Tranding

01:30 PM - 04 Feb 2026

Home / National / ব্যাঙ্ক ধর্মঘটঃ ১৫-১৬ মার্চ,গরীব, মধ্যবিত্তের স্বার্থে , ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে

ব্যাঙ্ক ধর্মঘটঃ ১৫-১৬ মার্চ,গরীব, মধ্যবিত্তের স্বার্থে , ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে

বেসরকারিকরণের ফলে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় একদল অসৎ শিল্পপতিদের হাতে চলে যাবেই শুধু নয় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এই বিশাল পরিমাণ সম্পদ কাজে লাগানো যাবে না

ব্যাঙ্ক ধর্মঘটঃ ১৫-১৬ মার্চ,গরীব, মধ্যবিত্তের স্বার্থে , ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে

*রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোকে বেসরকারিকরনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আগামী ১৫ -১৬ মার্চ ২০২১ সারা দেশে দুদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট।*

ব্যাঙ্ক শিল্পে কর্মরত প্রায় দশ লক্ষাধিক অফিসার ও কর্মচারীদের নয়টি সংগঠন এর যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU) দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকশিল্পকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আগামী ১৫-১৬ মার্চ দুদিনের দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘট এর ডাক দিয়েছে। এই ধর্মঘটে রিজার্ভ ব্যাংক সহ সকল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যা়ঙ্ক, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, সমবায় ব্যাঙ্ক এর সকল প্রশাসনিক অফিস ও শাখা বন্ধ থাকবে।
১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় দেশের কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পোদ্যোগ, ছোট ব্যবসা একটা ভয়ংকর সংকটের মধ্যে ছিল - মানুষের দারিদ্র্য ছিল অপরিসীম। পরবর্তীতে স্টেট ব্যাঙ্ক ও তার সহযোগী ব্যাঙ্কগুলি,  ১৯৬৯ সালে প্রথমে ১৪টি ও পরে ১৯৮০ সালে আরো ৬ টি ব্যাঙ্কের রাষ্ট্রায়ত্তকরন, সারাদেশে ১৯৬ টি আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠা স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হলো যার ফলে দেশের কৃষি ও শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার হলো।

বর্তমানে দেশের অগ্রগতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়েরও ট্রাষ্টী হিসেবে তার দায়িত্ব এই ব্যাঙ্কগুলি বিশ্বস্ততার সাথে পালন করেছে। কৃষি, দুগ্ধ উৎপাদন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ যে আজ স্বনির্ভর হতে পেরেছে তাতেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর অবদান উল্লেখযোগ্য।

এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে যখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোকে আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল তখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্রাথমিক ভাবে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক করার বাহানায় এক দিশাহীন মার্জার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২৭ টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে ১২টিতে নামিয়ে আনা হলো। তখনই সংশ্লিষ্ট মহল এই আশংকাই করেছিল যে এই মার্জার প্রক্রিয়া ব্যাক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করার প্রাথমিক পদক্ষেপ। চারটি ব্যাঙ্ক চিহ্নিতও করা হয়েছিল বেসরকারিকরণ এর জন্য। অনাদায়ী খেলাপি ঋণ (যা ব্যাঙ্কশিল্পে এনপিএ নামে পরিচিত) এর ভারে ব্যাঙ্কগুলোকে দুর্বল দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করার ক্রমাগত চেষ্টা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কিন্তু এই বিশাল পরিমাণ খেলাপি ঋণের সিংহভাগ দেশের কর্পোরেট ও বৃহৎ পুঁজির মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ও ব্যাঙ্কশিল্পের সাথে যুক্ত অফিসার কর্মচারীরা ক্রমাগত দাবি তুললেও।

কোভিড ১৯ সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের মোদি সরকারের তথাকথিত "আত্মনির্ভর ভারত" প্যাকেজ ঘোষণার সুযোগ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতামালায় ঘোষণা করেছিলেন যে ব্যাঙ্কশিল্পে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারটি ব্যাঙ্ক রেখে বাকি ব্যাঙ্কগুলিকে ক্রমান্বয়ে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে। 
সেই ঘোষণা অনুসারে বিগত বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রের বেচারাম সরকারের মাননীয়া অর্থমন্ত্রী নাম না করে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বিক্রি করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। লক্ষনীয় বিষয় হলো যে সরকার কোন ব্যাঙ্কের নাম ঘোষণা করলেন না অর্থাৎ কোন ব্যাঙ্ক বিক্রি হবে সেটাও নির্লজ্জ ভাবে ক্রেতাদের হাতেই ছেড়ে রাখলেন। 
আরো বিষ্ময়কর যে বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ব্যাঙ্কগুলোর খেলাপি অনাদায়ী ঋণ কর্পোরেট ও বড় শিল্পপতিদের কাছে আদায়ের কোন ব্যবস্থা না করে সেই ঋণ এর বিশাল অঙ্ক সম্ভাব্য বিক্রয়যোগ্য ব্যাঙ্কগুলো থেকে অধিগ্রহণ করে আ্যসেট রিকনস্ট্রাকশন ব্যাঙ্ক তৈরি করে সম্পদের ভালো অংশটা ব্যাঙ্ক লুঠেরা শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চাইলেন।

এর ফলে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় একদল অসৎ শিল্পপতিদের হাতে চলে যাবেই শুধু নয় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এই বিশাল পরিমাণ সম্পদ কাজে লাগানো যাবে না। দেশের সাধারণ মানুষের বিশেষত বেকার যুবক-যুবতী ও মহিলাদের স্বনির্ভরতার সব প্রকল্পগুলি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। গ্রামাঞ্চলে ব্যাঙ্কের শাখার সংখ্যা কমবে ফলে গ্রাহক পরিষেবার মাণ কমবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস পাবে।

সারা দেশের ব্যাঙ্কগুলোর কর্মরত দশ লক্ষাধিক অফিসার ও কর্মচারীদের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস এই অবস্থায় নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তাই আগামী ১৫-১৬ মার্চ সারা দেশে দুদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট এর ডাক দেওয়া হয়েছে এবং আগামীতে ব্যাঙ্কশিল্পে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট সহ আরো তীব্রতর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do