তথাকথিত ক্ষুব্ধ শিক্ষক চাকরি প্রার্থীরা তেড়ে এলেও পুলিশ আমাকে দেখে যে সুরক্ষা বলয় তৈরি করল তা ভেদ করতে পারল না। শুরু হল তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতি । তরুণ আইনজীবীরা উত্তেজিত ও কম শক্তিশালী নন। হাতাহাতি, বোতল ছুঁড়ে মারা এসব উপেক্ষা করে চাকুরি প্রার্থীদের তাড়িয়ে দিয়ে জুনিয়র দের নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। পুলিশ প্রথম দিকে তৎপরতা না দেখালেও, আমি অকুস্থলে হাজির হবার পর যথাযথ পদক্ষেপ নিলেন।
'শাসক দল দুর্নীতির পক্ষে থাকা..' শিক্ষকদের একাংশের ঘেরাও বিকাশ ভট্টাচার্যের চেম্বার
26th April 2025
সুপার নিউমোরিক পোস্ট (Super Numeric Post) নিয়ে রাজ্যের থেকে লিখিত তথ্য চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট । আর এই খবর পাওয়ার পরই এই মামলায় মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর চেম্বার ঘেরাও করে অবস্থানে বসেন শারীর শিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার শিক্ষকদের একাংশ। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করেছেন বিকাশ। তাঁর কথায়, আবার প্রমাণিত হল রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নেই।
শারীর শিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগে মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলায় রাজ্যের স্পষ্ট বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির যে সিদ্ধান্ত, সেটা কাদের জন্য সেই তথ্য মৌখিকভাবে নয়, লিখিতভাবে রাজ্যকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আর এরপরই নতুন করে চাকরি হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সুপার নিউমোরিক পোস্টের দৌলতে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে।
হাইকোর্টের নির্দেশের কথা জানার পরই আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর চেম্বার ঘেরাও করেন শিক্ষকদের একাংশ। এই ঘটনা নিয়ে বিকাশের প্রতিক্রিয়া, ''যারা লড়াই করে আইন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাসক দল দুর্নীতির পক্ষে যারা আছেন তাঁদের লেলিয়ে দিচ্ছে।'' বিকাশ জানিয়েছেন, তিনি বাড়ি চলে গেছিলেন। তবে জুনিয়ররা চেম্বার থেকে বেরোতে পারছেন না শুনে চলে আসেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, যারা এমন কাজ করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ''আবার প্রমাণিত হল, এখানে আইন-শৃঙ্খলা, সভ্যতা-ভদ্রতা কিছু নেই।''
বিকাশ ভট্টাচার্য্য ঘরে ফেরার পর লেখেন
"অবরুদ্ধ সমস্ত জুনিয়র আইনজীবী বন্ধুদের মুক্ত করে এখন বাড়ি ফেরার অবসর পেলাম। এমন একটি নক্কারজনক ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই । ভবিষ্যতে ঘটবে কিনা তাও জানিনা।
মমতার সরকার বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি করছে । আমি এইসব জুনিয়র আইনজীবীদের সহযোগিতায় আইনের প্রাঙ্গণে দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করার ফলে ক্ষিপ্ত মমতা ধারাবাহিকভাবে আমাকে আক্রমণ করছেন।
আজ দুর্নীতি মূলক প্রক্রিয়ার মারফত সুপার নিউমারেরি পদ তৈরি করার মামলা শুনানি ছিল। সে মামলা শুনানি শেষ হল না। ক্ষিপ্ত ব্যর্থ চাকরি প্রত্যাশীরা আমার চেম্বার ঘেরাও করতে এসে হতাশ হয়ে সুদীপ্ত বিক্রম ফিরদৌসের কিরণশঙ্কর রায় রোডে অবস্থিত চেম্বার ঘেরাও করে রাস্তায় বসে পড়েন।
বেঙ্গল ক্লাব দপ্তরে আরবিট্রেশনে ব্যস্ত ছিলাম। তার মাঝেই জানলাম চেম্বারে বাচ্চা বাচ্চা মেয়ে আইনজীবীরা আটকে আছে । রেজিষ্ট্রার হাইকোর্ট ফোন করে আমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে খোঁজ খবর নিলেন, এবং জানালেন প্রশাসনিক উদ্যোগে আমার জুনিয়র দের নিরাপত্তা ও ঘেরাও মুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এডভোকেট জেনারেল কে ফোন করলে,তিনিও আশ্বস্ত করলেন। তারপর ফোনে জানলাম সুদীপ্ত রা বেরুতে পারছে না । চাকুরি প্রার্থীরা রাস্তায় অবস্থান করছে ।
ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেল। ছুটে গেলাম কিরণশঙ্কর রোডে।
তথাকথিত ক্ষুব্ধ শিক্ষক চাকরি প্রার্থীরা তেড়ে এলেও পুলিশ আমাকে দেখে যে সুরক্ষা বলয় তৈরি করল তা ভেদ করতে পারল না। শুরু হল তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতি । তরুণ আইনজীবীরা উত্তেজিত ও কম শক্তিশালী নন। হাতাহাতি, বোতল ছুঁড়ে মারা এসব উপেক্ষা করে চাকুরি প্রার্থীদের তাড়িয়ে দিয়ে জুনিয়র দের নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। পুলিশ প্রথম দিকে তৎপরতা না দেখালেও, আমি অকুস্থলে হাজির হবার পর যথাযথ পদক্ষেপ নিলেন।
এ কোন রাজ্য? যেখানে আইনজীবীরাও স্বাধীন ভাবে পেশা করতে পারবেন না?
মুখ্যমন্ত্রী মামলায় হেরে গেলে আইনজীবী ও বিচারপতি দের গালাগাল করবেন?
সভ্য সমাজ কি বলেন? "
We hate spam as much as you do