Tranding

03:23 PM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / "শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে" প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাস

"শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে" প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাস

‘মাটি-পৃথিবীর টানে মানব-জন্মের ঘরে কখন এসেছি, না এলেই ভালো হত অনুভব করে; এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে সব বুঝেছি শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে; দেখেছি যা হলো হবে মানুষের যা হবার নয়— শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলই অনন্ত সূর্যোদয়।’

"শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে" প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাস

"শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে" প্রয়াণ দিবসে কবি জীবনানন্দ দাস

২২ অক্টোবর ২০২৩


পৃথিবীর বুকে আজো " মৃত্যু আর মাছরাঙা ঝিলমিল" করে। 
"এখনো এ পৃথিবীতে" জীবনের পথে আসে পায়ের চিহ্ন।
সময়ের ঢের আয়ু শেষ করে প্রদীপ জ্বালে স্থির অনুভব।
"তোমার স্বপ্নের হাতে" ধীরে ধীরে স্বপ্ন ঝরে
শান্তি ঝরে আকাশ থেকে।
এক বিচ্ছিন্ন সময়ে মৃত্যু হয়ে যায় আমাদের জন্মের----


১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে ট্রামের ধাক্কায় আহত হন জীবনানন্দ দাশ। ট্রামের ক্যাচারে আটকে দলিত হয়ে গিয়েছিল তাঁর শরীর। এর আট দিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। আইন অনুযায়ী তাঁর মৃত্যু যেহেতু দুর্ঘটনায়, ফলে পোস্টমর্টেম তো হতে হবে। তাই কবির মৃতদেহ নিয়ে যেতে হাসপাতালে এসে দাঁড়িয়েছিল কলকাতার পুলিশেরা—না, মৃতদেহ কিছুতেই ছাড়বে না তারা। এ সময় জীবনানন্দের চিরকালের প্রায়-শত্রু ও সমালোচক, ‘শনিবারের চিঠি’র সজনীকান্ত দাস আবার দাঁড়ালেন ত্রাতার ভূমিকায়। এর আগে জীবনানন্দ যখন দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন, সে সময় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে সজনীকান্তের দৌড়ঝাঁপেই মূলত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা হয় জীবনানন্দের। এবারও তিনিই নিলেন মুখ্য ভূমিকা। মূলত তাঁর তদবির ও কলকাতার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের পরোক্ষ হস্তক্ষেপে পোস্টমর্টেম থেকে নিবৃত্ত হয় পুলিশ।

 

১৪ থেকে ২২ তারিখ। ৮ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে যেন যুদ্ধই করা হলো। অবশেষে ২২ অক্টোবর রাত ১১টা ৩৪ মিনিটে রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ প্রয়াত হলেন। পরের দিন হলো নাতিদীর্ঘ শোকযাত্রা। মরদেহ নেওয়া হলো দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট মন্দিরের পাশে কেওড়াতলা শ্মশানঘাটে। চিতায় চড়ানো হলো সেই কবিকে, যিনি লিখেছিলেন:

‘মাটি-পৃথিবীর টানে মানব-জন্মের ঘরে কখন এসেছি,
না এলেই ভালো হত অনুভব করে;
এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে সব বুঝেছি
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
দেখেছি যা হলো হবে মানুষের যা হবার নয়—
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলই অনন্ত সূর্যোদয়।’

জন্ম ১৮৯৯ সাল ১৭ ফেব্রুয়ারি
মৃত্যু ১৯৫৬ সাল ২২ অক্টোবর

Your Opinion

We hate spam as much as you do