Tranding

02:57 PM - 04 Feb 2026

Home / National / স্বামীজি সিপাহি বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, সরকারি ‘তথ্যে’ বিকৃতির রহস্য কি?

স্বামীজি সিপাহি বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, সরকারি ‘তথ্যে’ বিকৃতির রহস্য কি?

কেন্দ্রীয় সংস্থা পিআইবি লিখেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভক্তি আন্দোলনে সাধু সন্তরা অংশ নিয়েছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীচৈতন্যদেব। আর আন্দোলন ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই লেখা থেকেই। ইতিহাস বলছে, স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম হয়েছিল ১৮৬৩ সালে। প্রশ্ন উঠছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে তিনি কীভাবে অনুপ্রেরণা জোগাবেন।

স্বামীজি সিপাহি বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, সরকারি ‘তথ্যে’ বিকৃতির রহস্য কি?

স্বামীজি সিপাহি বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, সরকারি ‘তথ্যে’ বিকৃতির রহস্য কি?


১৮৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করা বিবেকানন্দ নাকি ১৮৫৭ সালের মহা বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা ছিল। এই তথ্যে দেশজুড়ে কটাক্ষের বন্যা বইছে। 


 স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (‌পিআইবি)‌ ওয়েবসাইটে স্বামীজিকে নিয়ে এই ভুল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার এই ভুল তথ্য পরিবেশন নিয়ে কটাক্ষ চলছে।


সারা দেশ ব্যপী অমৃত মহোৎসব পালন করছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিউ ইন্ডিয়া সমাচার নামে একটি ই ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা পিআইবি। ম্যাগাজিনটির মূল উদ্দেশ্যই হল কীভাবে বদলেছে ভারত সেই বিষয়টিকে তুলে ধরা। উঠে এসেছে ভক্তি আন্দোলনের প্রসঙ্গও। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থা পিআইবি লিখেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভক্তি আন্দোলনে সাধু সন্তরা অংশ নিয়েছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীচৈতন্যদেব। আর আন্দোলন ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই লেখা থেকেই। ইতিহাস বলছে, স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম হয়েছিল ১৮৬৩ সালে। প্রশ্ন উঠছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে তিনি কীভাবে অনুপ্রেরণা জোগাবেন।

কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো মোদী সরকারের কাজকর্মের প্রচারে ‘নিউ ইন্ডিয়া সমাচার’ নামক পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করে। সেই পত্রিকায় স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব বিষয়ে ‘নতুন ভারতের অমৃত যাত্রা’ নামক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে ‘ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা’ শীর্ষক অংশে লেখা হয়েছে, ‘ভক্তি আন্দোলনই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা করেছিল। ভক্তি যুগে স্বামী বিবেকানন্দ, চৈতন্য মহাপ্রভু, রমণ মহর্ষি আধ্যাত্মিক জাগরণ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। এটাই ১৮৫৭-র বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছিল।’


ইতিহাসবিদেরা বলছেন, ভক্তি আন্দোলনের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের কোনও সম্পর্কই নেই।  আসলে, ভক্তি আন্দোলন হয়েছিল ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র, মন্দির-মসজিদের নিয়ন্ত্রণ, জাতপাতের ভেদাভেদের বিরুদ্ধে। সেখানে কখনও স্বাধীনতা বা সশস্ত্র আন্দোলনের কথা বলা হয়নি। স্বামী বিবেকানন্দের মতো তামিল ধর্মগুরু রমণ মহর্ষিরও জন্ম সিপাহি বিদ্রোহের অনেক পরে, ১৮৭৯ সালে। নেট-দুনিয়ার নাগরিকদের কটাক্ষ, স্বামী বিবেকানন্দ কি টাইম মেশিনে চড়ে সিপাহি বিদ্রোহের আগের ভারতে হাজির হয়েছিলেন! কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, ‘ছদ্ম-ইতিহাসবিদেরাই মোদী জমানায় পণ্ডিত হিসেবে সমাদর পান।’

ইতিহাসবিদ ও বিরোধী রাজনীতিকরা অবশ্য একে নিছক তথ্যের বিকৃতি হিসেবে দেখতে রাজি নন। ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনে আরএসএস, হিন্দু মহাসভার কোনও ভূমিকা ছিল না। তাই মুঘল বা মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে হিন্দু শাসকদের লড়াইকেও স্বাধীনতা আন্দোলনের তকমা দিয়ে বিজেপি নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইছে। আর কংগ্রেস বলছে, বিজেপি এই ভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের একচ্ছত্র ভূমিকা লঘু করতে চাইছে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do