মৃত্যুর পরেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেন তরুণ মজুমদার। রবীন্দ্রসদন অথবা নন্দন কোথাও তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হোক তা চাননি বর্ষীয়ান এই পরিচালক। ফলত রাজ্য সরকার চাইলেও পরিবারের তরফে সব রকম রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
লাল পতাকা জড়িয়ে চলে গেলেন কালোত্তীর্ণ তরুন! দুদিন পর আজও শোক
তরুণ মজুমদারের দেহ এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে আসায় হয় এনটিওয়ান স্টুডিয়োয় তাঁর অফিসে। মৃতদেহে জড়ানো ছিল লাল পতাকা আর গীতাঞ্জলি।
লম্বা লড়াইয়ের শেষে 'সিনেমা পাড়া দিয়ে' নিজের পথ চলা শেষ করলেন তরুণ মজুমদার। সোমবার সকালে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিখ্যাত এই চিত্র পরিচালক।
নিজের সিনেমার মাধ্যমে প্রতিবার চেষ্টা করেছেন সাধারণ মানুষের জীবনকে তুলে ধরতে। সেরকমই সাধারণ মানুষের মতই জীবন কাটানোর চেষ্টা করেছেন তিনি নিজে। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের জীবনের কথা নিজের সিনেমায় তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন আজীবন।
এহেন তরুণ মজুমদার শেষ সময় অবধি নিজের মতাদর্শের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন অনড়ভাবে। বামপন্থি মনন নিয়ে আজীবন পথ চলা তরুণ মজুমদারের শেষ কিছু ইচ্ছা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে মতাদর্শের প্রতি তাঁর চির আনুগত্য।
তরুণ মজুমদারের দেহ এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে আসায় হয় এনটিওয়ান স্টুডিয়োয় তাঁর অফিসে। মৃতদেহে জড়ানো ছিল লাল পতাকা আর গীতাঞ্জলি। সেখান থেকেই ফের এসএসকেএম হাসপাতালে দান করে দেওয়া হয় তাঁর মৃতদেহ।
মৃত্যুর পরেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেন তরুণ মজুমদার। রবীন্দ্রসদন অথবা নন্দন কোথাও তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হোক তা চাননি বর্ষীয়ান এই পরিচালক। ফলত রাজ্য সরকার চাইলেও পরিবারের তরফে সব রকম রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এনটিওয়ান স্টুডিয়োয় তাঁর অফিসে মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারলেও তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কোনও ফুল আনতেও বারণ করা হয় তাঁর অনুরাগীদের।
ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বহুবার উঠে এসেছে তার বামপন্থী হওয়ার প্রসঙ্গ। প্রতিবার যে দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন আমৃত্যু বামপন্থী থাকব তা তরুণ প্রজন্মের কাছে অসৎ না হওয়ার শিক্ষা।
প্রয়াত বর্ষীয়ান পরিচালক তরুণ মজুমদরের প্রয়ানের পর দুদিন কেটে গেছে এখনো চলচ্চিত্র জগত সেই শোকে মুহ্যমান ৷ দীর্ঘদিন তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৷ সোমবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ৷
তরুণ মজুমদারের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড ৷ তাঁর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই এসএসকেএমে এক এক করে সেখানে আসতে শুরু করেন টলিউডে তাঁর সহকর্মীরা ৷
এসেছিলেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী ৷ তিনি বলেন, ‘‘ওঁর ছবি দেখে বড় হয়েছি ৷ অনেক কিছু শিখেছি ৷ আমাদের অভিভাবক ছিলেন ৷ বাংলার মাটির গন্ধ ছবিতে পেয়েছি ৷ তাঁর প্রয়াণে যে ক্ষতি হল, তা অপূরণীয় ৷’’তরুণ মজুমদার পরিচালিত বেশ কিছু ছবিতে গান গেয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ৷ তিনি বলেন, ‘‘বেশ কিছু ছবিতে গান গেয়েছি ৷ অনেক নতুন নায়ক নায়িকাকে উনি সিনেমায় এনেছেন ৷’’
সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন তরুণ মজুমদার, শোকবার্তা ভাস্বরের। তরুণ মজুমদারের হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতের আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তাপস পাল ৷ দাদার কীর্তি ছিল তাপস পালের প্রথম সিনেমা ৷ করোনাকাল শুরুর কিছু আগেই প্রয়াত হন টলিউডের এই নায়ক ৷ এদিন তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পাল এসেছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে ৷ তিনিও স্বাভাবিকভাবেই শোকস্তব্ধ ৷ তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল হাসপাতালে আসার আগে পর্যন্ত ৷ এমনটাই জানিয়েছেন নন্দিনী পাল ৷তরুণ মজুমদার পরিচালিত আলো সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, ‘‘উনি সময়ের থেকে অনেক এগিয়েছিলেন ৷ আলোর পর দু’টি শর্ট ফিল্ম করেছিলেন আমাদের নিয়ে ৷ সেই সময় হিন্দি-বাংলায় শর্ট ফিল্মের চল সেই অর্থে ছিল না ৷ দ্বিতীয়টি আবার ছিল প্রথমটার সিক্যুয়েল ৷ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করতেন ৷’’
এদিকে রাজ্য সরকার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রয়াত পরিচালকের শেষকৃত্য করতে চেয়েছিল ৷ জানা গিয়েছে যে পরিবারের তরফে প্রত্যাখান করা হয়েছে ৷ তবে পরিবারের ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর দেহ দান করা হচ্ছে এসএসকেএমে ৷এই নিয়ে গণদর্পণের অন্যতম সম্পাদক শ্যামল চট্টোপাধ্যায় জানান, গণদর্পণকে মরণোত্তর দেহদানে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন ৷ এদিন পরিবারের তরফে দেহদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করা হয় ৷ সেই মতো ব্যবস্থা করা হয় ৷
We hate spam as much as you do