Tranding

10:21 AM - 04 Feb 2026

Home / Other Districts / চা শ্রমিকের নিখোঁজ তিন শিশু উদ্ধার, লেবু চুরি করে ভয় পেয়ে বাড়ি ছাড়ে।

চা শ্রমিকের নিখোঁজ তিন শিশু উদ্ধার, লেবু চুরি করে ভয় পেয়ে বাড়ি ছাড়ে।

ওরা আসলে প্রতিবেশীর গাছ থেকে লেবু পেড়ে খেয়েছিল। কিন্তু তারপর খুব ভয় পেয়ে যায়। বকা খাওয়ার ভয়ে পালিয়ে ২২ কিমি পর্যন্ত চলে আসে।

চা শ্রমিকের নিখোঁজ তিন  শিশু উদ্ধার, লেবু চুরি করে ভয় পেয়ে বাড়ি ছাড়ে।

 চা শ্রমিকের নিখোঁজ তিন  শিশু উদ্ধার, লেবু চুরি করে ভয় পেয়ে বাড়ি ছাড়ে।

ন-দশ বছরের তিনটে মলিন বাচ্চা ছেলে ঠাকুরপাট বাজারে ঘুরছে। দেখতে পেয়েছিল রাস্তায় ডিউটিতে থাকা সিভিক ভল্যান্টিয়ার বিপুল রায়। কেন ঘুরছিল ওরা? কোথায় ওদের বাড়ি?  বিন্নাগুড়ি চা বাগানের ভগৎ লাইনে।

ওরা আসলে প্রতিবেশীর গাছ থেকে লেবু পেড়ে খেয়েছিল। কিন্তু তারপর খুব ভয় পেয়ে যায়।  বকা খাওয়ার ভয়ে পালিয়ে ২২ কিমি পর্যন্ত চলে আসে।  

ধূপগুড়ি ব্লকের ঠাকুরপাট এলাকায় তাদের উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরতে দেখে স্থানীয় কিছু মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তাঁরাই  তাদের আটকে খবর দেয় গ্রামীন পুলিশকে। এরপর গ্রামীন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন শিশুকে জিঞ্জাসাবাদ করে।
রমিত, শাহিল আর জয়দীপের বাবা উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিক। দারিদ্র নিত্যসঙ্গী। শিশুরা বলেছে, সকালে প্রতিবেশীর গাছ থেকে লেবু পেড়ে খেয়েছিল। বকাঝকা খাওয়ার আশঙ্কায় তারা ৭-৮ কিমি রাস্তা পায়ে হেঁটে বিন্নাগুড়ি থেকে গয়েরকাটাতে যায়। সেখান থেকে  টোটোতে চেপে ১২ কিমি পেরিয়ে ঠাকুরপাটে পৌঁছায়। এরপর ফের ৪ কিমি পায়ে হেঁটে খুট্টিমারী এলাকায় একজনের মামার বাড়ি পৌঁছায়। কিন্তু সেখানেওবাড়িতে কাউকে না পেয়ে আবার ৪ কিমি পথ পেরিয়ে ফের ঠাকুরপাট বাজারে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, ঠিক ওই সময়েই স্থানীয়রা তাদের আটক করে। এরপর স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়ার বিপুল রায় মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।
একই পাড়ার ওই তিন শিশুর নাম রমিত ওরাও(৯), সাহিল ওরাও(১০) ও জয়দীপ ওরাও(১১)।  তাদের বাবা, মা চা বাগানে কাজ করেই দিন গুজরান করেন। ধূপগুড়ি থানার পুলিশ আধিকারিকরা তিন শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনজনের অভিভাবক মানতি ওরাও, পঞ্চমী ওরাও এবং গেন্দ্রা ওরাও থানায় এসে তার পুত্র সন্তানকে নিয়ে যান তাদের ছেলেদের নিয়ে যান।

ঘটনায় মানতি ওরাও বলেন, 'কাজের থেকে বাড়িতে ঢুকে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে জানতে পারি রমিত নিখোজ। এরপর থানা থেকে ফোন করলে আমরা গাড়ি জোগার করে থানায় যাই।পুলিশের এই তৎপরতায় আমরা আমাদের ছেলেদের পেলাম। পুলিশকে অনেক ধন্যবাদ।' ঘটনায় জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেন, 'আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এই পরিবারগুলির হাতে তাদের সন্তানকে তুলে দিতে পেরে।ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে পুরস্কৃত করা হবে। 

ছবি  -এই মুহুর্তে 

Your Opinion

We hate spam as much as you do