত বোলাই
আর সন্তানের বুকে জ্বেলে দি
সুরমাখা অক্ষরের বাতি
আমার বিষাদ রজনী মুছে ফেলে
স্বামীর বীরত্বগাথায় ভেসে চলি,
আমার আদরের নকশিকাঁথায় দাম্পত্যকে মুড়ে
কবর দিয়েছি ধরনীর কোলে।
সবাই আঙ্গুল তুলে বলবে
ঐ, ঐ দেখো অক্ষরশহীদের স্ত্রী,
বুকের কান্না তখন বিজয়ের জয়গান গাইবে
একুশ এলে সবাই আমার স্বামীর গলায় মালা পরায়,
বাংলা ভাষার জয়গাথাঁর আলপনা আঁকে
আমি শুধু একটা কথাই বলি
আমার কান্নার মালা গাঁথা যেন হারিয়ে না যায়।
🌈🌈🌈🌈🎋🎋
'মা'
সুরজিৎ শর্মা
কলকাতার সড়কে সড়কে
সরু গলির মোড়কে মোড়কে
তোমার দেখা মেলে,
তোমার ভাষাই মুখে ফোটে
রসগোল্লা পেলে।
তোমার ধরন,তোমার চরণ
মাথায় করে নিয়ে,
কত মানুষ শহীদ হল
তোমায় মুক্তি দিয়ে।
তুমিই ছিলে স্বাধীনতার
প্রথম জয়ধ্বনী
তোমারই গর্ভে জন্মেছে
অসংখ্য হীরামণি।
ধুতি-পাঞ্জাবি আর শাড়ির সাজে
তোমায় বড্ড মানায়,
'দারুণ' শব্দের মাঝে আছে
তোমার পরিচয়।
বাঙালির মুখে মুখে তুমি ছুটে চলো
ডার্বির মাঠে বসে,তুমি মাতো ভালো।
মধুর ভাষা তুমি মধুময় টান
বাঙালির প্রিয় তুমি বাঙালির মান।।
We hate spam as much as you do