Tranding

10:13 AM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / "আমাকে রবীন্দ্রসদনে এসে মেরে যান" শাসকদলকে অনির্বাণের চ‍্যালেঞ্জ

"আমাকে রবীন্দ্রসদনে এসে মেরে যান" শাসকদলকে অনির্বাণের চ‍্যালেঞ্জ

২৮ ডিসেম্বর প্রতিবাদী সভায় গিয়েও মুখ খুলেছেন অনেকে। অনির্বাণ সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করলেন সমাজমাধ্যমেই। ‘বল্লভপুরের রূপকথা’-র পরিচালক লিখেছেন, “আমি প্রতিবাদ করছি, আরও অনেকের সঙ্গে, এটা জেনেই, যে এই প্রতিবাদ ব্যর্থ হবে। যার গায়ে হাত উঠেছে, তার গায়ে আবার হাত উঠতে পারে শীঘ্রই, এবং যিনি হাত তুলেছেন, তিনি তার সাহসে বলীয়ান হয়ে বাংলা মায়ের সুযোগ্য সন্তানের অনেকগুলো সার্টিফিকেট ঘরে বাঁধিয়ে রাখবেন।”

"আমাকে রবীন্দ্রসদনে এসে মেরে যান"  শাসকদলকে অনির্বাণের চ‍্যালেঞ্জ

"আমাকে রবীন্দ্রসদনে এসে মেরে যান"  শাসকদলকে অনির্বাণের চ‍্যালেঞ্জ

Dec 29,2022

সম্প্রতি নাট্যকর্মী তথা অভিনেতা অমিত সাহাকে প্রহারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানালেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। এই প্রথম সরাসরি শাসকদলের বিরুদ্ধে স্বর তুলতে দেখা গেল তাঁকে। সমাজমাধ্যমে এক সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন, “ভোট রাজনীতিতে কাজে আসে না, এমন শিল্পীদের মেরে ঠান্ডা করে দেওয়া হচ্ছে!”
ভোটকেন্দ্রিক গণতন্ত্রে শাহরুখ খান বা অমিতাভ বচ্চন না হলে অভিনেতাদের পাত্তা দেওয়া হবে না? 

শীতকাল মানেই শহরজুড়ে নাট্যোৎসবের মরসুম। অভিনেতা অমিত সাহাও সম্প্রতি খুশি হয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁর নাট্যদল বিদূষক নাট্যমণ্ডলী মুক্তমঞ্চে নয়া নাটক পরিবেশ করতে চলেছেন। বহুদিনের চেষ্টার ফল মঞ্চস্থ হতে চলেছিল ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বরে আয়োজিত নাট্যমেলায়। কিন্তু শুক্রবার এক অনভিপ্রেত ঘটনার শিকার হতে হয় অমিত সাহাকে। অভিনেতাকে মারধর করে বন্ধ করে দেওয়া হল তাঁর নাট্যোৎসব। যে ঘটনায় গর্জে ওঠে অমিতের সহকর্মী তথা টলিপাড়ার একাংশ।

অমিতের নাট্যোৎসব বন্ধ করে দেওয়ার পিছনে অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। অভিনেতা জানিয়েছেন, স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে নাট্যমেলার আয়োজনে সাহায্য চাইলে তাঁরা নাকচ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেয়। আর সেই গোটা ঘটনা সোশ্য়াল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই শাসকদলকে ধিক্কার জানান নাট্যব্যক্তিত্বরা।


অভিযোগ, জোরজুলুম করে অমিত সাহার নাট্যোৎসব বন্ধ করে দিয়েছে শাসকদেলর নেতা-কর্মীরা। উল্লেখ্য, ‘ভটভটি’, ‘বিরহী’, ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’, ‘লুটেরা’ এসব সিনেমার দৌলতে অমিত সাহা বর্তমানে টলিপাড়ার চেনা মুখ। তাছাড়াও নাটক, থিয়েটার করেন। আর সেই অভিনেতাকেই শারীরিক নিগ্রহ করায় প্রতিবাদী কণ্ঠ তুলেছেন তথাগত মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য, সায়ন ঘোষরা। তারা বলেন -- আসলে সবার মধ্যেই ফ্যাসিস্ট রাজনীতির সমর্থক রয়েছে, বেরিয়ে আসাটা শুধু সময় আর পরিস্থিতির অপেক্ষা। অমিত সাহাকে যে নাট্য উৎসব বন্ধ করে দিতে হল এ পরিস্থিতিতে সে লজ্জা শুধু রাজ্যের বা সরকারের নয়, সে লজ্জা আমাদের সবার।

২৮ ডিসেম্বর প্রতিবাদী সভায় গিয়েও মুখ খুলেছেন অনেকে। অনির্বাণ সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করলেন সমাজমাধ্যমেই। ‘বল্লভপুরের রূপকথা’-র পরিচালক লিখেছেন, “আমি প্রতিবাদ করছি, আরও অনেকের সঙ্গে, এটা জেনেই, যে এই প্রতিবাদ ব্যর্থ হবে। যার গায়ে হাত উঠেছে, তার গায়ে আবার হাত উঠতে পারে শীঘ্রই, এবং যিনি হাত তুলেছেন, তিনি তার সাহসে বলীয়ান হয়ে বাংলা মায়ের সুযোগ্য সন্তানের অনেকগুলো সার্টিফিকেট ঘরে বাঁধিয়ে রাখবেন।”

তাঁর কথায়, “আমি আজ বেলেঘাটাতেই শুটিং করছি, কিন্তু খুবই টাইট শিডিউল থাকায় সভাতে উপস্থিত থাকতে পারছি না। কিন্তু আমি এই সভায় উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলাম, কারণ গায়ে হাত উঠেছে। নিশ্চয়ই আগেও উঠেছে, অভিনেতার গায়ে, নাট্যকর্মীর গায়ে। সুদূর বা অদূর ইতিহাসে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমার জানার মধ্যে এই প্রথম হাত উঠেছে।”

গোটা স‍্যোসাল মিডিয়া জুড়ে ঘুরছে অনির্বাণের চিঠির বয়ান 

"আমি অনির্বাণ।
আমার এর পরের অভিনয় ১৫ই জানুয়ারি রবীন্দ্র সদন মঞ্চে।
এসে মেরে যান।"

Your Opinion

We hate spam as much as you do